কেউ আমাদের মচকাতে পারবে না: জেলেনস্কি

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২২, ০৭:০৭ পিএম

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিশেষ এক সভায় ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন তার দেশে এখন যা হচ্ছে তা একটি ট্রাজেডি এবং ইউেক্রনিয়ানরা তাদের ‘দেশ, জীবন এবং মুক্তির’ জন্য যুদ্ধ করছে।

ভিডিও কলের মাধ্যমে ওই সভায় যোগ দিয়ে তার ভাষণে জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘আমাদের কেউ মচকাতে পারবেনা কারণ আমরা ইউক্রেনিয়ান’।

তার ভাষণের সময় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কক্ষে এক আবেগ-ঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইউরোপীয় এমপি এবং কর্মকর্তারা উঠে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে হাততালি দেন।

ইউরোপীয় এমপিদের উদ্দেশ্য করে জেলেনস্কি বলেন, প্রমাণ করুণ আপনারা অমাদের সঙ্গে রয়েছেন, প্রমাণ করুণ ইউক্রেনকে আপনারা একা ফেলে যাবেন না।

দুদিন আগে জেলেনস্কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানান ইউক্রেনকে যেন দ্রুত জোটের সদস্যপদ দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ভাবে একটি লিখিত অনুরোধও করেছেন তিনি।

জেলেনস্কি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের সঙ্গে অনেক শক্তিশালী হতে চলেছে, এটা নিশ্চিত। আপনাদের ছাড়া ইউক্রেন একাকী হতে চলেছে। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন প্রমাণ করুন। প্রমাণ করুন যে আপনারা আমাদের একা ছেড়ে যাবেন না। প্রমাণ করুন যে আপণারা প্রকৃতপক্ষে ইউরোপীয় এবং তারপর জীবন মৃত্যুর উপর জয়ী হবে এবং আলো অন্ধকারের উপর জয়ী হবে। ইউক্রেনের জয় হোক’।

অন্যদিকে, ইউক্রেনকে নিরস্ত্র এবং বেসামরিকীকরন ও বর্তমান জেলেনস্কি সরকারকে উৎখাত করার যে লক্ষ্য নিয়ে এসেছে রাশিয়া, তা পূরণ হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশটিতে সামরিক অভিযান জারি রাখার ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু।

মঙ্গলবার মস্কোতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শোইগু বলেন, ‘ইউক্রেনকে রুশ অভিযানের উদ্দেশ্য দেশটিকে দখল করা নয়, বরং পশ্চিমা দেশগুলোর কারণে ইউক্রেনের ওপর যে সামরিক হুমকির ‍সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে সেখানকার জনগণকে মুক্ত করা এবং দেশটির  ক্ষমতাসীন নাৎসীপন্থী শাসকগোষ্ঠীকে অপসারণের লক্ষ্য নিয়েই রুশ বাহিনী এগোচ্ছে। এই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে’।

ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ হচ্ছে ইউক্রেনের বাহিনীর। তবে গত দুই দিন ধরে সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে। রুশ বাহিনীর রকেট হামলায় ইউক্রেনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটিতে ইতোমধ্যে শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ৬ষ্ঠ দিনে পড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে আজ। ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়লেও রাজধানী কিয়েভ দখলে মরিয়া রুশ বাহিনী।

বিবিসি বলছে, রাশিয়ার একটি বিশাল সামরিক বহর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। স্যাটেলাইট কোম্পানি ম্যাক্সার টেকনোলজির প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সামরিক বহরটি প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, স্থলবাহিনী এবং যুদ্ধ হেলিকপ্টার বেলারুশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান করছে, যেটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ২০ মাইলের কম দূরত্বে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী রাজধানী কিয়েভের ওপর হামলা শুরু করেছে। কিয়েভসহ ইউক্রেনের সব প্রধান প্রধান শহরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতায় সাইরেন বাজানো হচ্ছে।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে বিবিসির চিফ ইন্টারন্যাশনাল করেসপন্ডেন্ট লিস ডুসেট জানাচ্ছেন, রাশিয়ার বিশাল সামরিক বহর কিয়েভমুখী হবার কারণে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক বহরের এই গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছে পুরো বিশ্ব।

কিয়েভ শহরের অনেকে আশঙ্কা করছেন রাশিয়ার সৈন্যরা ‘মধ্যযুগীয় কায়দায়’ শহরকে অবরোধ করে রাখবে। শহরের বাসিন্দাদের জন্য খাদ্য, পানি এবং জরুরি সরবরাহ বন্ধের আশংকা করা হচ্ছে।

রাশিয়া যখন ইউক্রেনে হামলা শুরু করে তখন ধারণা করা হয়েছিল শক্তিশালী রাশিয়া মাত্র কয়েকদিন কিংবা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিয়েভ দখল করে নেবে।

কিন্তু হামলার পর পাঁচদিন অতিবাহিত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এবং সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করেছে। অনেক সাধারণ মানুষ হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে।

একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে রাশিয়ার সামরিক কনভয় যদি এক ইঞ্চি করেও অগ্রসর হয়, তাহলেও এটি কিয়েভের দিকেই আসছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত