২২ মাসে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স এলো ফেব্রুয়ারিতে

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২২, ১১:০৯ পিএম

রেমিট্যান্স আবার কিছুটা হোঁচট খেল ফেব্রুয়ারি মাসে। ওই মাসে ১৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত ২২ মাসে আসা রেমিট্যান্সের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগে সবশেষ ২০১৯ সালের মে মাসে সর্বনিম্ন ১৫০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

তাছাড়া আগের মাস জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স ১২ শতাংশ কমেছে। ঠিক এক বছর আগে অর্থাৎ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় রেমিট্যান্স প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৭০ কোটি ৪৫ ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। আর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭৮ কোটি ৫ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবমিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ১ হাজার ৩৪৪ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় ১৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ বা ৩২৪ কোটি ডলার কম।

২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ১ হাজার ৬৬৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রতিটি মাসেই রেমিট্যান্স কম এসেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৭ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের প্রথম মাসে আসা রেমিট্যান্সের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫৯ কোটি ৮২ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের আগস্টে ৭ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে প্রায় ২০ শতাংশ, অক্টোবরে প্রায় ২২ শতাংশ, নভেম্বরে ২৫ শতাংশ, ডিসেম্বরে ২০ শতাংশ এবং জানুয়ারিতে ১৩ শতাংশ রেমিট্যান্স কমেছে।

তাছাড়া চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস ছাড়া প্রতিটি মাসেই আগের মাসের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে। অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে রেমিট্যান্স কিছুটা কমে হয় ১৮১ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে আরও কিছুটা কমে রেমিট্যান্স দাঁড়ায় ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। অক্টোবরে রেমিট্যান্স আরও কমে ১৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলারে নেমে আসে। নভেম্বরে রেমিট্যান্স আরও কমে ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার হয়। ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স আগের মাসের তুলনায় কিছুটা বাড়ে। ওই মাসে রেমিট্যান্স আসে ১৬৩ কোটি ডলার। জানুয়ারিতে আসে ১৭০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স। ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স আবার নিম্নমুখী।

অর্থবছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত রেমিট্যান্সের গতি নিম্নমুখী থাকায় গত জানুয়ারি মাসে রেম্যিটান্সের প্রণোদনা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়। এর আগে ১০০ টাকা রেমিট্যান্স পাঠালে ২ টাকা প্রণোদনা পাওয়া যেত।

প্রণোদনা বাড়ানোর ফলে রেমিট্যান্স বাড়বে বলে আশা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তার প্রত্যাশা ছিল চলতি অর্থবছরে জুন পর্যন্ত সময়ে ২ হাজার ৬০০ কোটি (২৬ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স আসবে। সেই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে অর্থবছরের বাকি চার মাসে ১ হাজার ২৫৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পেতে হবে। এর জন্য প্রতি মাসে গড়ে ৩১৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দরকার। তবে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রেমিট্যান্সের যে প্রবাহ বজায় ছিল তাতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন না আসলে রেমিট্যান্স ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলারের আশপাশে থাকবে।

সবশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরের ১২ মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার। এর আগের ২০১৯-২০ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার। মূলত ওই অর্থবছর থেকে রেমিট্যান্সের ওপর ২ শতাংশ করে প্রণোদনা দেওয়া শুরু করে সরকার।

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে প্রতি অর্থবছরেই রেমিট্যান্স ১ হাজার কোটি ডলারের ওপরে ছিল। তবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর থেকে রেমিট্যান্সের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। প্রণোদনা চালু করায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় এর পরের অর্থবছরে (২০১৯-২০) রেমিট্যান্সে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দেয়।

অন্যদিকে করোনা মহামারী শুরুর পর বিশ্বের অনেক দেশ থেকে প্রবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তখন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি তাদের সঞ্চয়ও রেমিট্যান্স আকারে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া একেবারে চলে আসতে হবে মনে করে অনেকেই তাদের ঘটিবাটি বিক্রি করে চলে আসায় রেমিট্যান্স বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়ে আসছিলেন। করোনার প্রথম ঢেউয়ে রেমিট্যান্স এভাবে বাড়লেও দ্বিতীয় ঢেউয়ে কমতে দেখা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত