মেয়রের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার অভিযোগ

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৪০ এএম

রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার বিরুদ্ধে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চিরঞ্জীব মুজিব’-এর আমন্ত্রণপত্র ছুড়ে ফেলা এবং শহর জুড়ে চলচ্চিত্রটির প্রচারণায় লাগানো পোস্টার-ফেস্টুন নামিয়ে নিতে হুমকির অভিযোগ তুলেছেন চলচ্চিত্রটির পরিবেশকসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন। এ নিয়ে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করার দায়ে মেয়রের বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।

তবে এ অভিযোগ মিথ্যা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেছেন রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। গতকাল বৃহস্পতিবার এ নিয়ে দুপুরে নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন মেয়র। এ সময় সিটি প্যানেল মেয়রসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র মোস্তফা বলেন, সিটি পরিষদের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সড়কের মিড-আইল্যান্ডের স্ট্রিটলাইট পোস্টে সব ধরনের পোস্টার-ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে এবং নতুন কোনো পোস্টার-ফেস্টুন না লাগানোর জন্য ১০ দিন মাইকে প্রচার চালানো হয়। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে সব স্ট্রিটলাইট পোস্টে লাল-সবুজের এলইডি স্ট্রিটলাইট স্থাপন করা হয়। কিন্তু গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়াই আয়োজকরা ওইসব লাইট পোস্টে ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রায় ১২০টি ফেস্টুন লাগিয়েছেন।

মেয়র দাবি করেন, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বেলা আড়াইটার দিকে নগর ভবনে দুই-তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি তাকে আমন্ত্রণপত্র দিতে আসেন। তিনি তাদের আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে টেবিলের ওপর রেখে দেন এবং চলচ্চিত্রের আয়োজকদের নিজ দায়িত্বে স্ট্রিটলাইট পোস্টে লাগানো ফেস্টুন সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। ওই সময় মেয়রের দপ্তরে ছয়জন কাউন্সিলরসহ প্রায় শতাধিক সেবাপ্রত্যাশী উপস্থিত ছিলেন।

আমন্ত্রণপত্র ছুড়ে ফেলাসহ যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাকে মিথ্যাচার দাবি করে মেয়র মোস্তফা বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের গুটিকয়েক সদস্য ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপরাজনীতির খেলা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সিটি পরিষদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও অনুষ্ঠানের প্রচারণা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে করে আসছে।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী অবলম্বনে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চিরঞ্জীব মুজিব’-এর পরিবেশক আসাদুজ্জামান পাইলট গত বুধবার রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মেয়রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, মেয়র মোস্তাফিজার রহমানকে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে নিমন্ত্রণ জানাতে ঢাকা থেকে আসা আয়োজকরা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। দীর্ঘসময় তিনি তাদের বসিয়ে রাখার পর আমন্ত্রণপত্রটি ছুড়ে ফেলে দেন এবং ওই চলচ্চিত্রের পোস্টার-ফেস্টুন কার অনুমতি নিয়ে সাঁটানো হয়েছে বলে জানতে চান। একপর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পোস্টার-ফেস্টুনগুলো সরিয়ে ফেলা না হলে সিটি করপোরেশনের লোক দিয়ে নামিয়ে ফেলবেন বলে হুমকি দেন।

বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের ব্যাপারে তার এমন আচরণ জাতির জনককে অবমাননার শামিল দাবি করেন চলচ্চিত্রটির পরিবেশক।

ওই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতাউর জামান বাবু, সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী তুহিন ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ।

এদিকে গতকাল দুপুরেও মেয়রের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলে রংপুর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে মহানগর ছাত্রলীগ। সমাবেশে অংশ নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অসম্মান ও প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করাসহ সিটি মেয়রের অন্যায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা সরকারের কাছে তার বিচার দাবি করছি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব।

রংপুরে মেয়রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে দাবি করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেছেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত ফেস্টুন ও দাওয়াত কার্ড ছুড়ে ফেলার মিথ্যে অভিযোগ তুলে মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়েছে। জাতির জনক সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে। আওয়ামী লীগ নামধারী সুবিধাবাদী মেয়রকে ফাঁসাতে গিয়ে জাতির জনককেই অসম্মান করেছে। জাতির জনকের ছবিকে হাতিয়ার বানিয়ে যারা নোংরা, ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র এবং অপরাজনীতি শুরু করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে জিএম কাদের বলেন, ‘আগামী রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশ মোস্তফাকে বিতর্কিত করতে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্নেহধন্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা রংপুরের মাটি ও মানুষের নেতা। তার বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র কখনই সফল হবে না। জাতির জনকের ছবিকে হাতিয়ার বানিয়ে যারা অপরাজনীতি শুরু করেছে তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দলীয়ভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত