শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাস শেষে খুলে দিতে পারব : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৩:১২ এএম

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেন খুলে দিতে পারি সেজন্য টিকা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। আমরা আশা করি এ মাসের শেষ দিকে অবস্থার পরিবর্তন হবে। তখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে পারব।

গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এইচএসসির ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আমাদের শিক্ষার্থীরা। আমরা অনলাইনে বা টেলিভিশনে ক্লাসের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু তারপরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া, সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকা হয়নি শিক্ষার্থীদের।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব আমাদের দোরগোড়ায়। আমাদের ছেলেমেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী। তাদের যদি আমরা উপযুক্ত শিক্ষা দিতে পারি, তা হলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পরিপ্রেক্ষিতে দেশ এবং বিশ্বব্যাপী যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে; তা তারা নিতে পারবে। তাদের সেভাবেই প্রশিক্ষণ দিতে হবে। গতানুগতিক ডিগ্রি নিলেই হবে না। কর্মসংস্থানের উপযুক্ত শিক্ষাই গ্রহণ করতে হবে, সেই শিক্ষাই আমাদের দিতে হবে।’

এ সময় কভিড-১৯-এর এই কঠিন পরিস্থিতিতেও সময়মতো পরীক্ষা আয়োজন ও ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আজকের শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। শিক্ষার্থীদের জাতি গঠনে অবদান রাখতে হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে হবেএটা মনে রেখেই তারা শিক্ষালাভ করবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘যারা অকৃতকার্য হয়েছে, অস্বাভাবিক পরিবেশের মাঝে পরীক্ষা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের কোনো দোষ নেই। তাই অভিভাবকদের বলব যাতে শিক্ষার্থীদের সুযোগ করে দেয়। তাদের সাপোর্ট দিয়ে এগিয়ে নেবেন। আগামী দিনে আমাদের শিশুরা আরও ভালো করে পড়াশোনা করবে এবং কৃতকার্য হবে সেই আশা আমি পোষণ করি।’

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার অতিমারীর কারণে পুরো বিশ্বেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সবার কাছে আমার একটা অনুরোধ, এই সময়ে সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। বিশেষ করে মাস্ক পরিধান করতে হবে। যাতে কেউ সংক্রমিত না হয় সেদিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে।’

রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মূল অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিটি বিভাগে মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে প্রধানমন্ত্রী : দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বেকারত্ব দূর করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গতকাল বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৫৬তম ব্যাচের ক্যাডেটদের ‘মুজিববর্ষ গ্র্যাজুয়েশন প্যারেড’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে চট্টগ্রামে মেরিন একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে আরও চারটিবরিশাল, সিলেট, পাবনা ও রংপুরে মেরিন একাডেমির কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আমার ইচ্ছে আছে, প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেরিন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করার। যেখানে শুধু প্রশিক্ষণই হবে না, শিক্ষার্থীদের দেশ-বিদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। বেকার সমস্যা দূর হবে।’

এ সময় কর্মক্ষেত্রে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে দেশের মুখ বিশ্বের বুকে উজ্জ্বল করতে মেরিন প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সামুদ্রিক জাহাজ চালানো কোনো সাধারণ পেশা নয়। বিশ্ববাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ সমুদ্রপথেই হয়ে থাকে। ফলে এটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। তাই বিশ্ববাণিজ্য গতিশীল রাখতে ক্যাডেটদের ভূমিকা অপরিসীম।’

মেরিন ক্যাডেট পেশায় আত্মনিয়োগ করলে সমাজের প্রতি দায়িত্ব তৈরি হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, হাইটেক সমুদ্র জাহাজ পরিচালনার উপযোগী পেশাদার ক্যাডেট গঠনে মেরিন একাডেমি যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। এক্ষেত্রে কারিকুলামও উন্নত করার পরামর্শ দেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত