নদী ভাঙনরোধে উন্নয়ন সহযোগীরা দেড় হাজার কোটি টাকার অর্থ সহায়তা দেবে, যার পরিমাণ ১ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। দেশের অন্যতম প্রধান দুই নদী পদ্মা ও যমুনার ভাঙনরোধসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণে ঋণ ও অনুদান হিসেবে এ সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং নেদারল্যান্ডস।
গতকাল বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং সই করেন।
‘ফ্লাড অ্যান্ড রিভারব্যাংক ইরোশন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (প্রজেক্ট-২)’ শীর্ষক এ প্রকল্পের আওতায় ১৭ কোটি ৪৯ লাখ ডলার বা ১ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা ধরে) দেবে এডিবি ও নেদারল্যান্ডস। প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৮১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অবশিষ্ট টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে।
প্রকল্পে এডিবি ঋণ সহায়তা দিচ্ছে ১৫ দশমিক ৭ কোটি ডলার। এর বাইরে প্রকল্পে ১ দশমিক ৭৯ কোটি ডলার দেবে নেদারল্যান্ডস সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ১৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি ভাঙন থেকে রক্ষা করা হবে। এতে সরাসরি উপকৃত হবে পাঁচ লাখ মানুষ। এ ছাড়া চাষাবাদের আওতায় আসবে ৮ হাজার হেক্টর চরাঞ্চলীয় জমি।
এডিমন গিনটিং বলেন, প্রকল্পটি জলবায়ু মোকাবিলায় কাজ করবে, সবুজায়নেও ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দারিদ্র্য কমানো, জীবনযাত্রার উন্নতি করা এবং পানি সম্পর্কিত দুর্যোগ বা বন্যার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে। নদীভাঙনের ফলে সৃষ্ট ভূমিক্ষয় ও বন্যার ঝুঁকি কমানো, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং চরাঞ্চলের আবাদি জমির উর্বরতা বাড়ানোর মাধ্যমে প্রকল্পটি সরাসরি জীবন-জীবিকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল এবং মানিকগঞ্জ জেলার ৯টি উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এটি বাস্তবায়িত হলে যমুনা ও পদ্মা নদীর তীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন হবে। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করবে এ প্রকল্প। এ ছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রকল্প এলাকার ভাঙনরোধ ও স্থায়িত্ব বাড়াতে সমন্বিত কাঠামোগত ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
