সরকারবিরোধীদের নিয়ে ঐক্য গড়ে তোলা হবে : নজরুল

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:১৫ এএম

যারা সরকারের সুবিধাভোগী হবে না, তাদের নিয়ে বিএনপি ঐক্য গড়ে তুলবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র নেই। জনগণের ভোটাধিকার, মানবাধিকারসহ সংবিধান স্বীকৃত কোনো অধিকার নেই। তাই বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ জনগণের সব অধিকার ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ আন্দোলনে সফলতা পেতে যারা সরকারের সুবিধাভোগী হয়ে কিছু ব্যক্তিগত লাভের জন্য চিন্তা করে না তাদের নিয়ে সরকারবিরোধী ঐক্য গড়ে তোলা হবে।’ গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের যৌথ উদ্যোগে ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘১৯৮৩ সালের এই দিনে স্বৈরাচার এরশাদ

প্রতিরোধ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। সে আন্দোলনে সফলতা এসেছিল। আমরা বিশ^াস করি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য হলে আমরা সবাই মিলে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারব। বিগত দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা সফলতা পেয়েছি। এবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আমরা ঐক্য গড়ে তুলব। এই ঐক্যে তারাই আমাদের সাথী হবে যারা গণতন্ত্র চায়, যারা গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা চায়। তবে যারা সরকারের সুবিধাভোগী হয়ে কিছু ব্যক্তিগত লাভের জন্য চিন্তা করে নাÑ এমন রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ঐক্য হবে। তাদের সবাইকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে লড়াই করব।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আমরা সেই বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে জনগণের উন্নয়ন, কতিপয় ব্যক্তির নয়, কতিপয় গোষ্ঠীর নয়। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই যেখানে মানুষের কথা বলার অধিকার থাকবে, যেখানে মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থাকবে, মানুষের নির্বিঘেœ ভোট দেওয়ার অধিকার থাকবেÑ সেই বাংলাদেশ আমরা ফেরত চাই। সেই বাংলাদেশ ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন-নিবেদন করলে হবে না, লড়াই করতে হবে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনে আমাদের এ দেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা সেটা বাস্তবায়ন করব।’ 

১৯৮২ সালে তৎকালীন স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদ সরকার একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছিল। ড. মজিদ খানের নেতৃত্বে যে শিক্ষানীতি প্রণীত হয়েছিল সে শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্মারকলিপি  দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করে। সে প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ গুলি চালায় এবং জয়নাল, জাফর, কাঞ্চন, দিপালী সাহা, মোজাম্মেল, আইয়ুবসহ অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী নিহত হন। তখন থেকে এ দিনটিকে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করছে বিএনপি।

শেখ হাসিনার ক্ষমতা আর বেশিদিন নেই-আমান : সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন, ‘সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করলে সার্চ কমিটি, নির্বাচন কমিশন (ইসি) থাকবে না, এক ধাক্কায় অন্য কোথাও চলে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতা আর বেশিদিন নেই।’

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ইসি কার কথা শুনবে? এই নাটক বন্ধ করে বিদায় নিন। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করুন। অল্প কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনাকে নিষেধাজ্ঞা দেবে ইনশাল্লাহ। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মাটিতে ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।’

শিক্ষা অধিকার চত্বরে শ্রদ্ধা নিবেদন : আলোচনা সভার আগে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হাইকোর্ট গেট সংলগ্ন শিক্ষা অধিকার চত্বরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় আমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ’৯০-এর ছাত্র আন্দোলনের নেতা জাগপা সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমান প্রমুখ।

পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সহ-সভাপতি মামুন খান, মাজেদুল ইসলাম রুমন, মাহমুদুল হাসান বাপ্পী, মোক্তাদির হোসেন তরু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, যুগ্ম সম্পাদক মইন উদ্দিন রাজু, তানজিল হাসান, মাহমুদ সর্দার, নিজাম উদ্দিন রিপন, করিম প্রধান রনি, সহ-সাধারণ সম্পাদক কে এম সাখাওয়াত হোসেন, আক্তার হোসেন, জামিল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত