মনে হয় না আমার পক্ষে এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সম্ভব: সাকিব

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২২, ১০:১৩ পিএম

মানসিক এবং শারীরিকভাবে যে অবস্থায় আছেন, তাতে এই মুহূর্তে নিজেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্য উপযুক্ত মনে করছেন না সাকিব আল হাসান। তাই আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে ছুটি নিতে চান এই অলরাউন্ডার।

আফগানিস্তান সিরিজ শেষ করে রবিবার ব্যক্তিগত কাজে দুবাই উড়ে গেছেন সাকিব। যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাকিব এসব কথা বলেন।

সাকিব সদ্য শেষ হওয়া আফগানিস্তান সিরিজে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশার কথা জানান। সেই সঙ্গে বলেন, এখন ক্রিকেট খেলার মতো মানসিক অবস্থায় তিনি নেই।

সাকিবের কথায়, ‘আমি যখন ক্রিকেটটা উপভোগ করতে না পারি, সেটা আমার জন্য দুঃখ জনক। আমি এই জিনিসটা চাই না কখনো।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-১ ড্র হয়। ব্যাটে বলে সাকিব তেমন ভালো কিছু করতে পারেননি দুই সিরিজেই।

ওয়ানডে সিরিজে তিন ম্যাচে সাকিবের রান মাত্র ৬০, সর্বোচ্চ ৩০। উইকেট নিয়েছেন ৫টি। দুই টি-টোয়েন্টিতে সাকিবের সংগ্রহ ছিল ১৪, উইকেট ২টি।

নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে বলতে গিয়ে সাকিব বলছেন, আফগানিস্তান সিরিজে নিজেকে একজন ‘প্যাসেঞ্জার’ বলে মনে হয়েছে তার।

সাকিবের কথায়, ‘স্বাভাবিকভাবেই আমার ব্যক্তিগত দিক থেকে চিন্তা করলে অবশ্যই হতাশা জনক। আমার নিজের প্রতি নিজের যে প্রত্যাশা কিংবা মানুষ যেভাবে চায়, বিসিবি যেভাবে চায়, অবশ্যই ওভাবে (পারফরম্যান্স) করতে পারিনি। আমি হতাশ।’

আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে জানতে চাইলে সাকিব বলেন, ‘আমি মানসিক এবং শারীরিকভাবে যে অবস্থায় আছি, আমার কাছে মনে হয় না এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলটা সম্ভব খুব একটা। এ কারণে আমার কাছে হয়, আমি যদি একটা ব্রেক পাই, ওই আগ্রহটা ফিরে পাই, তাহলে আমার জন্য খেলাটা সহজ হবে।’

সাকিব বলে যান, ‘কারণ, আফগানিস্তান সিরিজে যেটা আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি একজন প্যাসেঞ্জার। যেটা আমি কখনোই চাই না। আমি খেলাটা একদমই উপভোগ করতে পারিনি। আমি চেষ্টা করেছি কিন্তু হয়নি। আমার কাছে মনে হয় না এমন মনমানসিকতা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ খেলা ঠিক হবে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুসের সঙ্গে আলাপ করেছেন বলে জানান সাকিব।

সাকিব বলেন, ‘আমি এই কথা জালাল ভাইয়ের সঙ্গে আলাপ করেছি আজকে। উনি বলেছেন, দুই দিন উনি চিন্তা করবেন, আমাকেও চিন্তা করার সময় দিয়েছেন। তার পর একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বা হবে বলে আমি মনে করি।’

সাকিব যোগ করেন, ‘এখন যেমনটা মনে হচ্ছে, যদি এ রকম মন মানসিকতা থাকে, ফিজিক্যাল কন্ডিশন থাকে, মেন্টাল কন্ডিশন থাকে, তবে সেটা দলের জন্যই ক্ষতি হবে।’

সাকিব আরো বলেন, ‘আমি যেটা মনে করি, আমার নিজের প্রতি নিজের যে প্রত্যাশা, মানুষ যে ধরনের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করে, সেটা যদি আমি করতে না পারি, সেখানে প্যাসেঞ্জার হয়ে থাকাটা খুবই দুঃখজনক হবে। টিমমেটদের সঙ্গে চিট করার মতো ব্যাপার হবে বলে আমি মনে করি।’

দীর্ঘ মেয়াদে বিরতি নিতে চান কিনা জানতে চাইলে সাকিব বলেছেন, ‘১৫-২০ দিনের মধ্যেও আমার মধ্যে পরিবর্তন আসতে পারে।… হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে না খেলে টেস্ট খেলা যদি ভালো হয়…।’

তাই এখনই কত দিনের বিরতি চান সেটা নির্দিষ্ট করে বলতে চাননি সাকিব। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর শ্রীলঙ্কা সিরিজে তাকে পাওয়া যাবে কিনা সেনিয়েও এখনই মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বরং সাকিব এভাবে বলেছেন, ‘আমি একদম পুরো ওপেন মাইন্ডে আছি। এখন আমি ক্রিকেট খেলার সিচুয়েশনেই নাই। আমি যখন সিচুয়েশনে আসব, অবশ্যই চাইব ক্রিকেট খেলতে।’

‘সবকিছু নির্ভর করছে অবশ্যই বিসিবি এবং আমাদের… দুই জায়গার মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সিচুয়েশন তৈরি করা, যেখানে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও ভালো হবে, আমার জন্যও ভালো হবে।’

সাকিবের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে খেলা নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে অনেক। আইপিএলে খেলার জন্য এই সফরের টেস্ট সিরিজ থেকে ছুটি নিয়ে রেখেছিলেন তিনি। পরে অবশ্য আইপিএলে দল পাননি। বিসিবি সভাপতি আফগানিস্তান সিরিজের মাঝেই জানান, সাকিব দুই ফরম্যাটেই খেলবেন। কদিন আগে সাকিবকে দুই ফরম্যাটে রেখেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলও ঘোষণা করে বিসিবি।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। ১২ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে টাইগাররা। তিন ম্যাচ সিরিজের ওয়ানডেগুলো হবে ১৮, ২০ ও ২৩ মার্চ। প্রথম টেস্ট ৩১ মার্চ থেকে, দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৮ এপ্রিল থেকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত