করোনাভাইরাস সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দলের জেলা সমাবেশের তারিখ পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি। দলটি বলেছে, তারা সমাবেশ কর্মসূচি স্থগিত করেনি।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে তা অযৌক্তিক ও অকার্যকর। কিন্তু জনস্বার্থ ও প্রাসঙ্গিক সবকিছু বিবেচনা করে আমাদের এই সমাবেশগুলোর তারিখ পুনর্নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ পরিবর্তিত সময়ে সভা-সমাবেশ করার জন্য প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে দল ও এর অঙ্গসংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নিতে অনুমতি দেওয়ার দাবিতে দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৪০ জেলায় ৮ জানুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে সমাবেশের কর্মসূচি দেয় বিএনপি। এর মধ্যে ৮টি জেলায় সমাবেশ হয়েছে। আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে বাকি ৩২ জেলায় সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। এর আগে প্রথম ধাপে একই দাবিতে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৩ জেলায় সমাবেশ করে বিএনপি।
গত ১৩ নভেম্বর থেকে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় বৃহস্পতিবার থেকে ১১ দফা বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। তাতে উন্মুক্ত স্থানে যেকোনো সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হতে পারে, হাটবাজার, দোকানপাট, স্কুল-কলেজ সব খোলা থাকতে পারে। যেখানে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে উন্মুক্ত স্থানে সংক্রমণের ঝুঁকি কম, বদ্ধ স্থানে বেশি; সেখানে সরকার বদ্ধ স্থানে অনুমতি দেয়, উন্মুক্ত স্থানে দেয় না।’ তিনি বলেন, বিধিনিষেধের মূল উদ্দেশ্যটা হলো আমাদের আন্দোলনের যে কর্মসূচিটা চলছিল সেটাকে বন্ধ করা। সরকার প্রথমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে নানাভাবে শক্তিপ্রয়োগ করে, ১৪৪ ধারা জারি করে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
