১০ বছর অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চায় রিহ্যাব

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২২, ১১:৫০ পিএম

আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য বিনা প্রশ্নে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ চেয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। এতে অর্থপাচার রোধ সহজ হবে বলে আশা করছে সংগঠনটির নেতারা।

গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশগ্রহণ করে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে সংগঠনটির সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন এ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, আবাসন ক্রেতা সাধারণের ক্ষেত্রে প্রথম ফ্ল্যাট কেনার জন্য অর্থের উৎস প্রদর্শন না করার সুযোগসহ ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ১৯/বি ধারা বহাল রাখা দরকার।

তিনি বলেন, আবাসন খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং বিদেশে অর্থ পাচার প্রতিরোধে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য গৃহায়ন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ ফ্ল্যাট, প্লট, বাণিজ্যিক ভবন ও বিপণি বিতানে বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ বহাল রাখা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আগের অর্থবছরে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার ফলে সরকার ২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছিল। ওই সময় ১১ হাজার কোটি টাকা সাদা করা হয়েছিল। কিন্তু গত বাজেটে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে না বলার কারণে চলতি অর্থবছরের ৬ মাসে মাত্র ২৬ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে সরকার। আগামী বাজেটে এ বিষয়টি স্পষ্ট করে বললে রাজস্ব আহরণ বাড়বে।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, বর্তমানে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত ব্যয় অত্যধিক হওয়ার কারণে ফ্ল্যাট বা প্লট ক্রেতারা রেজিস্ট্রেশন করার আগ্রহ হারিয়েছে। তাই আগামী বাজেটে প্লট এবং ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের কর ও ফি সর্বমোট ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন তিনি।

রিয়েল এস্টেট খাতের সেকেন্ডারি মার্কেট তৈরি হচ্ছে না। এ খাতে সেকেন্ডারি মার্কেট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যবহৃত ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে কর ও ফি কমানোর প্রস্তাব করেন রিহ্যাব সভাপতি। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়বে বলে জানান তিনি।

এছাড়া বিকেন্দ্রীকরণ নগরায়ণ ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে শহর এলাকায় ৫ বছর এবং শহরের বাইরের এলাকায় ১০ বছরের জন্য ‘ট্যাক্স হলিডে’র প্রস্তাব করে রিহ্যাব।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মানোয়ার হোসেন বলেন, নিত্যপণ্যের মতো রডের দাম বাড়ছে। স্টিল ও রডের কাঁচামাল স্ক্র্যাপের মূল্য বিশ্ববাজারে বেড়েছে।

এছাড়া ফেরাস ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ক্র্যাপ এবং স্পঞ্জ আয়রন আমদানিতে অগ্রিম আয়কর, শুল্ক কমানোর দাবি জানান মানোয়ার হোসেন।

আবাসন খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ক্লিংকার, লাইম স্টোন, স্ল্যাগ, ফ্ল্যাই অ্যাশ, জিপসামের ওপর অগ্রিম কর শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত