৭ মার্চের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

শুধু বাংলাদেশ নয় সব দেশেই দ্রব্যমূল্য বেড়েছে

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২২, ০৭:১৩ এএম

করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতির অবস্থা মন্দা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ে কথা আসছে। এটা সারা বিশ্বের সমস্যা। করোনা মহামারীর কারণে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা। যার কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে সব দেশেই দ্রব্যমূল্য ভীষণভাবে বেড়েছে। এর মধ্য যুক্ত হয়েছে অনাকাক্সিক্ষত একটি ঘটনা (যুদ্ধ)। ইউক্রেনে হামলা করেছে রাশিয়া। এরও একটা কুফল তো আছেই। সেই কুফল আমরাও ভোগ করছি। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এখানেও কিছু দ্রব্যমূল্য বেড়েছে।’

গতকাল সোমবার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমাদের কিছু লোক তো আছেই, সুযোগ পেলেই অধিক মুনাফা নিয়ে কিছু টাকা-পয়সা কামাই করে নিতে চান। আমরা সেটা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি দেশবাসী, আমাদের দলের নেতাকর্মীসহ সবাইকে বলব, খাদ্যের অভাব যাতে না হয়, সেজন্য প্রতি ইঞ্চি জমি আবাদ করবেন, অনাবাদি যেন না থাকে। নিজের খাদ্য নিজে উৎপাদনের চেষ্টা করবেন, নিজের চাহিদা মেটাবেন’।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রান্ত অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আগে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী। তিনি ঐতিহাসিক ৭ মার্চের স্মৃতিচারণ করে দেওয়া বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বলেন, ‘আজ এই প্রজন্ম অনেক কিছু দেখবে, তারা উপগ্রহে কেন, ভিন্নগ্রহেও যাবে। কিন্তু আমি তাদের বলব, তোমরা সেই ভাষণ শুনতে পাবে না। আমাদের সেই সৌভাগ্য; যেটা আমরা পেয়েছি সেটা তোমাদের জীবনে আর আসবে না। কিন্তু তোমাদের জন্য নতুন সৌভাগ্য বঙ্গবন্ধু দিয়ে গেছেন। তারই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আমাদের জন্য রেখে গেছেন।’

মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আলোচনায় সবশেষ সভাপতির বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ঘোষণার সময় বলেন, ‘এবার আমাদের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, এবার আপনাদের সামনে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করবেন আজকের সভার সভাপতি, আমাদের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা, বাংলার ১৮ কোটি মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার শেষ ঠিকানা, চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ....।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলে ওঠেন, ‘বিশেষণ কমাও...’। সঞ্চালক তারপরও আরও কিছু বিশেষণ বলতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী ধমকের সুরেই বলেন, ‘রাখো না’।

জনগণ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের খাদ্যের যেন অভাব না হয়। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। যে যা পারবেন কিছু উৎপাদন করবেন। নিজের চাহিদা, নিজেই পূরণ করতে চেষ্টা করবেন। নিজের খাদ্য নিজেই জোগান দিতে চেষ্টা করবেন। যদি এটা আমরা করতে পারি, তাহলে আমাদের আর কারও মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের মাথাপিছু আয় তো বৃদ্ধি পেয়েছে। বিএনপির আমলে কতই-বা ছিল। আজ আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৫৯১ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। সেই সঙ্গে সবাইকে বলব যার যেখানে যতটুকু জমি আছে। সবাই কিছু না কিছু ফসল ফলান। তরি-তরকারি ফলান। নিজের খাবারের ব্যবস্থা নিজে তৈরি করেন। যেকোনো রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ হোক, যুদ্ধাবস্থা হোক বা যেকোনো ঘটনা হোক, অন্তত আমাদের দেশের মানুষের খাদ্যের অভাব না দেখা দেয়। সেটাই আমাদের চেষ্টা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পরে আমরা পুষ্টির ব্যবস্থা করেছি। বিনা পয়সায় চিকিৎসা ও বই দেওয়া। সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা করে যাচ্ছি।’

আলোচনা সভাটি গণভবন থেকে সঞ্চালনা করেন প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, শ্রম ও জনশক্তি সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত