হাসপাতালেও খাবার মুখে নিচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:৫৮ এএম

মাহীন শাহরিয়ার রাতুলের অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার হয়েছে গত রবিবার রাতে। তারপরও তিনি অনশন ভাঙেননি। রাতুল বলেন, ‘মরে যাব, কিন্তু দাবি আদায় না হলে অনশন ভাঙব না।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৬ জনই এখন হাসপাতালে। তাদের স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কেউই মুখে খাবার খেতে রাজি হচ্ছেন না। এমনকি অস্ত্রোপচার করা শাহরিয়ার রাতুলও খাবার খাচ্ছেন না।

সিলেট শহরের জালালাবাদ এলাকায় রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ওই ১৬ শিক্ষার্থী। গতকাল সোমবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, কদিন আগেও তরতাজা মুখগুলো এখন শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। শরীর নিস্তেজ হয়ে গেছে, উঠে দাঁড়ানোর সাধ্য নেই কারও। তাদের শরীরে স্যালাইন পুশ করার জন্য শিরা খুঁজে পেতে চিকিৎসক-নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবুও তারা দৃঢ়চিত্ত, কিছু খাবেন না, ভিসি না সরলে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরবেন।

শিক্ষার্থীরা খাবার না খেলে তাদের অবস্থার অবনতি হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সে কারণে তারা শিক্ষার্থীদের মুখে খাবার খেতে বারবার চাপ দিচ্ছেন। পরিবার থেকেও আকুতি জানানো হচ্ছে, ‘জীবনটা বাঁচাও, কিছু খেয়ে নাও।’ অনেকের মা-বাবা কান্নাকাটি করছেন। সংশ্লিষ্ট একজন চিকিৎসক জানালেন, অনশনরত প্রত্যেকেই এখন ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়ায়’ আক্রান্ত। এর অর্থ তাদের রক্তে গ্লুকোজ, হিমোগ্লোবিন কমে গেছে। এ অবস্থা কাটাতে হলে তাদের অবশ্যই দ্রুত মুখে খাবার খাওয়া শুরু করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শাবিপ্রবির চলমান আন্দোলনকারীদের মধ্যে ২৪ জন গত ১৯ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশন করছেন। ইতিমধ্যে অনশনের ১১৫ ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়েছে। অনশনকারীদের সবাই গুরুতর অসুস্থ।

চিকিৎসাধীন জান্নাতুল নাঈম নিশাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লাশ হয়ে ফিরব, তবুও ভিসি না সরলে অনশন ভাঙব না।’ নিশাতের শারীরিক অবস্থা গুরুতর। চোখে জল টলমল করছে। শরীর একেবারে নেতিয়ে পড়েছে। কথা জড়িয়ে আসে। এরপরও দৃঢ়চেতা তিনি। তার পাশে থাকা কয়েকজন সহপাঠীকে দেখিয়ে নিশাত বলেন, ‘এরা আমার ভাইবোন, উপাচার্য পুলিশ দিয়ে এদের গুলি করে মারতে চেয়েছিলেন। যে উপাচার্য আমাদের ওপর গুলি চালাতে পারেন, সেই উপাচার্যকে আমি জীবন থাকতে আর মেনে নেব না।’

নিশাতের পাশের শয্যায় আরেক শিক্ষার্থী। তারও শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে। চিকিৎসক কথা বলতেও বারণ করেছেন। এরপরও তার প্রতিবাদী উচ্চারণ কেউ দমাতে পারছে না। ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘উপাচার্য মিডিয়ায় বলছেন, আমরা নাকি তার সন্তানের মতো, তাহলে প্রশ্ন হলো কোনো পিতা কি তার সন্তানের বুকে গুলি চালাতে পারে? কিন্তু তিনি তাই করেছেন। আর এখন মনে হয়, আমাদের লাশের অপেক্ষা করছেন। যাতে আমরা অনশন করে লাশ হই সেটা তিনি দেখতে চান।’

অনশনের কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি শাহরিয়ার বলেন, ‘শরীর যতই ভেঙে পড়ুক, দাবি আদায় না হলে অনশন ভাঙব না, প্রয়োজনে মরব, তবুও ভিসিকে থাকতে দেব না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত