চার রাজ্যে বিজেপি, পাঞ্জাবে কেজরিওয়ালের বাজিমাত

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২২, ০২:৪৮ এএম

ভারতের পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন নিয়ে ছিল নানা জল্পনাকল্পনা। বিশেষ করে কভিড বাস্তবতা,কৃষক আন্দোলন এবং বিরোধী দলগুলোর জোট গঠনের কারণে বিজেপি ভোটের মাঠে হালে পানি পাবে না, এমনটাই ধারণা ছিল অধিকাংশের। কিন্তু ভোটের রাজনীতি বলছে ভিন্ন কথা। ভোট হওয়ার পর পাঁচ রাজ্যের চারটিতেই বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তারচেয়েও বড় খবর, কংগ্রেসের ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত পাঞ্জাবে জয় পেয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়াল নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টি। অবশ্য সাত দফা ভোট পর্বের শেষ দিনে বুথফেরত জরিপেও বিজেপির এগিয়ে থাকার বিষয়টিই উঠে এসেছিল। গত বুধবারও প্রকাশিত সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজ (সিএসডিএস) ও লোকনীতির জরিপ অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশে বিজেপি ৪৩ শতাংশ ভোট পেয়ে বিপুলভাবে জয়ী হচ্ছে। সমাজবাদী পার্টি পাচ্ছে ৩৫ শতাংশ ভোট। বহুজন সমাজ পার্টির ভোট কমে হচ্ছে ১৫ শতাংশ। কংগ্রেসের ভোট ৬ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়াবে ৩ শতাংশে। ২০১৭ সালের বিধানসভা ভোটে উত্তর প্রদেশে বিজেপি ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিজেপি উত্তরপ্রদেশে ২৬৮, উত্তরাখণ্ডে ৪৮, গোয়ায় ২০ এবং মনিপুরে ৩২টি আসন পেয়েছে। পাঞ্জাবে আম আদমি পার্টি পেয়েছে ৯২টি আসন। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি দেশটির সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের। কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশে ২, পাঞ্জাবে ১৮, উত্তরাখন্ডে ১৮, গোয়ায় ১২ এবং মনিপুরে পেয়েছে মাত্র ৪টি আসন।

ভারতের রাজনীতিতে উত্তরপ্রদেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। বলা হয়, ভোটের ময়দানে উত্তরপ্রদেশ যার, গোটা দেশের ভোটব্যাংকও তার। আর এবার উত্তরপ্রদেশে বিজেপি জয়ের মধ্য দিয়ে রাজ্যটিতে ফের মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছে মোদি সরকারের সবচেয়ে বিতর্কিত নেতা যোগী আদিত্যনাথ। যোগী আদিত্যনাথ হতে চলেছেন সেই বিরল রাজনীতিক, উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গোবিন্দবল্লভ পন্থ ও সম্পূর্ণানন্দর পর যিনি পরপর দুবার মুখ্যমন্ত্রিত্ব লাভ করবেন। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪ সালের মধ্যে পন্থ দুবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। আর সম্পূর্ণানন্দ ১৯৫৪ থেকে ১৯৬০ মধ্যে। দুজনই ছিলেন কংগ্রেসের অবিসংবাদিত নেতা।

কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপি, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, এনসিপি, জেডি (ইউ), তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেডি, ওয়াইএস আর কংগ্রেস, রাষ্ট্রীয় তেলেঙ্গানা সমিতি বা তামিলনাড়–র দুই দ্রাবিড় দল যা পারেনি, আম আদমি পার্টি তা করে দেখাল। দিল্লির পর পাঞ্জাবের মতো বড় রাজ্য দখলই শুধু করল না, গোয়া ও উত্তরাখ-ে পদচিহ্ন রাখার মধ্য দিয়ে বুঝিয়ে দিল, আগামী দিনে তারা জাতীয় পর্যায়ে বিকল্প হওয়ার দাবি নিয়ে এগোচ্ছে। সেই কারণে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে বিজেপির জয় যতটা বিস্ময়কর, ততোধিক অবাক উত্থান আম আদমি পার্টির উপস্থিতি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত