দেড় বছরেও চালু হয়নি ব্যাংক এমএফএস আন্তঃলেনদেন

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৩৮ পিএম

পাইলট টেস্টিং সম্পন্নকারী ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে ইন্টার-অপারেবল ডিজিটাল ট্রানজেকশন প্ল্যাটফর্ম (আইডিটিপি) চালুর প্রথম চেষ্টাটি আটকে যায় ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর। এরপর প্রায় দেড় বছরেও আইসিটি বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ এই উদ্যোগটি আলোর মুখ দেখেনি।

ডিজিটাল লেনদেনের জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী এই প্ল্যাটফর্মটি চালুর বিষয়ে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। গতকাল বুধবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের বিষয়ে পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মেজবাউল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইডিটিপি নিয়ে আইসিটি বিভাগের সঙ্গে নিয়মিতভাবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগেও প্রতিমন্ত্রী দুই দফা এই বৈঠকে অংশ নেন। তবে আইডিটিপি চালুর তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’

এই তারিখ চূড়ান্ত হলে বিস্তারিত জানানো হবে উল্লেখ করে মেজবাউল হক বলেন, ‘এখনো আইডিটিপির একটি অংশের কাজ বাকি আছে। অন্য অংশের কাজ শেষ হয়েছে।’

জানা গেছে, আইডিটিপি চালু হলে ব্যাংক থেকে মোবাইল ব্যাংকিং হিসেবে বা মোবাইল ব্যাংকিং থেকে যেকোনো ব্যাংকের হিসাবে টাকা পাঠানোর মতো আন্তঃলেনদেন সহজ হবে। এক ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থেকে অন্য ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবেও লেনদেন করা যাবে।

এই সেবার মাধ্যমে আন্তঃলেনদেনের খরচ ও অন্যান্য বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সার্কুলারও জারি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে বলা হয়েছিল, ব্যাংক থেকে মোবাইল ব্যাংকে বা মোবাইল ব্যাংক থেকে ব্যাংকে টাকা পাঠাতে খরচ হবে হাজারে সাড়ে চার টাকা। এক মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব থেকে অন্য অপারেটরের হিসাবে টাকা পাঠাতে খরচ হবে হাজারে আট টাকা।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো গ্রাহক যদি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের বিকাশের গ্রাহককে টাকা পাঠায়, তাহলে মোট লেনদেনের ওপর বিকাশ প্রতি হাজারে আট টাকা করে রকেটকে ফি দেবে।

২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত যেসব ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান আন্তঃলেনদেন প্রক্রিয়া পরীক্ষামূলকভাবে শেষ করেছে তারাই এই সেবা চালু করতে পারবে বলে জানানো হয়েছিল। অন্যান্য ব্যাংক ও এমএফএসগুলোকে ২০২১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। তবে এরপর প্রায় আরও এক বছর পার হলেও সেবাটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত