মুক্তিপণের জন্য গভীর সাগরে ১৭ জেলেকে জিম্মির পর একজনকে সাগরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ১৫ ‘জলদস্যুকে’ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত শুক্রবার ভোর থেকে গতকাল শনিবার ভোর পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টা বঙ্গোপসাগরের গভীরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ।
গ্রেপ্তার হওয়া জলদস্যুদের মধ্যে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও কক্সবাজারের পেকুয়া-কুতুবদিয়া উপকূলীয় এলাকার কবির বাহিনীর প্রধান ও সেকেন্ড ইন কমান্ড রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। গ্রেপ্তার জলদস্যুরা হলোনুরুল আফসার, নূরুল কাদের, মো. মামুন, নুরুল কবির, আব্দুল হামিদ, হাসান, আবু বক্কর, মো. ইউসুফ, সাইফুল ইসলাম জিকু, গিয়াস উদ্দিন, সফিউল আলম মানিক, আব্দুল খালেক, রুবেল উদ্দিন, মনজুর আলম ও মো. সুলতান।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি ওয়ানশ্যুটার গান ও ৪টি কার্তুজসহ বিভিন্ন দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে নুরুল কবির জলদস্যু কবির বাহিনীর প্রধান এবং মো. মামুন তার সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে ভাষ্য র্যাবের।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, ‘আমাদের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী গত ১৪ জানুয়ারি জলদস্যু নুরুল কবির বাহিনীর ১৫ সদস্যের মধ্যে সাতজন পেকুয়ার মগনামা ঘাট এবং ৮ জন কুতুবদিয়া থেকে নৌকায় উঠে সাগরে যায়। এরপর জেলেদের নৌকাটি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। খবর পেয়ে আমরা সাগরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের চারটি পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করি। পরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডান্ডিবাজার থেকে বাহিনীপ্রধানসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করি। এরপর তাদের তথ্যানুযায়ী নোয়াখালীর চরকাউনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত ১৬ জেলেকে আমরা উদ্ধার করতে সমর্থ হই।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত এক বছরের বেশি সময় ধরে এই জলদস্যু বাহিনী কক্সবাজারের চকরিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সাগরে জেলেদের মাছ লুট এবং অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করত। তাদের বিরুদ্ধে সাগরে ফেলে দিয়ে অনেক জেলেকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। বাহিনীর প্রধান কবিরসহ গ্রেপ্তার প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।’
র্যাব কর্মকর্তারা বলেন, গত ১৪ জানুয়ারি বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ১৭ জেলেকে জিম্মি করে জলদস্যু কবির বাহিনী। তাদের আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে জলদস্যুরা। জেলেদের পরিবার তাদের দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়। কিন্তু এরপরও বাকি টাকার জন্য তাদের ওপর নির্যাতন করতে থাকে। এ সময় নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে আনোয়ার নামে এক জেলেকে গত ১৬ জানুয়ারি সাগরে ফেলে দেয় জলদুস্যুরা। এখনো তার হদিস পাওয়া যায়নি।
