মতবিনিময়ে তথ্যমন্ত্রী

দেশি সংস্কৃতি-ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সুরক্ষার জন্যই নীতিমালা

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২২, ০৩:৩৩ এএম

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশের সংস্কৃতি ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর সুরক্ষার জন্যই সরকার নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন। অংশীজনরাও তাদের বক্তব্যে সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই নীতিমালা তৈরির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের কৃষ্টি, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু যেন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে না যায় এবং আমাদের সমাজ ও নতুন প্রজন্মকে বিপথগামী করতে পারে এমন কিছু যাতে আপলোড না হয়। আরেকটি উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিদেশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর আগ্রাসন থেকে দেশের প্ল্যাটফর্মগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া। একই সঙ্গে আমাদের সরকার চায় এই প্ল্যাটফর্ম এবং এর মাধ্যমে আমাদের বিনোদন ও সৃজনশীলতা আরও বিকশিত হোক।’

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয় উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘কেউ কেউ কেন যে এটিকে রাজনীতিতে টেনে আনেন! আশ্চর্যের বিষয়, মির্জা ফখরুল সাহেব ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন। এত বড় দলের মহাসচিব যিনি মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন, তিনি এগুলো গুলিয়ে ফেললেন দেখে আমার নিজেরই লজ্জা লেগেছে। তার পরামর্শকদের উচিত ছিল ঠিক পরামর্শ দেওয়া এবং তার নিজেরও জেনেশুনে কথা বলা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করি।’

নাট্যকার সংঘের সভাপতি এস এম হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আমি কী লিখছি, সে লেখাটা আমার শিল্প-সংস্কৃতি, আমার ইতিহাস। ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, ঐতিহ্যবোধ এবং দায়িত্ববোধের জায়গাটা সুদৃঢ় করার জন্য নীতিমালার প্রয়োজন।’ ডিরেক্টরস গিল্ড সভাপতি সালাহউদ্দীন লাভলু বলেন, ‘আমাদের যে ঐতিহ্য, আমাদের গৌরবোজ্জ্বল যে সংস্কৃতি, মূল্যবোধ এ সবগুলোই আসলে আমাদের নাটকের মাধ্যমে ওটিটি কনটেন্টে আমরা তুলে ধরতে চাই। সেজন্য সেখানে একটি জাতীয়ভাবে নীতিমালা অবশ্যই প্রয়োজন আছে।’

টেলিভিশন অ্যান্ড ডিজিটাল প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন দোদুল বলেন, ‘ওটিটির জন্য অবশ্যই নীতিমালা চাই, সেটা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী পূরণ করছেন। কারণ পেশাগত জায়গায় শৃঙ্খলা খুব দরকার।’

ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক এস এম কামরুজ্জামান সাগর বলেন, ‘ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। এটি আধুনিক প্রযুক্তির বিনোদন মাধ্যম। আমি নিজে এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নীতিমালার খসড়া তৈরির কাজে অংশ নিয়েছি এবং সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। অংশীজনদের নিয়ে খসড়া তৈরির জন্য সরকারকে ধন্যবাদ।’

চলচ্চিত্র নির্মাতা-পরিচালক ও গীতিকার এবং ডিরেক্টরস গিল্ড সদস্য এস এ হক অলীক বলেন, ‘যে চিন্তা থেকেই কেউ বলুক না কেন, নীতিমালার প্রয়োজন নেই এটি আসলে অবান্তর। অবশ্যই সেটার প্রয়োজনীয়তা আছে।’

টেলিপ্যাব সদস্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সরদার সানিয়াত হোসেন ওটিটি প্ল্যাটফর্মকে নীতিমালার আওতায় এনে আরও বিকশিত করার জন্য সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

আলোচনা শেষে এম নজরুল ইসলাম রচিত এবং সুবর্ণ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের রাজনীতি ও বঙ্গবন্ধু পরিবার’ এবং আইনজীবী ড. বশির আহমেদ সম্পাদিত ঝুমঝুমি প্রকাশন প্রকাশিত ‘জয় বাংলা জাতীয় শ্লোগান সুপ্রিম কোর্টের রায় ও পটভূমি’ গ্রন্থদ্বয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন এবং লেখক ও প্রকাশকদের অভিনন্দন জানান তথ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা বেগম, সুবর্ণ প্রকাশনীর কর্ণধার শাহরীন হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন ও এ এস এম নাজমুল হক, লেখক মোস্তফা কামাল পাশা প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত