শেষ হলো বাপা-বেন সম্মেলন

জ্বালানি নীতিকে গণমুখী ও পরিবেশবান্ধব করায় গুরুত্ব

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৩৯ এএম

দেশের জ্বালানি নীতিকে গণমুখী ও পরিবেশবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্ট নেটওয়ার্ক (বেন) সম্মেলন। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিকল্পনায় ১২ দফা ঘোষণা দেওয়া হয়। সম্মেলনে জ্বালানির বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন ও স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা হয়।

গতকাল শনিবার বাপা ও বেনসহ ৪০টি পরিবেশবাদী সংগঠনের আয়োজনে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ‘জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন’ শীর্ষক এ সম্মেলন শেষ হয়। দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনে ৬০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।

সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যকে প্রাধান্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এনার্জি সেক্টরেও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই উন্নয়ন নীতির বাস্তবায়ন করা দরকার। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চাহিদার বিষয়কে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে যাতে তা যথাযথভাবে গ্রহীতার কাছে পৌঁছায়। আমাদের দেশ প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর ভাসছে। কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং জ্বালানির ক্ষেত্রে আমাদের আর্থ-রাজনৈতিক সমস্যাগুলোকে মাথায় রেখে এগোতে হবে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘উন্নয়নের আগে বিবেচনা করতে হবে পরিবেশকে যাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো তৈরি হচ্ছে করপোরেট স্বার্থকে সামনে রেখে, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষ ও পরিবেশের ওপর।’ টেকসই উন্নয়নের জন্য জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করার দাবি জানান তিনি।

গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার মোস্তফা বলেন, ‘১৪৮টি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র আমরা বসিয়ে রেখেছি আমাদের ভুল নীতি ও দুর্নীতির কারণে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে খরচ হয় ২০-২৫ হাজার কোটি টাকা।’

সম্মেলনে দুদিনের বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশমালা তুলে ধরেন বেনের প্রতিষ্ঠাতা ড. নজরুল ইসলাম এবং বাপার এম এস সিদ্দিকী। এ সময় সম্মেলনের খসড়া প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল।

সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনকে ঘিরে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত