বিভিন্ন কোম্পানি রাশিয়ায় তাদের সেবা প্রদানে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ‘পাইরেসি’ ‘বৈধ’ করছে দেশটি!
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, পশ্চিমা আর্থিক বিধিনিষেধের মোকাবিলা করতে এ পদক্ষেপ নেয় রুশ প্রশাসন।
ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া হামলা চালালে অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ করে পশ্চিমা দেশগুলো। এর ফলে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় পড়ে মস্কো।
এ প্রেক্ষিতে রুশ সরকারের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে জানিয়ে দেওয়া হয়, এবার থেকে দেশের কপিরাইট আইনে কিছু বদল আনা হলো। রাশিয়ার বন্ধু নয় এমন দেশের মেধাস্বত্ব চুরি করতে পারবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
রুশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আর্থিক সংকট মোকাবিলায় চলতি সপ্তাহে নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করে মস্কো। রুশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব ছিল, আর্থিক ক্ষতি কমাতে পাইরেসি সংক্রান্ত আইনে সংশোধন করা হোক।
তাদের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, বেশ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব ব্যবহার সংক্রান্ত বিধিনিষেধ লঘু করা হতে পারে। যে সব পণ্যের সরবরাহ রাশিয়ায় সীমিত, সেগুলোর ওপর আইনের সংশোধিত অংশ কার্যকর করা যেতে পারে।
রুশ বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই সংস্কারের ফলে দেশে পণ্য সরবরাহ আরো সুলভ ও সহজ হবে।
প্রসঙ্গত যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমের একাধিক দেশ রাশিয়ার ওপর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোয় শুধু যে রুশ অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নয়, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও বিরাট ধাক্কা খেয়েছে। পাইরেসি আইনের সংস্কার হলে এ সমস্যা অনেকটাই মিটবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল।
রুশ সংবাদমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত বেশ কিছু খবর প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, এত দিন মেধাস্বত্ব পেতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশ এবং সংস্থাকে দাম মেটাতে হতো। এবার থেকে রাশিয়ার সংস্থাগুলি আর তা করবে না। সোজা কথায় প্রয়োজনীয় মেধাস্বত্ব স্রেফ চুরি করে নেবে তারা। তবে এ নিয়ম কেবল কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
কাদের থেকে মেধাস্বত্ব চুরি করা যাবে, তার একটি তালিকাও তৈরি করে দিয়েছে রাশিয়া।
সেই তালিকায় নাম রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, গ্রেট ব্রিটেন, আইসল্যান্ড, কানাডা, মোনাকো, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান এবং অবশ্যই ইউক্রেনের।
এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলি থেকেও মেধাস্বত্ব চুরির ছাড়পত্র দিয়েছে মস্কো।
