আওয়ামী লীগ ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বিরোধীপক্ষ বিদেশে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেঘন ঘনই এমন বক্তব্য আসছে ক্ষমতাসীন দলটির কাছ থেকে। আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। কারণ তারা মনে করছেন, আগামী নির্বাচনে এই অপপ্রচারই বেশি ভোগাতে পারে। এর বেশিরভাগই ছড়ানো হবে বিদেশ থেকে।
ক্ষমতাসীন দলের নেতারা দাবি করেন, সরকারের ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করার লক্ষ্যে লবিস্ট নিয়োগ করেছে বিএনপি-জামায়াত। বিএনপির নেতা তারেক রহমানসহ বিদেশে থাকায় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সরকার ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করার নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। এর সঙ্গে সুশীল সমাজের কেউ কেউ জড়িয়েছেন বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
আওয়ামী লীগের ওই নেতাদের দাবি, বিএনপি-জামায়াতের অন্যতম লক্ষ্য সরকারের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা প্রশ্নবিদ্ধ করা। জনপ্রিয় ও সফল আওয়ামী লীগ নেতাদের চরিত্র হনন করা। ২০১৪-১৮ সালের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করে বিদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা। বিশেষ এই মিশনে বিএনপি-জামায়াত জোট মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছে।
গত বুধবার পরপরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সংসদে বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে যুক্তরাষ্ট্রে আটটি লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে। বিবৃতিতে তিনি র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি জানান।
আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি নেতা তারেক রহমানের অন্যতম লক্ষ্য হলো বিদেশে বসে সরকার ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো। যাতে দেশে অস্থিরতা লেগেই থাকে। সাধারণ মানুষের ভেতরে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করা। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও বিদেশে বসবাসকারী আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থক সবাইকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় সব মিটিংয়েই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবেএমন সতর্কবার্তা দিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি গত এক যুগে দেশে যেসব উন্নয়ন হয়েছে এবং মানুষ যেসব সুফল পেয়েছে এগুলোকে বেশি করে প্রচারে এনে অপপ্রচার রোধ ও মোকাবিলা করার বিষয়ে জোর দিচ্ছেন তিনি।
অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ব্যাপকভাবে উন্নয়নের প্রচার সম্ভব হলে আগামী নির্বাচনে অনেক কিছুই সহজ হয়ে উঠবে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা।
দলের সভাপতিম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশের কিছু মানুষের ওপর সরকার নজর বাড়িয়েছে। সবসময়ই তাদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে সুশীল সমাজের কিছু ব্যক্তিও রয়েছেন। বড় ব্যবসায়ী, নামিদামি ব্যক্তিরা দেশের বাইরে কোথায় যান, কী করেন এসবও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের ওই নেতা আরও বলেন, সন্দেহজনক মতিগতি দেখলেই সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক সতর্ক করার নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। তিনি বলেন, সন্দেহজনক কয়েক নেতা, সাবেক আমলা ও বড় ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত সম্পদ, আয়-ব্যয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আর যারা দেশের বাইরে ইতিমধ্যে গিয়ে বসবাস শুরু করেছেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজন কারা কী করছেন সেই খোঁজখবরও নিয়ে রাখা হচ্ছে। এগুলোর সবই অপপ্রচার রোধ করার পূর্বপ্রস্তুতি।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য আছে বিএনপির নেতা তারেক রহমান বিদেশে বসে নতুন ষড়যন্ত্রের ছক তৈরি করেছেন। বিদেশিদের কাছে ধন্য নিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। আওয়ামী লীগ ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চক্রান্ত করছেন। তারা লবিস্ট নিয়োগ করেছে। বিএনপির অপরাজনীতির যে এজেন্ডা তা তারা বাস্তবায়ন করতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘লবিস্ট নিয়োগ করার যে ব্যয় তা কীভাবে নির্বাহ করে তারা এগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, লবিস্ট নিয়োগ করে আওয়ামী লীগ ও সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার করে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। ২০১২ সাল থেকে বিএনপি-জামায়াত সরকার ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেছে লবিস্ট নিয়োগ করে। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের জন্য কোনো দল লবিস্ট নিয়োগ করতে পারে, এটা মেনে নেওয়ার মতো। কিন্তু দেশের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে দেশের অর্থ বিনিয়োগ করে লবিস্ট নিয়োগ করা ও অপপ্রচার করা একটি অপরাধ। আবার সেই অর্থ যদি অবৈধ আয় ও অবৈধ পথে বিনিয়োগ করা হয় সেটা বড় অন্যায়।’
চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, “অপপ্রচারের কারখানা বিলাতে অবস্থিত বিগড়ে যাওয়া ‘শাহজাদা’র কাশিমবাজার কুঠি। সেখান থেকে উৎপাদিত, প্রচারিত, নিয়ন্ত্রিত অপপ্রচার কেবল দল বা সরকারের বিরুদ্ধে নয়। তারা দেশের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করছে। তারা বাংলার জনগণের নিকট ধর্ণা না ধরে সাদা চামড়াওয়ালাদের প্রভু ও সর্বময় ক্ষমতার উৎস মেনে তাদের পদলেহন করে ও অপপ্রচার চালিয়ে অনুকম্পা ভিক্ষা করছেন।’
