ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনটি ভোটকেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনা আবারও স্থগিত করা হয়েছে। নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন আয়নালের এক লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই পুনঃগণনা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) গতকাল বুধবার তিনটি কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনার উদ্যোগ নিয়েছিল। আনোয়ার হোসেন আয়নালের অভিযোগ ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন নির্বাচন কমিশনের কয়েকজন ‘অসাধু’ কর্মকর্তাকে হাত করে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে নিজের পক্ষে ফল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
গত বছরের ২৮ নভেম্বর ওই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটের দিন লংকারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফলাফল শিটে ‘অসঙ্গতি’ থাকায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ফল প্রকাশ স্থগিত করেছিল ইসি। একই সঙ্গে ঢাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বিষয়টির তদন্ত করে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছিল ইসি। তবে কর্মকর্তার আবেদনে সময় বাড়ানো হয়। এর মধ্যে প্রার্থী ও রিটার্নিং অফিসারদের মতামতে লংকারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে হাইকোর্ট এক প্রার্থীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ভোট পুনঃগণনায় তিন মাসে স্থগিতাদের দেয়। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ছিল তার শুনানির দিন। কিন্তু গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসি লংকারচরসহ তিনটি কেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনা করে ফল পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তবে গতকাল সেই ভোট পুনঃগণনার উদ্যোগ নেয় ইসি।
আনোয়ার বলেন, ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেন। যার কোনো আদেশ না পেয়েই কেবল একটি উকিল নোটিসের ভিত্তিতে তিনটি ভোটকেন্দ্রের ভোট পুনঃগণনার আদেশ দেয় ইসি। আয়নালের দাবি, কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন চেষ্টা করা হচ্ছে।
নৌকার প্রার্থী জানান, তিনিও হাইকোর্টে একটি রিট করেছিলেন। সেটি আমলে নিয়ে হাইকোর্ট তিন মাসের জন্য ভোট গণনা স্থগিত করে। পরবর্তীতে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি আপিল শুনানির জন্য দিন ধার্য করে। কিন্তু গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের মেয়াদের শেষ মুহূর্তে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ভোট গণনা করে তড়িঘড়িভাবে ফল পাঠানোর নির্দেশ দেয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও ১৫ ফেব্রুয়ারি কয়েক ঘণ্টার নোটিসে প্রিজাইডিং অফিসার ও প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
জানা গেছে, লংকারচর কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের জিম্মি করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর ৮২০ ভোটের স্থানে ৬২৩ ভোট লিখিয়ে নেন ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী। ফলে ফলাফল শিটে কাটাছেঁড়া ও গরমিল দেখা যায়। এ কারণে ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুল আজিজ দেশ রূপান্তরকে জানান, হযরতপুর ইউনিয়নে লংকারচর কেন্দ্রে ভোট গণনা নিয়ে মতানৈক্য দেখায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সমস্যাগুলো আবেদন আকারে পাঠানো হয়। তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক গতকাল ভোট গণনার কথা ছিল। তবে প্রিসাইডিং অফিসার না আসায় ভোট গণনা করা হয়নি।
আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে কেন ভোট গণনা করা হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কমিশন ভালো বলতে পাড়বে।
