একই দিনে অর্থাৎ ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ছোট ও বড় পর্দার শিল্পীদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। করোনা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন দুটি হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও সব কিছু উপেক্ষা করে নির্বাচনী প্রচারণা চলছে পুরোদমে। তবে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ডামাডোলে চাপা পড়ে আছে ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সং২েঘর আসন্ন নির্বাচন। তারপরও ছোট পর্দার শিল্পী সংঘের প্রার্থীরা যার যার অবস্থান থেকে ভোটারদের দ্বারপ্রান্তে যাচ্ছেন। জয়ী হলে কী কী কাজ করবেন শিল্পীদের কল্যাণে সে কথাও জানাচ্ছেন। এবার সভাপতি পদে শাহাদাৎ হোসেন নিপুর বিপরীতে নির্বাচন করছেন অভিনেতা আহসান হাবিব নাসিম। তিনি বলেন, ‘অভিনয়শিল্পী সংঘের শুরু থেকেই আমি শিল্পীদের পাশে আছি। পরপর দু’বার এই সংঘের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি নিষ্ঠার সঙ্গে আমার দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি। শিল্পীদের নানান সমস্যায় নিজের কাজকে পাশে রেখে শিল্পীর সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে তা সমাধানের চেষ্টা করেছি। গত দুই সেশনে অনেক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিটি শিল্পী আমার পরিবারের সদস্যের মতো হয়ে গেছেন। তারা সবাই আমাকে অনেক ভালোবাসেন, কাছের মনে করেন। সবার ভালোবাসায় আমি আশাবাদী তারা আমার ওপর আস্থা রাখবেন।’ বিজয়ী হলে কী কাজ করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দায়িত্বেই দায়িত্বশীলতা তৈরি হয়। বিগত কমিটির চেষ্টায় শিল্পীরা একই প্ল্যাটফর্মে আসার সুযোগ পেয়েছে। আগামীতে এই প্ল্যাটফর্মকে আরও শক্তিশালী করতে চাই। শিল্পীরা যাতে তাদের সব মতামত ব্যক্ত করতে পারেন। তাদের সমস্যা সমাধান ও আস্থার জায়গা তৈরি করতে হবে। তবে প্রথম কাজ হবে কর্মপরিবেশ তৈরি করা। কারণ শিল্পীরা নানা সমস্যায় ভোগেন। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’
সহ সভাপতি পদপ্রার্থী অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ বলেন, ‘‘এই সংগঠনের পরপর দুইবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি। বরাবরই শিল্পী সংঘের নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে হয়। আমাদের নির্বাচন প্যানেলভিত্তিক হয় না, তাই দলাদলিও নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শিল্পীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা বজায় রেখে এক আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের দিনটা সবার অংশগ্রহণে এক উৎসবে পরিণত হয়। এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আমাদের নির্বাচনী স্লোগান হচ্ছে ‘জিতবে ২১, হারবে না কেউ’। এই স্লোগান জানান দিচ্ছে আমরা সবাই সবার।’’
এবারই প্রথম নির্বাচন করছেন (অর্থ সম্পাদক পদে) অভিনেতা সায়েম সামাদ। তিনি বলেন, ‘শিল্পীরা আমাদের পরিবারের অংশ। তাদের ভালো-মন্দ সবাই মিলে দেখাশোনা করার জন্যই আমাদের সংঘ। তবে সেই কাজ সহজ হয়ে যায় একটি সংগঠনের আওতায় এলে। শিল্পীদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার জন্য তাই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।’
এদিকে, গতবারের নির্বাচিত সভাপতি শহীদুজ্জামান সেলিম এবার নির্বাচন করতে চাইলেও পরে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে মনে হয়েছে এবার খুবই নোংরা রাজনীতি হচ্ছে। যে সংগঠনের সদস্য ফেরদৌসী মজুমদার, আসাদুজ্জামান নূর, সুবর্ণা মুস্তাফার মতো শিল্পীরা, সেই সংগঠনে যারা নির্বাচন করছেন তাদের যোগ্য মনে হয়নি আমার।’
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন। কাউকে কি সমর্থন করবেন না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো মানে সব কিছু থেকে সরে দাঁড়ানো। আমি এবারের নির্বাচনের কোনো কিছুর মধ্যে নেই। না প্রচার-প্রচারণা, না কারও সমর্থন সব কিছু থেকে দূরে থাকতে চাই। আমি ভোটই দেব না। তবে হ্যাঁ, দুই-একজনের ক্ষেত্রে দোয়া থাকবে।’
এবারের নির্বাচনে ২১টি পদে লড়াই করছেন ৪৮ জন প্রার্থী। এরমধ্যে সভাপতি পদে লড়াই করছেন আহসান হাবীব নাসিম ও ড. শাহাদাৎ হোসেন (নিপু)। সহ-সভাপতি পদের তিনটি পদের জন্য লড়াই করছেন ৫ জন, আনিসুর রহমান মিলন, ইকবাল বাবু, তানিয়া আহমেদ, দিলু মজুমদার ও সেলিম মাহবুব। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন রওনক হাসান ও কবীর টুটুল। দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন নাজনীন হাসান চুমকী, শামীমা তুষ্টি ও জামিল হোসেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে লড়ছেন সাজু খাদেম, তুষার মাহমুদ ও জুলফিকার চঞ্চল। অর্থ সম্পাদক পদে সায়েম সামাদ ও মুহাম্মদ নূর এ আলম। দপ্তর সম্পাদক পদে মামুন অর রশিদ ও শেখ মেরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সম্পাদক পদে মাহাবুবুর রহমান মোল্লা ও রাশেদ মামুনুর রহমান অপু। আইন ও কল্যাণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর ও রওনক বিশাকা শ্যামলী। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে প্রাণ রায় ও মুকুল সিরাজ। তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে লড়াই করছেন তিন জন আবুল কালাম আজাদ, মাহাদী হাসান পিয়াল ও সুজাত শিমুল। এছাড়া সাতটি কার্যনির্বাহী পদের জন্য নির্বাচন করছেন আরও ২০ জন প্রার্থী। প্রধান নির্বাচন কমিশনার খায়রুল আলম সবুজ জানান, ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ভোট গ্রহণ চলবে। এবার ভোটার সংখ্যা ৭৪৮ জন।
