সুন্দর দেশ, সমাজ ও পৃথিবী গড়তে চলচ্চিত্র অনন্য ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এ দেশের কালজয়ী চলচ্চিত্রগুলো আমাদের স্বাধিকার আন্দোলনে, স্বাধীনতা সংগ্রামে ও স্বাধীনতা-উত্তরকালে দেশ গঠনে ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে অনেক বিষয় যা সমাজ ও সমাজপতিরা ভাবে না, সেগুলোও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে উঠে আসে, সমাজকে পথ দেখায়।’
গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীতে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ২০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চলচ্চিত্র শুধু মানুষকে কাঁদায়, হাসায় বা আনন্দই দেয় না, একটি ভালো চলচ্চিত্র দেশ ও সমাজকে পথ দেখায় এবং সমাজের তৃতীয় নয়ন খুলে দেয়। আজ পৃথিবী প্রচন্ড ব্যক্তিকেন্দ্রিক, মানুষ আজ যন্ত্রের ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে নিজেও যন্ত্র হয়ে যাচ্ছে, অনুভূতি, সহানুভূতি যেন লোপ পাচ্ছে। এরই প্রেক্ষাপটে মানুষ যেন মানুষ থাকে, মানুষ যেন যন্ত্র হয়ে না যায়, সে ক্ষেত্রে চলচ্চিত্র ভূমিকা রাখতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে আমাদের চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আর বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলচ্চিত্রশিল্প যাতে ঘুরে দাঁড়ায় এবং বাংলা চলচ্চিত্র যেন বিশ্বময় জায়গা দখল করতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। তা ছাড়া, সিনেমা হল নির্মাণ, পুরনো হল চালু কিংবা আধুনিকায়নে এমনকি মার্কেটের সঙ্গে সিনেপ্লেক্স নির্মাণেও মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে ৪.৫ শতাংশ ও মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫ শতাংশ হারে ব্যাংককে লভ্যাংশ দিয়ে একজন উদ্যোক্তা ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ১ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠিত হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণে বার্ষিক অনুদানের সংখ্যা ও পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে। আশা করি ভবিষ্যতের দিনগুলো আমাদের চলচ্চিত্রশিল্পের জন্য সুদিন বয়ে আনবে।’
১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রায় ৭০টি দেশের ২২৫টি সিনেমা ঢাকায় জাতীয় জাদুঘর, গণগ্রন্থাগার, আলিয়ঁস ফ্রসেজসহ কয়েকটি স্থানে দেখানো হয়েছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার বিতরণ করেন তথ্যমন্ত্রী। ভারতের কুজহানগাল সেরা চলচ্চিত্র, ফিনল্যান্ডের দ্য আদার সাইড অব দ্য রিভার সেরা প্রামাণ্যচিত্র, ফ্রান্সের আ সামার প্লেস সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য ও নারী নির্মাতা বিভাগে ইরানের সাহারবানু সেরা ফিচার ফিল্মের পুরস্কার অর্জন করেন। দর্শক পছন্দে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছে এ দেশের চন্দ্রাবতী কথা ও লাল মোরগের ঝুঁটি। আর বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে আজব কারখানা।
মূল আয়োজক রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির বোর্ড সদস্য মফিদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, ঢাকা ক্লাবের প্রেসিডেন্ট খন্দকার মশিউজ্জামান রোমেল প্রমুখ।
