চিকিৎসা ক্ষেত্রে ঢাকার ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে স্বাস্থ্যসেবাকে সারা দেশে ডিসেন্ট্রালাইজড বা বিকেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ঢাকার হাসপাতালগুলোতে যে মানের চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়, সেই একই মানের চিকিৎসাসেবা যাতে দেশের আটটি বিভাগেই পাওয়া যায় সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করছে সরকার।
গতকাল রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে দেশের আটটি বিভাগে উন্নত ও আধুনিক মানের ১৫-তলার ক্যানসার, কিডনি, লিভারের মতো অতি ক্ষতিকর রোগগুলোর চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে আটটি হাসপাতাল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে। এগুলোর কাজ শেষ হলে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শয্যা বৃদ্ধি হবে শুধু ক্যানসার চিকিৎসার জন্যই।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের আনাচে-কানাচে প্রায় ১৮ হাজারের মতো কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৩২ ধরনের ওষুধ বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে। এতে শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষজন উপকৃত হচ্ছে। এভাবে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের জন্য উন্নতমানের যন্ত্রপাতি কিনে, প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে, দেশের মফস্বল হাসপাতালে ভালো চিকিৎসক পদায়ন করে সর্বত্র ঢাকার মতো সমপর্যায়ের চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।’
ক্যানসার রোগের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে এখন প্রায় ২০ লাখ ক্যানসার রোগী আছে। প্রতি বছর দেশে এক থেকে দেড় লাখ মানুষ ক্যানসারে মারা যাচ্ছে। সে হিসাবে দৈনিক ক্যানসারে ২০০ থেকে ৪০০ মানুষ মারা যাচ্ছে; যা খুবই উদ্বেগজনক। সময়মতো ক্যানসার রোগটি ধরা গেলে রোগটি নিরাময় করা যায়। কিন্তু দেরি করে ধরা পড়লে রোগীকে বাঁচানো অনেক কঠিন হয়ে যায়।’
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্যানসার চিকিৎসার গুরুত্ব অনুধাবন করে হাসপাতালটি মাত্র ৫০ শয্যা থেকে প্রথমে ৩০০ শয্যা ও পরে ৫০০ শয্যায় উত্তীর্ণ করা হয়েছে। এখন ৮ বিভাগে ৮ ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণ করে আরও ১ হাজার ৪০০ শয্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এ ছাড়া ৮ বিভাগে আরও ৮টি বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট করা হচ্ছে।’
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. স্বপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিয়া, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মু. সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।
