ছেলের লাশের পাশে কাঁদতে কাঁদতে মায়ের মৃত্যু

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২২, ০২:১১ এএম

বেশ কিছুদিন ধরেই দুরারোগ্য ক্যানসারে ভুগছিলেন ছেলে অমল রায় ওরফে হাম্বু (৪৮)। অসুস্থ অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। ছেলের মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে বাড়ির উঠোনে ছেলের লাশের পাশে বসে বিলাপ করতে করতে এক ঘণ্টার মাথায় সাড়ে ৭টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তার মা শোভা রায় (৮০) নিজেও। এ ঘটনা ঘটেছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের বয়ড়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামে।

গ্রামবাসীর ধারণা, ছেলের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে শোভা রায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এক ঘণ্টার ব্যবধানে মা-ছেলের এমন মৃত্যুতে পরিবারটিতে বইছে শোকের মাতম। একই সঙ্গে এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমেছে।

মারা যাওয়া অমল রায় আন্ধারমানিক গ্রামের প্রয়াত ননী গোপাল রায়ের ছেলে। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

আন্ধারমানিক গ্রামের একাধিক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে জানান, অমল রায় ওরফে হাম্বু ও তার ভাই বিমল রায় লেছড়াগঞ্জ বাজারে বাইসাইকেল মেরামত ও যন্ত্রাংশ বিক্রি করতেন। অমল রায় বেশ কিছুদিন ধরেই ক্যানসারে ভুগছিলেন। গতকাল সকালে হঠাৎ করে মারা যান তিনি। পরে লাশের পাশে বসে মা শোভা রায় কাঁদতে কাঁদতে একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এছাড়া অমলের বড় ভাই বিমল রায়ের স্ত্রীও কাঁদতে কাঁদতে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

গতকাল সকালে আন্ধারমানিক গ্রামে অমল রায়ের বাড়িতে গিয়ে মারা যাওয়া দুজনের মরদেহ উঠানে পাশাপাশি রেখে বিলাপ করতে দেখা যায় আত্মীয়স্বজনদের। দুপুরের পরপর মা-ছেলের শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত