অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় কয়লানির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্ধারিত সময়ের সাত বছর আগেই বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ পরিচালনা কর্তৃপক্ষ গতকাল বিবিসি অনলাইনকে জানিয়েছে, পরিবেশ দূষণজনিত কারণেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
২ দশমিক ৮৮ গিগাওয়াটের এরারিং প্ল্যান্টটি সিডনির হান্টার অঞ্চলের উত্তরে অবস্থিত। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরিচালনায় রয়েছে অরিজিন এনার্জি। প্ল্যান্টটির কার্যক্রম ২০২৫ সালে বন্ধ করে দেওয়া হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ অরিজিন এনার্জি বিনিয়োগকারীদের বলেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পটি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক কালাব্রিয়ার ভাষ্য, প্রায় ৪০ বছর ধরে চলা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আগামী ২০৩২ সালে বন্ধ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের প্রায় সাত বছর আগেই এটি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এ ছাড়া সৌর, বায়ু এবং ব্যাটারিভিত্তিক সাশ্রয়ী এ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করার জন্যও চাপ রয়েছে।
নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রকল্পটির জন্য সংশোধিত ১৭ কোটি ডলারের বাজেট ধরা হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্পে বড় পরিসরে ৭০০ মেগাওয়াটের ব্যাটারিভিত্তিক প্রকল্প নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অরিজিন এনার্জিই অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ কোম্পানি, যারা নির্ধারিত সময়ের আগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের দিকে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশই হয় কয়লা থেকে। এতে মাথাপিছু সর্বোচ্চ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর অন্যতম হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়া।
পরিবেশ দূষণের বিষয়টি মাথায় রেখে অস্ট্রেলিয়ার অন্য বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। গত সপ্তাহে অরিজিন এনার্জির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান এজিএল জানিয়েছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এর আওতাধীন দুটো কয়লানির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হবে। আরেক প্রতিষ্ঠান এনার্জি অস্ট্রেলিয়া গত বছর বলেছে, ভিক্টোরিয়ায় অবস্থিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্ধারিত সময়ের চার বছর আগেই বন্ধ করে দেওয়া হবে। এটিই অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম পরিবেশ দূষণকারী বিদ্যুৎকেন্দ্র। সস্তার নবায়নযোগ্য জ¦ালানির কারণে বিদ্যুতের দাম কমছে। এতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তিনটি কোম্পানিরই কয়লানির্ভর কারখানা থেকে আয় কমেছে।
