এসি কিনতে টিকার জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে টাকা আদায়

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০২:৩০ এএম

স্কুলেই শিক্ষার্থীদের করোনা টিকা দেওয়ার জন্য এয়ার কন্ডিশনার কেনা বাবদ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পাবনার বেড়া উপজেলার অন্তত ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। টাকা না দিলে টিকা না দেওয়ারও অভিযোগ করেছে একাধিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। অনেক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় শিক্ষকরা ভয়ভীতিও দেখিয়েছেন।

গতকাল রবিবার উপজেলার ঢালারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, সরকার সারা দেশে কভিড টিকা দিচ্ছে বিনামূল্যে। কিন্তু ঢালারচর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৬০ থেকে ১০০ টাকা করে ফি নিচ্ছেন।

তবে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থেই ম্যানেজিং কমিটি ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা  করেই তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। এখন এ নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় তারা শিক্ষার্থীদের টাকা ফিরিয়ে দেবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢালারচর উচ্চ বিদ্যালয় ছাড়াও উপজেলার কাশীনাথপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ, ধোবাখোলা করোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়, নাকালিয়া-সাড়াশিয়া বণিক উচ্চ বিদ্যালয়, আমিনপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কৈ টোল উচ্চ বিদ্যালয়ে একইভাবে এসি কেনা হয়েছে।

এর মধ্যে ঢালারচর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ যুক্তি দেখিয়ে বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে প্রায় এক হাজার একশ শিক্ষার্থী রয়েছে। টিকা নিতে হলে তাদের যেতে হবে কাশিনাথপুর বা বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। তাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর খরচ হবে কমপক্ষে ৩০০ টাকা। আর যাতায়াতের ঝক্কি তো আছেই। তাই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পরামর্শ করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক বলেন, টিকা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এসি কেনা বাবদ ১ লাখ ১২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এর মধ্যে ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে এসি বসানো হয়েছে। বাকি টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করে পরিশোধ করার পরিকল্পনা আছে। 

তিনি জানান, তার স্কুলে গতকাল ৮৫৬ শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া হয়েছে। তাদের থেকে ৬০ থেকে ১০০ টাকা ‘চাঁদা’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এটা করোনার টিকার কোনো ফি না। 

বেড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খবির উদ্দিন বিষয়টি অবগত রয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ টাকা আদায়ের বিষয়টি তাকে জানিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্যই তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই টাকা টিকার ফি বাবদ নয়।’

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি শিক্ষার্থীদের সুবিধার জন্যই করেছিল স্কুল কর্র্তৃপক্ষ। তবে এটা নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ টিকা দেওয়া বাবদ কোনো প্রকার ফি নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জান্নাত। তিনি বলেন, ‘ফাইজারের কভিড টিকা এসি রুমে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ কেন টাকা নিচ্ছে তা তার জানা নেই।’

পাবনার ডিসি বিশ্বাস রাসেল হোসেন অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত