বন্ধুর নামে পার্সেলে পিস্তল পাঠিয়ে রাজিবও দেশে ফেরেন, সন্দেহ পুলিশের

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:৫৩ পিএম

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের বৈদেশিক ডাকে পিস্তল আসার ঘটনায় প্রাপকের ঠিকানা অনুযায়ী আয়কর বিভাগের কর্মচারী মজুমদার কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তবে পুলিশ জানায়, রাজিব বড়ুয়া ইতালি থেকে নিজে দেশে ফেরার আগে পিস্তল পাঠিয়ে দেন পার্সেলে তার বন্ধুর ঠিকানায়। অস্ত্র ধরা পড়ার পর রাজিব গা ঢাকা দিয়েছে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগর পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, গত ২৫ জানুয়ারি রাজিব ইতালির রোম থেকে পিস্তল ও গৃহস্থালী সামগ্রীর চালানটি পার্সেল করেন। এরপর এ মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে পৌঁছান তিনি।

এদিকে, বলছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর) এসএম মেহেদী হাসান জানান, সোমবার রাতে নগরীর হালিশহর এলাকা থেকে ডবলমুরিং থানা পুলিশ মজুমদার কামরুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে। রাজিবকে পেলেই এই পিস্তল এভাবে আনার উদ্দেশ্য জানা যাবে

গ্রেপ্তার কামরুল চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১ এর ১২ নম্বর সার্কেলে উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত। তিনি থাকেন চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদের সিজিএস এলাকায়।

২০১০ সালে ইতালি পাড়ি দেওয়া রাজিবও এক সময় আগ্রাবাদ এলাকায় থাকতেন। তার সঙ্গে কামরুলের বন্ধুত্ব রয়েছে। পিস্তল উদ্ধারের পর রাজীবের বিরুদ্ধে দেশে কয়েকটি মামলার খবরও জেনেছে পুলিশ।

গত রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ইতালির রোম থেকে বৈদেশিক ডাকে আসা চালান পরীক্ষা করে গৃহস্থালি পণ্যের ভেতর চারটি পিস্তল ও ৬০ রাউন্ড কার্তুজ পায়। পরীক্ষা করে দেখা যায় দুটি পিস্তল খেলনা হলেও দুটি ছিল এইট এমএম বোরের আসল পিস্তল।

কামরুলের নামে পাঠানো ওই পার্সেলে চারটি পিস্তলসহ মোট ১৯ ধরনের পণ্য ছিল। তার মধ্যে রয়েছে ছুরি, ড্রিল মেশিন, ব্লেন্ডার, সাবান, চকলেট, লেডিজ ব্যাগ, হ্যান্ড ব্যাগ, মাল্টি প্লাক ও অলিভ ওয়েল ইত্যাদি।

পিস্তল পাওয়ার ঘটনায় কাস্টমসের পক্ষে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে পার্সেলের গায়ে লেখা প্রাপক কামরুল হাসান ও প্রেরক রাজিব বড়ুয়ার (রোমে অবস্থানরত) বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মামলা করেন।

এরপর চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট অভিযান শুরুর পর সোমবার রাতে ডবলমুরিং থানা পুলিশের হাতে ধরা পড়েন কামরুল। তখনই জানা যায়, রাজিবও এখন দেশে রয়েছেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, রাউজান উপজেলায় রাজিবের বাড়ি হলেও ইতালি যাওয়ার আগে তিনি আগ্রাবাদ এলাকায় থাকতেন। সর্বশেষ গত রবিবারও তিনি আগ্রাবাদ এলাকায় গিয়েছিলেন।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) মেহেদী বলেন, “অস্ত্রগুলো কী উদ্দেশ্যে, কেন আনা হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজিবকে ধরতেও পুলিশ কাজ করছে।”

রাজিব দেশেই আছেন কি না-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা দুই ধরনের কথা শুনেছি। তার অবস্থান শনাক্তে কাজ চলছে। যদি বিদেশে থাকে তাহলে তাকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হবে।”

নগর পুলিশের ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার আরিফ হোসেন জানান, লিবিয়ায় যাওয়ার দেড় দশক আগে ১৯৯৪ সাল থেকে রাজিব ও কামরুলের সখ্য বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। তাদের মধ্যে পারিবারিক যোগাযোগও আছে। রাজিবের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত অভিযোগে কয়েকটি মামলা রয়েছে।

গত রবিবার অস্ত্র থাকার বিষয়টি ধরা পড়ার পর কামরুল ও রাজিব দুজনই তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেন। কামরুলকে সোমবার রাতে হালিশহরের খালপাড় এলাকার তার শ্বশুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

উপ-কমিশনার মেহেদী বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। সেজন্য তাকে হেফাজতে আনতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত