দুর্ঘটনায় অকাল বিদায় সাংবাদিক হাবীব রহমানের

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২২, ০১:১৮ এএম

দৈনিক সময়ের আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবীব রহমান (৩৪) আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। গত মঙ্গলবার রাত আড়াইটার পর রাজধানীর হাতিরঝিলের বেগুনবাড়ি এলাকার ফুটপাত থেকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন পথচারীরা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাবীব রহমান আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী বিটের সংবাদ কাভার করতেন। তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি হাবীবের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

ঘটনার রাতে মোটরসাইকেলযোগে হাবীব রহমান বাসায় ফিরছিলেন। পথে দুর্ঘটনাকবলিত নাকি হত্যার শিকার হয়ে মর্মান্তিকভাবে মারা যান, তা নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে উল্লেখ করা হলেও তার সহকর্মীরা সেটি মানতে নারাজ। তারা বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে দুর্ঘটনা নাকি হত্যা, তা খুঁজে বের করতে পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। এ ঘটনায় তার ব্যবহার করা মোটরসাইকেলটি প্রায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

হাতিরঝিল থানার এএসআই কায়েস উদ্দিন বলেন, রাত ২টা ৩৮ মিনিটে রাসেল নামের এক পথচারী ৯৯৯-এ ফোন করে দুর্ঘটনার খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত আমি ঘটনাস্থলে যাই। ততক্ষণে কে বা কারা সাংবাদিক হাবীব রহমানকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। হাতিরঝিল থানার এসআই মাসুদ খলিফাকে তার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসআই মাসুদ খলিফা এ প্রসঙ্গে বলেন, হাবীব রহমানের মৃত্যু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নাকি অন্য কোনো কারণে, তা তদন্তের পর বলা যাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ঘটনাস্থলের আশপাশে তেমন কোনো সিসি টিভির ফুটেজ পাওয়া যায়নি। সেই এলাকার ক্যামেরা নষ্ট ছিল। ফলে ওই সময় কী ঘটেছিল তা জানা যায়নি।

হাবীব রহমান কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মনরা গ্রামের মোহাম্মদ পিয়ারা মিয়ার ছেলে। হাবীব মা-বাবার বড় সন্তান এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য ছিলেন। তার স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে।

হাবীবের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন। দৈনিক সময়ের আলোর সহকর্মীরাও শোকস্তব্ধ। দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতেই ঢামেকে যান সময়ের আলোর নির্বাহী সম্পাদক হারুন উর রশীদ, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কমলেশ রায়, নগর সম্পাদক শাহনেওয়াজ করিম, প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহসহ অন্য সহকর্মীরা।

গতকাল দুপুরে হাতিরঝিল থানায় সুরতহাল প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ঢামেকের মর্গ কর্র্তৃপক্ষ তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শুরু করে। পরে দুপুর আড়াইটায় তার মরদেহ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) নেওয়া হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব কে এম শাখাওয়াত মুন ও হাসান জাহিদ তুষার, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব মু. আশরাফ সিদ্দিকী বিটু ও এ বি এম সরওয়ার-ই-আলম সরকার এবং সাবেক উপপ্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের পক্ষে তার ব্যক্তিগত সহকারী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার পর ডিআরইউর সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু ও সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম হাসিব তার মরদেহে ফুলে দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সাংবাদিক সংগঠনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ বিট পরিবার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম বিভাগ সাংবাদিক ফোরাম, রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি, কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম ও দিনাজপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। পরে মরদেহ নেওয়া হয় হাবীবের প্রিয় ক্যাস্পাস ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। সেখানে আরেক দফা জানাজা শেষে নেওয়া হয় তার কর্মস্থল দৈনিক সময়ের আলোর কার্যালয়ে। সেখানে তৃতীয় জানাজা শেষে হাবীবের মরদেহ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নেওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর হাবীব রহমান সময়ের আলোয় যোগদানের আগে দৈনিক মানবকণ্ঠ, আজকালের খবর ছাড়াও বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে কাজ করেন। দৈনিক সময়ের আলোর হয়ে সদ্য সমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন নিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন করেছিলেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত