নদী উদ্ধারে কী লাগবে জানাবেন ডিসিরা

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:১১ এএম

আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দখলদারদের হাত থেকে নদী উদ্ধারে জেলা পর্যায়ে কী ধরনের যন্ত্রপাতি লাগবে এবং এজন্য কত টাকার প্রয়োজন হবে সেই তথ্য জেলা প্রশাকদের (ডিসি) কাছ থেকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে সংগ্রহ করতে বলেছে এ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান কমিটিকে জানিয়েছেন, করোনায় চট্টগ্রাম বন্দরের ৫৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মারা গেছেন। তা সত্ত্বেও বন্দর একমুহূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি। এভাবে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এ বন্দর বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। ২০২১ সালে এ বন্দর রেকর্ড পরিমাণ ৩ দশমিক ২১ মিলিয়ন টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল করেছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগর বলেন, ‘অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে নদী উদ্ধার করতে যে ধরনের যন্ত্রপাতি লাগবে তার সবকিছু সংগ্রহ করার জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে মাঠপর্যায় থেকে তথ্য নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা জানান, অনেকে নদীতীরের জমির বড় অংশ দখল করে আছে। সেগুলো অপসারণ করতে যে যন্ত্রপাতি লাগে তার সবকিছু সব জায়গায় নেই। সেগুলো না থাকায় উচ্ছেদ কাজে দেরি হয়। সেজন্য কমিটি মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করার কথা বলেছে। গত বছর নভেম্বরে নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে জানান, জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন সব জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দেশের নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা করেছে। এতে সারা দেশে ৬৫ হাজার ১২৭ জন অবৈধ নদী দখলদার রয়েছে। এজন্য সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে প্রায় ১৯ হাজার ৮৭৪ জন অবৈধ নদী দখলদারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকালের বৈঠকে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে নদীর দখলদার উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ক্রয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসিদের মন্ত্রণালয়ে বাজেট উপস্থাপন করার সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের অনেক উন্নয়ন হলেও তা বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সমন্বিতভাবে করা হয়নি। ফলে বিদেশি বন্দরের মতো চট্টগ্রাম বন্দর অতটা আকর্ষণীয় নয়। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরকে পরিকল্পিতভাবে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক এবং দর্শনীয় বন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান এম শাহজাহান করোনার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাওয়ায় বন্দরের সবস্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ১৩৪ বছরের পুরনো এই চট্টগ্রাম বন্দর। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এবং প্রয়োজনীয়তার নিরিখে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা কালক্রমে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে। ফলে বন্দরটিকে পরিকল্পনা মাফিক গুছিয়ে দর্শনীয়ভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। যেহেতু এটি একটি ব্রাউনফিল্ড বন্দর তাই এটিকে পরিকল্পনামাফিক গোছানো দুরূহ ব্যাপার। তারপরও বন্দরটিকে যতটুকু সম্ভব ‘রিমডেলিংয়ের’ মাধ্যমে সুন্দরভাবে গুছিয়ে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ও দর্শনীয় বন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের গ্রিন ফিল্ড প্রজেক্ট বে-টার্মিনাল এলাকায় পরিকল্পিতভাবে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক ও আকর্ষণীয় বন্দর সুবিধাদি নির্মাণ করা হবে।

এরপর চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের চিফ অব প্ল্যানিং মো. মাহবুব মোরশেদ চৌধুরী চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের বর্তমান সমস্যা ও সমাধান, রাজস্ব আয়-ব্যয়, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক বন্দরে উন্নীত করার জন্য করণীয় বিষয়গুলো পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, একটি আদর্শ বন্দরে প্রায় ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি থাকা সুবিধাজনক। চট্টগ্রাম বন্দরে এ অতিরিক্ত যন্ত্রপাতির ঘাটতি আছে। চলমান একটি প্রকল্পের আওতায় ১০৪টি বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওই প্রকল্প সমাপ্ত হলে বর্তমান সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা যায়।

তিনি আরও বলেন, কাস্টমসের অকশন প্রক্রিয়া জটিল ও ধীরগতির হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৭০০০ টিইইউ অকশন কনটেইনার দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। এ বিষয়ে কাস্টমসকে বারবার চিঠি দেওয়া এবং বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ করেও কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। পরে কমিটির সভাপতি বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করার পরামর্শ দেন।

মাহবুব মোরশেদ চৌধুরী বলেন, বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় পুরাতন কাস্টমস অকশন গোলাটির বদলে নতুন করে একটি কাস্টমস অকশন গোলা নির্মাণ করে চট্টগ্রাম বন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করেছে। কিন্তু এখনো পুরাতন কাস্টমস অকশন গোলাটি স্থানান্তর করা হয়নি। পুরাতন অকশন গোলাটির স্থানান্তরের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে। কিন্তু কাস্টমস কর্র্তৃপক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখনো কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মো. মজাহারুল হক প্রধান, রণজিত কুমার রায়, সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, মো. আছলাম হোসেন সওদাগর ও এসএম শাহজাদা অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত