জামালপুরের মেলান্দহে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার পূর্ব শাহাজাতপুরের বাড়ি থেকে আশামণি (১৫) নামের ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে সময় তামিম আহম্মেদ স্বপন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে ‘আটকে রেখে নির্যাতনে’র অভিযোগ করে আশার লেখা একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ধর্ষণের শিকার হয়েই আশা আত্মঘাতী হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের মো. খোকা মোল্লার ছেলে তামিম আহম্মেদ স্বপন শাহাজাতপুরের মো. আবু মিয়ার মেয়ে ও মালঞ্চ এম এ গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আশামণিকে স্কুলে যাতায়াতের পথে বিরক্ত করত। বৃহস্পতিবার সকালে তামিম আশামণির বান্ধবী বুলবুলি, মিথিলা ও শায়লাকে দিয়ে মোবাইলে ফোন করে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সাধুপুর কান্দাপাড়ার একটি বাড়িতে দিনভর আটকে রাখে তাকে। এরপর বিকেল ৩টায় আশামণি বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে আশামণির মা জানালা দিয়ে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
পুলিশ জানায়, আশামণির ঘরে দুটি চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘তামিম আমাকে সারাদিন এক রুমে আটকাইছে। তামিম আমাকে খুব ডিস্টার্ব করত ও আমাকে বলেছে ওর সাথে দেখা করলে সে আমার জীবন থেকে চলে যাবে। কিন্তু ও আমার সাথে খুব খারাপ কিছু করেছে যা বলার মতো না’।
মেলান্দহ থানার ওসি এম এম ময়নুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় শুক্রবার সকালে আশামণির বাবা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আর ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কিনা তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বলা যাবে।
