নাবিক ছেলের পথ চেয়ে নির্বাক সাতক্ষীরার ‘এখানেই নোঙর’

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২২, ১২:১৮ এএম

উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা নিয়ে নীরবতায় ঢাকা পড়েছে সাতক্ষীরার ‘এখানেই নোঙর’নামের বাড়িটি। গত কয়েক দিন ধরে বাড়িটির শিশু থেকে বয়স্ক সবার মুখ থেকে যেন হারিয়ে গেছে সব হাসি।

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই বাড়ির নাবিক সন্তান ক্যাপ্টেন মনসুরুল আমিন খান (৩৬) ইউক্রেনে আটকা পড়ায় বাড়িটির অন্য সদস্যদের মুখের ভাষাও হারিয়ে গেছে।  

সরেজমিনে শুক্রবার সাতক্ষীরা শহরের নারকেল তলার ‘এখানেই নোঙর’ বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মনসুরুলের মা মর্জিনা খানম শোকে পাথর হয়ে গেছেন। আর শোকাতুর স্ত্রী আশরুকা সুলতানা হয়ে আছেন নির্বাক নীরব নিথর। বাবা সেলিম খান নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা করেও চোখের পানি আড়াল করতে পারছেন না।

বাবা অবসরপ্রাপ্ত বিএডিসি কর্মকর্তা নুরুল আমিন খান ওরফে সেলিম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার ছেলে মনসুরুল আমিন খান ওরফে গিনি ইউক্রেনে সিরামিক নামাতে গিয়ে আটকা পড়েছেন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে নয়টার দিকে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দর জলসীমায় নোঙর করে রাখা এমভি বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজের তৃতীয় প্রকৌশলী মো. হাদিসুর রহমান নিহত হন। বৃহস্পতিবার রাতে (বাংলাদেশ সময়) জাহাজটি থেকে ২৮ নাবিকে ইউক্রেনের নিরাপদ একটি স্থানে স্থানান্তর করা হয়।

বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজের অতিরিক্ত ক্যাপ্টেন মনসুরুল ওরফে গিনি ওই ২৭ নাবিকের একজন উল্লেখ করে সেলিম খান বলেন, তারা এখন বাংকারে অবস্থান করছেন। সামান্য শুকনো খাবার খেয়েই কাটছে তাদের।

তিনি জানান, শুক্রবার ছেলে গিনির সাথে কথা হয়েছে, মেসেজও পেয়েছি। তারা আরও নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও চারদিকে মাইন বসানো আর দূরত্বের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

সেলিম খান বলেন, ছেলে কেমন আছে, কী খাচ্ছে- তা নিয়ে আমাদের ভাবনার শেষ নেই। পরিবারের সবার খাওয়া-ঘুম হারিয়ে গেছে। আছে শুধুই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা।

ক্যাপ্টেন মনসুরুল আমিন খানের তিন সন্তানের মধ্যে যমজ ফাহিমি ও ফারহান (১০) এবং ছোট ছেলে ফারদিন (৩) তাকিয়ে আছে বাবার পথ চেয়ে। তাদের মুখেও নেই হাসির দেখা।

বাবা সেলিম খান ও তার পরিবার তাদের নাবিক ছেলে গিনিকে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত