১৯৭১ সাল, ২৫ মার্চের কালরাত! দুঃসহ সেই রাতের কথা মনে পড়লে আজও কিছুক্ষণের জন্য থেমে যাই। সেই দুঃসহ রাতের ঘটনা কখনোই আমার কাছে স্মৃতি নয়, বরং অনেক বড় নির্মম সত্যি। দেশকে স্বাধীন করার মরণপণ লড়াইয়ের সূচনাও বলতে পারি। কারণ এ গণহত্যার পর ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন; যা পরে রেডিওতে শুনেছি।
আমরা রাজনৈতিক কর্মীরা জানতাম লড়াই করতে হবে। কিন্তু ২৫ মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সৈন্যরা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর এমন বর্বর আক্রমণ করবে, গণহত্যা চালাবে এতটা আমি কেন, কেউই ভাবেনি। তবে সে সময়টায় ঢাকাসহ সারা দেশেই এক ধরনের যুদ্ধ প্রস্তুতি চলছিল। একটু আগের কথা বলি, সত্তরের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর করার টালবাহানায় প্রতিবাদে জনবিস্ফোরণ ঘটে, পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল।
১৯৭১ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সংসদ বাতিলের পর সাধারণ মানুষও বুঝে গেল কী হতে যাচ্ছে। আমরা যারা সরাসরি রাজনীতি করি তাদের দায়িত্ব বেড়ে গেল। ক্রমেই আমাদের যুদ্ধ প্রস্তুতির মাত্রাও বেড়ে যায়। সব প্রস্তুতি চলছিল বঙ্গবন্ধুর নির্দেশমতো। প্রায় প্রতিদিনই সভা-সমাবেশে যোগ দিতাম। আমার প্রথম সন্তানের বয়স তখন মাত্র তিন মাস। এত্তটুকু শিশুকে ঘরে রেখেই বাইরে চলে যেতে হতো। ছেলেকে শাশুড়ির কাছে রেখে ৭ মার্চের ভাষণ শুনতে যাই। আমি সামনের দিকে বসেছিলাম, পাশে ছিলেন আমার স্বামী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। এ অভিজ্ঞতা আমার সারা জীবনের প্রেরণা। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক। যে অপেক্ষায় আমরা ছিলাম। একটা অসাধারণ ঘটনা, যা আজ ইতিহাস। উনিশ মিনিটের ভাষণে তিনি বাঙালির অপমান নির্যাতন বঞ্চনার কথা বলে কৌশলে যুদ্ধের ডাক দিলেন। সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি সেদিন তিনি। কিন্তু সেই ঘোষণাই ছিল আমাদের কাছে সব।
রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) সেদিন মানুষ আর মানুষ। লাঠি, সড়কি ও বৈঠা নিয়ে তারা ভাষণ শুনতে এসেছে। মাথার ওপরে হেলিকপ্টার ঘুরছে, নিমিষেই শেষ করে দিতে পারে এই জনারণ্যকে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার পর বাঙালির তো আর কিছু বোঝাপড়ার প্রয়োজন হয়নি। এরপরই মূলত রাজনৈতিক কর্মীরা পাড়ায় পাড়ায় ব্রিগেড গড়ে তোলার কাজ শুরু করি প্রকাশ্যে। অন্যদিকে গোপনে চলে অস্ত্র প্রশিক্ষণ। গোপন সভা, অর্থ, ওষুধ, কাপড় ও খাবার সংগ্রহ করার কাজ চলে নীরবে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণই ছিল দেশবাসীর কাছে যুদ্ধে যাওয়ার আদেশ ও স্বাধীনতার ডাক। তখন তিনি রাষ্ট্রনায়ক হননি, কিন্তু তার নির্দেশেই সারা দেশ চলছিল। দেশের মানুষ তার নির্দেশ মেনেই সবকিছু করেছে।
আমরা বন্ধুরা তখন কে কোথায় কাজ করবে তার প্রস্তুতি শুরু করেছি। সশস্ত্র যুদ্ধে যাওয়ার প্রশিক্ষণ গোপনে শুরু হয় গেছে বেশ আগে থেকেই। বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে আমরা মেয়েরাও রাইফেল হাতে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তেই প্রশিক্ষণ নিয়েছি। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মীরা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে পাড়ায় পাড়ায় ব্রিগেড তৈরির কাজটি করেছি। লিফলেট বিলি করা, মানুষকে বোঝানো, সতর্ক করা, ছোট ছোট লাঠি ও টর্চলাইট নিয়ে রাতে পাহারা দেওয়া, স্কুল ও কলেজ থেকে বেঞ্চ এনে ব্যারিকেড দেওয়া ছিল আমাদের দায়িত্ব। দেশপ্রেম আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা বোধহয় সবকিছুকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। তা না হলে এত ছোট সন্তানকে রেখে দিনের পর দিন বাইরে থেকেছি কী করে! দেশপ্রেম না থাকলে ক্ষুদিরাম ফাঁসির মঞ্চে গেলেন কী করে? দেশকে ভালোবাসার ওপরে তো আর কোনো ভালোবাসা হয় না। ব্যক্তিগত প্রেমও সেখানে তুচ্ছ।
২৫ মার্চ রাতে প্রতিদিনের মতো ব্যারিকেড দেওয়ার কাজ করে, সব যোগাযোগ সেরে সবে ঘরে ফিরেছি। আমার স্বামী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ পল্টন এলাকায় বেশ পরিচিত ব্যক্তি। তাদের পরিবারকেও সবাই জানত। দুজনই ঘরে ফিরেছি। রাত প্রায় সাড়ে ১২টা। হঠাৎ রাস্তায় ট্যাংক ও আর্মির গাড়ির গড়গড় শব্দ পাচ্ছি। এ সময় ছোট বাচ্চাকে নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত আমরা। কিছুক্ষণ পর রাজারবাগে গোলাগুলির প্রচণ্ড শব্দ কানে আসে। এর পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে মর্টার শেলের শব্দে কানপাতা দায়। শব্দের তীব্রতায় আমাদের বাসার জানালার কাচ ঝরঝর করে ভাঙছে শুনতে পাচ্ছি। ছেলেকে নিয়ে আমরা খাটের নিচে চলে যাই। এভাবে কাটল বেশ কয়েক ঘণ্টা। একবার জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখি আকাশ লাল হয়ে আছে। যেদিকে তাকাই লালচে আকাশ আর থেকে থেকে গুলির শব্দ।
ভোর হলো একসময়। ২৬ মার্চ সারা শহরে কারফিউ। মাঝে মাঝে জিপ গাড়ির শব্দ ভেসে আসে রাস্তা থেকে। আমার মনটা কেমন অস্থির লাগছে। কোনো শব্দ না করে দিনটা চুপচাপ বাসায় কাটাতে হলো। রেডিও অন করে পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করি।
২৭ মার্চ কারফিউ উঠাল কয়েক ঘণ্টার জন্য। আমাকে বের হতে হবে। দেবরের বউয়ের কাছে বাচ্চাটাকে রেখে রিকশায় রওনা হলাম স্বামীবাগে, বাবার বাসার দিকে। যেতে যেতে দেখি রাস্তায় লোকজন নেই বললেই চলে, এখানে-সেখানে লাশ পড়ে আছে। সে এক বীভৎস দৃশ্য! কোথা থেকে এত সাহস পেয়েছিলাম সেদিন জানি না। এখন ভাবি এত ছোট সন্তানকে রেখে কী করে পারলাম। এমন মৃত্যুর শহরে মানুষের খোঁজ নিতে বেরিয়েছিলাম। এটাই হয়তো দেশপ্রেম।
আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী, বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশ গড়ার সৈনিক হওয়ার শপথ নিয়েছি। দেশটাকে তো ওদের হাত থেকে যেভাবে হোক স্বাধীন করতে হবে। এই চিন্তাটা মাথায় ছিল। তাই সাহসটা ছিল সঙ্গে। মৃত্যুর কথা ভাবলে তো আমার হবে না! ইকবাল হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরে ঘুরে দেখেছি কে, কোথায়, কী অবস্থায় আছে। একা একা মধুদার বাড়ি, রোকেয়া হল সব জায়গায় ঘুরছি। এখনো চোখের সামনে ভাসে জগন্নাথ হলে চিল-শকুনের উড়ে যাওয়ার ডাক, হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী দেয়ালগুলোর নীরব কান্নার আওয়াজ। আমার প্রিয় ঢাকা শহর যেন প্রেতপুরী হয়ে গেছে। পথে পথে লাশ, মানুষের জুতো, স্যান্ডেল। আমি কাঁদছি না, আবার ভয়ও পাচ্ছি না। বোবা প্রাণী হয়ে ঘুরছি আর দেখছি নির্মম দৃশ্যগুলো। ঘণ্টা দুয়েক পরে ফিরে আসি। কিন্তু স্বাভাবিক জীবন আর থাকেনি সেদিন থেকে। তখন আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞায় যুদ্ধে যাওয়ার জন্য মনে মনে তৈরি হলাম। এরই মধ্যে ২৬ মার্চে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া স্বাধীনতার ঘোষণাটার পাঠ রেডিওতে শুনেছি।
২৮ মার্চ থেকেই খোঁজখবর, পার্টির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হলো। অনেকে ঢাকার বাইরে চলে গেছেন। আমাকে ঢাকায় থেকেই কাজ করার কথা বলা হলো। সেদিন থেকে শুরু হয় অন্যরকম এক যুদ্ধ। একটা সুবিধা ছিল, আমার শ্বশুরবাড়ি ছিল এ দেশের খানদানি সমাজের সুনজরের বাড়ি। এ বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটি হবে তা চিন্তা করতে পারেনি কেউ। তাছাড়া আমার চার মাসের সন্তান আছে। ধরা পড়ার ভয় ছিল কম। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়েছি। পাশে ছিলেন আমার স্বামী।
নটর ডেম কলেজেও গিয়েছি সাইক্লোস্টাইল করতে। খ্রিস্টান সমাজও আমাকে সাহায্য করেছে তখন। একবার হলো কি, আর্মি আসছে খবর পেয়ে পানির বড় চিমনির ভেতরে কিছুক্ষণ কাগজপত্র নিয়ে লুকিয়েছিলাম। আরেকবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে কেমিক্যাল আনতে গেছি আমরা। ওখানে রহমান ভাই নামে একজন ছিলেন, আমি ভেতরে গেলে বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে দিতেন। আমি ভেতরে যাওয়ার পর একজন স্যার এসেছেন, ল্যাবরেটরিতে ঢুকেছেন। কী করি! সাহস করে ওখানে বড় একটা চিমনির ওপরে উঠে ঘণ্টাখানেক বসেছিলাম। সে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। অনেকে বলেছেন দুঃসাহস, আমার কাছে সেটা মুক্তিযুদ্ধ।
শহীদ জননী জাহানারা ইমাম আমার বড় বোনের ক্লাসফ্রেন্ড। তার গাড়ি ছিল, সে সময় অনেক ধরনের কাজ করেছি তাকে সঙ্গে নিয়ে। টহলরত আর্মি ও শহরের মুরব্বি পাকিস্তানপন্থিদের নজর এড়িয়ে ছদ্মবেশে কাজ করতে হয়েছে তখন। পরিবারের অন্যদের কাছে ছেলেকে রেখে বেরিয়ে যেতাম। কী হবে একটুও ভাবার অবকাশ ছিল না।
দুটো বড় অপারেশন আমরা কয়েকজন মিলে করেছিলাম। তোপখানা রোডে ইউএসএসের লাইব্রেরি ছিল। সেখানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলাম সফলভাবে। যার ফলে লাইব্রেরিটা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। আরেকটা সফল অপারেশন করেছি টিভি স্টেশনে। এ খবর কোনোভাবে প্রশাসনের কাছে পৌঁছে যায়। এর পরপরই আমাদের বাসা থেকেই দুই ভাইকে ধরে নিয়ে যায়।
আমাদের পল্টনের বাড়িটা ছিল মুক্তিযুদ্ধের আশ্রয়কেন্দ্র। তখন তো ঘন ঘন কারফিউ থাকত। বাতি জ্বালানো যেত না। মোমবাতির আলোয় দরজা-জানালা বন্ধ করে কাজ সারতে হতো। খাওয়াদাওয়া ছিল সীমিত। এত মানুষ। আমাদের বাবুর্চি কাদের বড় হাঁড়িতে খিচুড়ি আর মাংস রান্না করে সবাইকে খাওয়াত। একটা ঘরে প্রায় ৩০ জনের মতোও থেকেছি। মাঝে মাঝে অস্ত্র এনে রাখা হতো। সেই অস্ত্র চটের তৈরি বাজারের থলিতে সবজি বা কখনো মাংসের ভেতরে লুকিয়ে অন্য জায়গায় পৌঁছে দিতে হতো। কেউ আহত হয়ে এলে তাকে ঠেলাগাড়িতে তুলে কখনো বউ সেজে বা বোন সেজে কান্নাকাটি করতে করতে নিয়ে যেতাম এলিফ্যান্ট রোডের ডা. আজিজুর রহমান ও তার স্ত্রীর ক্লিনিকে চিকিৎসা করাতে। সেই সময়টাতে রাতে বাসায় থাকিনি অনেক দিন। পুরো নয় মাস এভাবেই কাজ করতে হয়েছে।
এছাড়া অর্থ, ওষুধ, কাপড় ও শুকনো খাবার সংগ্রহ করে আমার আব্বা মুস্তাফিজুর রহমানের মতিঝিলের অফিস থেকেই বিভিন্ন জায়গায় পাঠিয়ে দিতাম। আমার আব্বা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির প্রধান ছিলেন। সুফিয়া কামাল খালাম্মার ধানমণ্ডির বাসার পেছনেই ছিল রাশান দূতাবাস, মাঝখানে একটা দেয়াল। এসব জিনিসপত্র পোটলা করে খালাম্মার বাসা থেকে ওপাশে ছুড়ে দেওয়া হতো। সেখান থেকে গিয়াস স্যার লুঙ্গি পরে মুটে সেজে এসব নিয়ে যেতেন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য। গিয়াসউদ্দিন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। আরও অনেকেই এই কাজে যুক্ত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই নয় মাস কীভাবে কেটেছে সেই স্মৃতির গল্প বহুমাত্রিক। আমার ও আশপাশের কিছু মানুষের গল্প হয়তো জানি, বলতে পারি বা মনে পড়ে। কিন্তু যুদ্ধের দিনগুলোতে কত নারীর জীবনে একান্তে ঘটে গেছে কত ত্যাগের ঘটনা তা আজও আমরা কেউ জানি না। কারণ কিছু মানুষ ছাড়া এই দেশের প্রায় সব মানুষই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের নারীদের যুদ্ধ ছিল ঘরে, বাইরে সবখানে। আমরা কজন না হয় লেখাপড়া জানা শহরের ট্রেনিংপ্রাপ্ত রাজনীতি করা নারী যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। কিন্তু গ্রামের সাধারণ ভীতু, ঘোমটা দেওয়া নারীরা? তারা কীভাবে সেদিন এত সাহসী হয়ে যুদ্ধ করেছেন। দেশকে স্বাধীন করতে কাজ করেছেন। তাদের কতজনের যুদ্ধের গল্প জানতে পেরেছে মানুষ! যে গল্পগুলোর শেষ নেই। বছর, যুগ ও শতবর্ষ পার হবে, মুক্তিযুদ্ধের গল্প ও স্মৃতি ফিরে ফিরে আসবে।
মুক্তিযুদ্ধের পর অনেক বছর পেরিয়ে গেছে তারপরও যুদ্ধদিনের স্মৃতিগুলো মনে করিয়ে দিতে চাই তরুণদের। যাদের কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা। আমার বিশ্বাস এ গল্পগুলো তাদের দেশপ্রেমিক হতে প্রেরণা জোগাবে, বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করবে।
অধ্যাপক মাহফুজা খানম : শিক্ষাবিদ, নারীনেত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা
