যাত্রীসেবা নির্বিঘ্নে করতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের নতুন প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সলিউশন (পিএসএস) চালু করতে যাচ্ছে। বর্তমান পিএসএস ‘সিটা’ থেকে ভিন্ন আরেক প্রতিষ্ঠান ‘সেবর’-এ এই কার্যক্রম স্থানান্তর শুরু হবে আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে। পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকেই যাত্রীরা অনলাইনে টিকিটিং, বুকিং, চেক-ইন, ওয়েব সার্ভিস ইত্যাদি সেবা পাবেন।
এতে করে বিমানের টিকিটিং ব্যয় কমে যাবে। একই সঙ্গে যাত্রীরা অনলাইনে আরও বেশি বিমানের সেবাগ্রহণ, পরিবর্তন, রিফান্ডের সুযোগ পাবেন। তবে ওয়েবসাইটে টিকিট কাটার সুবিধা থাকলেও মোবাইল অ্যাপলিকেশনে এখনই চালু হচ্ছে না।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান পিএসএস ‘সিটা’ থেকে তাদের তথ্যভাণ্ডার ‘সেবর’-এ স্থানান্তর করার জন্য আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে কাজ শুরু হবে। চলবে রাত ৩টা পর্যন্ত। এ কারণে প্রায় সাড়ে ১১ ঘণ্টা বিমানের সব চ্যানেল থেকে টিকিট বুকিং, রিজার্ভেশন ও টিকিট ইস্যু-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার সাংবাদিকদের জানান, বিশেষ ব্যবস্থায় এ সময়েও শিডিউল অনুযায়ী এয়ারপোর্টের চেক-ইনসহ বিমান পরিবহন-সংক্রান্ত কার্যক্রমগুলো যথারীতি চালু থাকবে এবং সব ফ্লাইট যথাসময়ে গমন ও প্রত্যাবর্তন করবে।
জানা গেছে, বিমানের নিজস্ব ওয়েবসাইটের পাশাপাশি এখন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটা করতে তিন বছর সময় লাগবে। এর আগে এই অ্যাপ তৈরি করতে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি ৬ সদস্যের একটি কমিটি করেছিল বিমান। ২০১৮ সালে ১৯ ফেব্রুয়ারি চালু হয় ‘বিমান হলিডেজ’ নামে অ্যাপটি। বিমানের এই হলিডে উইং পরিচালনার দায়িত্ব পায় ট্রাভেল শপ। এই প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বিমানের ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনার। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বিমানের মোবাইল অ্যাপলিকেশন উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে গত ১০ আগস্ট থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিমানের টিকিট বিক্রি বন্ধ রয়েছে। বিমান সার্ভারের ভাড়া পরিশোধ করছে না এমন অভিযোগ তুলে ট্রাভেল শপ সেবা বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ট্রাভেল শপের অদক্ষতাকে দায়ী করে চুক্তি বাতিল করে বিমান। পরে ২০২১ সালে সেপ্টেম্বর মাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মোবাইল অ্যাপসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিটিং ছাড়াও নতুন প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সলিউশন (পিএসএস) চালু করতে দায়িত্ব দেয় ‘সেবর করপোরেশন’কে। চুক্তির আওতায়, সেবর সনিক প্যাসেঞ্জার সার্ভিস সিস্টেমের মাধ্যমে বিমানের টিকিটিং ব্যবস্থা ডিজিটালাইজড, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে কাজ করছে।
