ঢাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৯২ শতাংশের শরীরেই করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন পাওয়া গেছে। বাকি ৮ শতাংশের শরীরে মিলেছে ডেল্টা ধরন। গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা শহর থেকে ২৪ জন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। জিনোম সিকোয়েন্স করে এর মধ্যে ৯২ শতাংশ নমুনায় ওমিক্রন ও ৮ শতাংশ নমুনায় ডেল্টার ধরন পাওয়া গেছে। এতে ওমিক্রনের দুটি উপধারা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই বিএ২, বাকি ১৪ শতাংশ বিএ১ ধরন। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ঢাকায় করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের অতি বিস্তার ডেল্টা ধরনের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে বলে জানানো হয় এ প্রতিবেদনে।
এদিকে জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জার (জিআইএসএআইডি) ওয়েবসাইটে বাংলাদেশে গতকাল পর্যন্ত ২৪২ জনের শরীরে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন পাওয়ার তথ্য রয়েছে। জিআইএসএআইডি-ই প্রথম দেশে ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীর তথ্য দিয়েছিল।
এদিকে গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে দেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ১৯ লাখ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ২৩ জন। এ নিয়ে দেশে সরকারি হিসাবে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮২৬ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত এক দিনে মারা গেছে আরও ২০ জন। তাদের নিয়ে এ ভাইরাসে মারা গেছে ২৮ হাজার ৭৯১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ হাজার ৪৪৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। আর এ পর্যন্ত করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ৬২ হাজার ৫২৪টি। এতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছে ১৩ জন। এছাড়া রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে ২ জন করে এবং বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে মারা গেছে। তাদের মধ্যে ১২ জন সরকারি হাসপাতালে আর ৮ জন বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ৮ জন নারী। এ নিয়ে দেশে করোনায় ১৮ হাজার ৩৮২ জন পুরুষ ও ১০ হাজার ৪০৯ জন নারী মারা গেছে।
