গামছাবন্দি জ্যাকেট শাল

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ১১:৫৭ পিএম

শীত-পোশাকের বাজারে চাহিদার শীর্ষে জ্যাকেট। জ্যাকেট শীত তাড়ায়, ফ্যাশনটাও ধরে রাখে। তাই তরুণদের কাছে জ্যাকেট প্রিয় অনুষঙ্গ। প্রতি বছর জ্যাকেটে যোগ হয় নানা ধরনের নিরীক্ষা। কখনো রঙে, কখনো প্যাটার্নে আবার কখনো ফেব্রিকসে। শীতের আরেক জনপ্রিয় পোশাক শাল। প্রতি বছর নতুনত্ব নিয়ে হাজির হয় শাল। লিখেছেন মোহসীনা লাইজু

একটা সময় আমদানিনির্ভর জ্যাকেটের দখলে বাজার থাকলেও কয়েক বছর ধরে সেই চিত্র পরিবর্তন হয়েছে। দেশীয় বেশ কিছু ফ্যাশন হাউজ নিয়ে এসেছে নানা ধরনের জ্যাকেট। প্রতি সপ্তাহেই নতুন নতুন ডিজাইনের জ্যাকেট তাদের আয়োজনে যোগ হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা গেল এ বছর সামার জ্যাকেট বা হালকা ধরনের জ্যাকেটের চাহিদা বেশি। এ ছাড়া ডেনিম জ্যাকেট, লেদার জ্যাকেট, হাতাকাটা জ্যাকেটও কিনছেন কেউ কেউ।

জ্যাকেটে  রং ও চেক-বৈচিত্র্য

দেশীয় ফ্যাশন বিশ্ব রঙ-এর স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা জানালেন, ‘বাংলাদেশের শীতকালের কথা মাথায় রেখে তারা হালকা ওজনের স্টাইলিশ বাম্বার জ্যাকেট, ভেস্ট, টুপিওয়ালা জ্যাকেট এনেছেন। এই জ্যাকেটগুলোতে নানা ধরনের গ্যাবার্ডিন, ডেনিম, ফানেল, কর্ড, উল, মোটা ক্যানভাস কাপড় বা প্যারাস্যুট কাপড় ব্যবহার হয়েছে। শীত তাড়াতে জ্যাকেটের আবরণে প্যারাস্যুট কাপড় ব্যবহার হয়েছে। রঙের ক্ষেত্রে লাল, হলুদের মতো উজ্জ্বল রঙের চেক প্রাধান্য দেওয়া পেয়েছে। এমনকি সাধারণ শার্ট বা টি-শার্টের সঙ্গেও পরে নিতে পারেন এই জ্যাকেটগুলো। ডেনিম জিন্স আর একরঙা শার্টেও মানাবে। ক্যাজুয়াল আউটফিট হিসেবে চমৎকার। মূলত তরুণদের আগ্রহের কথা ভেবেই এ ধরনের জ্যাকেটের নকশা করেছি। আর দামটাও সামর্থ্যরে মধ্যেই রেখেছি।’

ফ্যাশন হাউজ ডিমান্ডের প্রধান ডিজাইনার রাসেল মাহমুদ জানান, ‘যারা ভারী ধরনের জ্যাকেট কিনতে চান তাদের জন্য রয়েছে চামড়ার জ্যাকেট। অরিজিনাল চামড়ার জ্যাকেটের পাশাপাশি পাবেন কৃত্রিম চামড়ার জ্যাকেট। দেখতে আকর্ষণীয় ও দাম কিছুটা কম হওয়ায় আর্টিফিশিয়াল বা কৃত্রিম চামড়ার জ্যাকেটগুলো তরুণদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এবারের শীতে জ্যাকেটের রঙের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল রংগুলো দেখা যাবে বেশি। আর ডিজাইন প্যাটার্নের ক্ষেত্রে স্টিচকে প্রাধান্য দিয়েছি। বাটন ও জিপার দুই ধরনেরই করেছি।’

ডেনিম জ্যাকেটের পাশাপাশি কর্ড জ্যাকেট ও গ্যাবার্ডিনের জ্যাকেট এনেছে প্লাস পয়েন্ট। ফ্যাশন হাউজটির ডিজাইনার বিপুল রহমান জানান, ‘তরুণদের কাছে সব সময়ই জ্যাকেট জনপ্রিয়। এবারের জ্যাকেটগুলো তরুণ ও মধ্যবয়স্ক, উভয়ের জন্যই বেশ মানানসই। আয়োজনে আরও আছে হাতাকাটা জ্যাকেট। হালকা শীতে ফুলহাতা কিংবা হাফহাতা এক রঙের টি-শার্টের ওপর হাতাকাটা জ্যাকেট দারুণ মানিয়ে যায়। জ্যাকেটের বাইরের পাশাপাশি ইনারকে গুরুত্ব দিয়েছি। যাতে দুভাবেই পরা যায়।’

পোশাকের দোকানগুলোতে বিভিন্ন ডিজাইনের জ্যাকেট দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ল্যাসিক লেন্থ জিপ ফ্রন্ট, বোম্ব^ার স্টাইল, মোটরবাইক, ফোর বাটন-টু বাটন, রাইডিং জ্যাকেট প্রভৃতি। এ ছাড়া স্লিভলেস জ্যাকেটও রয়েছে। হালকা শীতে এই জ্যাকেটগুলোও বেশ স্টাইলিশ। লেদার জ্যাকেটের লেন্থেও রয়েছে ভ্যারিয়েশন। লং, সেমি লং, শর্ট সব ধরনের লেন্থে লেদার জ্যাকেট পাওয়া যায়। বৈচিত্র্য আনতে লেদার জ্যাকেটে বিভিন্ন ধরনের জিপার, বাটন, পাইপিং, মেটাল, পকেট ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

প্যাচওয়ার্ক ও কারচুপির শাল

শীতের সময় উষ্ণতা পেতে জ্যাকেটের মতো শাল বা চাদরও নিত্য পরিধেয় বস্ত্র। ঘরের কাজেই হোক আর অফিস যাওয়ার সময়ই হোক, শাল প্রচলিত শীত-পোশাক। আজকাল শাল এতটাই ফ্যাশনেবল যে ক্যাজুয়াল ও ফরমাল দুই ধরনেরই পাবেন। দেশি-বিদেশি রকমারি শালের বাজার শীতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জমজমাট থাকে। ভারী শীতের জন্য যেমন শাল পরতে পারবেন, তেমনি হালকা শীতেও পরা যায়। শালের সুবিধা হলো নানাভাবে যেমন পরতে পারবেন, তেমনি গরম লাগলে সহজেই একপাশে ঝুলিয়ে রাখা যায়।

এ বছরের শীতে জনপ্রিয়তা পেয়েছে একরঙা শালের পাড়ে  ও মধ্যে প্যাচওয়ার্কের কাজ। নহরের সত্বাধিকারী ও ডিজাইনার মারজান অন্যা জানান, ‘আমি যেহেতু প্যাচওয়ার্কে শাড়ি ও ব্লাউজের নকশা করি। তাই এ বছর ভাবছিলাম প্যাচওয়ার্কের শাল করলে কেমন হয়। সেই ভাবনা থেকেই একরঙা শালে টুকরো টুকরো কাপড় জুড়ে প্যাচওয়ার্ক করেছি পাড়ে ও মধ্যখানে। প্যাচওয়ার্কে থাকে বহু রঙের সমাহার। রঙিন ও ফ্যাশন উপযোগী এসব শাল বেশ আরামদায়ক। চাইলে আটপৌরে ব্যবহারও করতে পারেন, আবার অনায়াসে যেকোনো অনুষ্ঠানে যেকোনো ধরনের পোশাকের সঙ্গে পরে যেতে পারবেন।’

স্টাইল ওমেনের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার মেহনাজ মুনির জানান, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অনেক আগে থেকেই ভেলভেটের শাল বেশ জনপ্রিয়। দুই বছর ধরে আমাদের এখানেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে ভেলভেটের শাল। সোনালি সুতার কাজ, স্যামো সিল্কের পাইপিং চমৎকার সব নকশা রয়েছে ভেলভেটের শালে। পুরো শালেই থাকছে কাজ। পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে শাল আর ওড়না দুটোই কিনতে পারেন, যাতে আবহাওয়া অনুযায়ী যেকোনো সময় ব্যবহার করা যায়। বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য উপযোগী রং ও ডিজাইনের শালও বেছে নেওয়া হচ্ছে আজকাল। গাঢ় শেডের সবুজ ও মেরুন, রয়্যাল ব্লু এসব রংও পছন্দ করতে পারেন অনেকে।’

ভেলভেটের শালে যেমন উষ্ণতা পাওয়া যায়, তেমনি দাওয়াত পার্টির পোশাকের সঙ্গে যথাযথ মানায়। ভেলভেটের শালে নানা ধরনের কাজ হচ্ছে কারচুপি, এমব্রয়ডারি বা ব্লকপ্রিন্টও হতে পারে। ভেলভেটের চকচকে শালের চারপাশে পাড়, সঙ্গে ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাজ  বা মিরর থাকলে জমকালো লাগে। শালের চারপাশে ফ্রিল ও  টার্সেল থাকতে পারে। শাড়ি, কামিজ বা জিন্স, টপ সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যায় শাল। নতুন ধরনের এই শালের রঙেও রয়েছে ব্যতিক্রম। বেগুনি, সি-গ্রিন, পিচুগোলাপি, জলপাই-সোনালি, পেস্ট, সরষে-হলুদ, হালকা ছাই রং আর সুরমা রং। জারদৌসি বা ভারী সিকোয়েন্সের কাজ করা শাল পরে অনায়াসেই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে যেতে পারেন।

দরদাম

জ্যাকেটের ডিজাইন, কাপড়ের মান ও ব্র্যান্ডভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে। প্যারাস্যুট কাপড়ের বোম্বার জ্যাকেট ২০০০ থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যে। আর্টিফিশিয়াল লেদারের জ্যাকেটের দাম পড়বে ২৫০০ থেকে ৪৫০০ টাকার মধ্যে। ডেনিম, কর্ড, ভিসকস জ্যাকেট ১০০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে। হাতাকাটা জ্যাকেট পাবেন ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকায়।  প্যাচওয়ার্কের শাল পাবেন ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায়। ভেলভেট শালের দাম নির্ভর করবে নকশার ওপর। তবে ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন।

কোথায় পাবেন

জ্যাকেট কিনতে যেতে পারেন দেশীয় ফ্যাশন হাউজ ও নন-ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকানগুলোতে। এ ছাড়া জিগাতলায় অনেকগুলো দোকান আছে, যেখান থেকে অর্ডার দিয়েও লেদার জ্যাকেট বানাতে পারবেন। প্যাচওয়ার্কের শাল নহর, খুঁত, যাত্রার মতো ফ্যাশন হাউজগুলোতে পাবেন। ভেলভেটের শাল পাবেন বিভিন্ন শপিং মলের নন-ব্যান্ডের পোশাকের দোকানগুলোতে। এ ছাড়া অনলাইন শপ আজকের ডেল, টিউনিকস, দারাজ ও বিক্রয়ডট কম থেকেও কিনতে পারবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত