উচ্ছেদের সপ্তাহ পর ফের দখল

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২২, ০৬:৫২ এএম

উচ্ছেদের এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই ফের দখল হয়ে যাচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (রাজউক) সম্প্রসারিত উত্তরা (তৃতীয় পর্ব) প্রকল্পের বেশ কিছু এলাকা। উত্তরা ১২ নম্বর খালপাড় থেকে দিয়াবাড়ি গোলচত্বর পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকার অধিকাংশ আবারও অবৈধ দখলকারীদের কবলে চলে গেছে। ছোট-বড় নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বসেছে সেখানে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের এক নেতা টাকার বিনিময়ে ফের অবৈধ দখলদার বসিয়েছেন।

এক সপ্তাহ আগে রাজউক ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে সেখানে। তখন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় শতাধিক স্থাপনা। দখলমুক্ত করা হয় ফুটপাতসহ রাজউকের জমিতে থাকা নানা স্থাপনা। কিন্তু এখন এক সপ্তাহ পরেই ফের পুরনো চেহারায় ফিরে এসেছে ১২ নম্বর খালপাড় থেকে দিয়াবাড়ি গোলচত্বর এলাকা।

গত রবিবার অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার ও পিডি হাফিজুর রহমান। সে অভিযানে রাস্তার বড় অংশ অবৈধ দখলদারমুক্ত হয়। যদিও সে সময় অভিযানেও রাজউকের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন সেখানকার লোকজন।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় চলে যাওয়ায় তাদের অভিযোগ, ফুটপাত অবৈধভাবে দখলের পেছনে স্থানীয় সরকারদলীয় ও প্রভাবশালীদের প্রত্যক্ষ মদদ আছে, যার ফলে অভিযান পরিচালনা করেও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা যাচ্ছে না।

দিয়াবাড়ির বাসিন্দা আমজাদ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমন অভিযান আগেও হয়েছিল কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এবার রাজউক যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছিল। ভেবেছিলাম ভালো কিছু হবে। কিন্তু সেখানেও পক্ষপাতিত্ব করেছে রাজউক। যে কারণে অভিযান শুরু করার কথা ছিল ১০টায়, সেই অভিযান শুরু হয়েছে বিকেল ৪টায়। অনেক কিছু অপসারণ না করেই চলে যান তারা।

আরেক বাসিন্দা রাজিয়া খাতুন বলেন, এই সেক্টরে অধিকাংশ বাইরের লোকজন ঘুরতে আসে। প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরা ছিল এই জায়গাগুলো। এখন এখানে আছে ট্রাক স্ট্যান্ড, গাড়ির টায়ার বিক্রির অসংখ্য দোকান, গাড়ির গ্যারেজ, খাবার হোটেল, টং দোকান, ভাঙ্গারির দোকানসহ অন্যান্য দোকান।

একাধিক দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৮ থেকে ১৯টি মোটর পার্টসের দোকান আছে ওই সড়কের পাশে। প্রতি দোকান থেকে ১০ হাজার টাকা ভাড়া আদায় হয়। অন্যান্য দোকান, হোটেল, ভাঙ্গারি থেকে তোলা হয় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা করে। এছাড়া দোকানপ্রতি অগ্রিম দিতে হয় ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। সেই টাকা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির লোকজন ও তুরাগ থানা আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন ভাগ করে নেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে নূর হোসেনকে ফোন করলে তিনি এখন ব্যস্ত আছেন, পরবর্তীতে কথা বলবেন বলে জানান।

রাজউক কর্মকর্তা পিডি হাফিজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, উচ্ছেদ অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা যে অভিযানটি করেছি, সেই জায়গায় কেউ পুনরায় স্থাপনা করতে না পারে, সেজন্য থানা কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদেরকে আমরা চিঠি দিয়েছি। যারা স্থাপনা করবে পরবর্তী অভিযানে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, উত্তরা সেক্টরজুড়ে এই সপ্তাহে বেশকিছু অভিযান আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত