পেসারদের নিয়ে কোন পরিকল্পনায় আগাতে চান? বাংলাদেশ পেসারদের মধ্যে কি পরিবর্তন আনতে চান?
ডোনাল্ড : আমি রাসেল ডমিঙ্গোর সঙ্গে খুব সিরিয়াসলি কথা বলেছি। সে বেশ কয়েকজন পেসারের নাম দিয়েছে। তবে আমি পরিকল্পনাটা করতে পারব তখনই যখন ওদের সামনা সামনি দেখব। পেস বোলিংটা খুবই কঠিন, এটা এমন না যে তুমি কত ভালো, এটা হলো তুমি কত ভালো হতে চাও। তো আমি বাংলাদেশের সঙ্গে ৯ মাস আছি এটা যেমন লম্বা সময় তেমনি অল্প সময়ও। এই সময়ে নিজের সব অভিজ্ঞতা ওদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই।
আপনাদের সময়ের পেস বোলিংয়ের সঙ্গে এখনকার বোলিংয়ের কি পার্থক্য দেখেন?
ডোনাল্ড : আসলে টি-টোয়েন্টি সাদা বলের খেলাটা পুরোপুরি পরিবর্তন করে দিয়েছে। আমি ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দুটো ভ্যারিয়েশন ব্যবহার করতাম অফকাটার সেøা বল ও ব্যাক অব দ্য হ্যান্ড সেøায়ার। কিন্তু এখন কমপক্ষে তিনটি ভ্যারিয়েশন রাখতে হয় আনপ্রেডিক্টেবল হওয়ার জন্য। যেমন ফিজ (মোস্তাফিজ), সে দারুণ স্মার্ট বোলার ও চালাক। এছাড়া কাটার, নাকল বল, ক্রস সিম ও আরও কত ভ্যারিয়েশন এখন ব্যবহার হয়। গত দুই বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি পেসাররা নিজেরা উদ্ভাবন করছে। আসলে এখন ক্রিকেটে সফল হওয়ার জন্য অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়েছে।
পাকিস্তানে সবসময়ই ভালো পেসার এসেছে। ভারত অনেক উন্নতি করেছে এই বিভাগে। বাংলাদেশ কেন এই বিভাগে পিছিয়ে?
ডোনাল্ড : যদি তুমি বাংলাদেশের মাটিতে হওয়া টেস্টে তাকাও তবে সেখানে স্পিনাররা বোলিং আক্রমণ ডমিনেট করে। এজন্য বাংলাদেশের পেসাররা ফ্ল্যাট উইকেটে বল করার সুযোগটা পায় না। আমার ক্যারিয়ারের অনেকটা সময় আমি ব্লুমফন্টেইনের ফ্ল্যাট উইকেটে খেলেছি। এমন উইকেটে বল করা সত্যিই কঠিন। এখানে কোন লেন্থে বল করতে হবে বা ওই অবস্থায় কী করতে হবে তা শেখা যায়। আমরা মনে করি, এই কালচারটা অনেক আগে থেকেই আসতে হয়। কারণ পাকিস্তানি পেসারদের যদি দেখেন তারা কিন্তু পাকিস্তানে সফল হয়েছে ওয়াকার, ইমরান, ওয়াসিম, শোয়েব। তারা কিন্তু পাকিস্তানের ফ্ল্যাট পিচে রিভার্স সুইং করা শিখেছে। তো এটা পুরোপুরি পেস বোলিং কালচারের ওপর নির্ভর করে।
কঠিন চাপের সময়ে বাংলাদেশ বা বাংলাদেশি পেসাররা ভালো করতে পারে না কেন?
ডোনাল্ড : এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করতে হবে। আমি যদি আমাদের কথা বলি, দল হিসেবে, প্রোটিয়াদের সবাই বলত চোকার। স্বীকার করতেই হচ্ছে আমরা চোকার ছিলাম। কারণ চাপের মুহূর্তে আমরা ভেঙে পড়তাম। তো আমাদের নিজেদের আগে চিনতে হবে। কেমন এবং কীভাবে আমরা আগাব। বাংলাদেশ পেসারদেরও সেইভাবে ভাবতে হবে। আমরা কারণটা খুঁজে পেলে তা উতরে ওঠা সহজ হবে।
১৯৯৯ সেমিফাইনালে ফিরে তাকাই, ওই রান নেওয়ার সময় আপনার কী চিন্তা ছিল?
ডোনাল্ড : ব্যাপারটা হলো এরকম মুহূর্তগুলোতে অনেক কিছুই ঘটে। প্রথম বিষয়, ওই ওভারের তৃতীয় বলে ড্যারেন লেহম্যান আমাকে রান আউট করেই ফেলেছিল প্রায়। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো আমাদের হাতে পরে আরও দুই বল ছিল। দৌড়ানোটা লান্সের (ক্লুজনার) সিদ্ধান্ত ছিল। এতে দোষের কিছু নেই। সে তখনই ম্যাচটা শেষ করতে চেয়েছিল। ওই দুটি কারণে, আমার না দৌড়ানোর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। আবারও যদি ওই মুহূর্ত আসে আমি রান নেব না, কারণ আরও ২ বল হাতে ছিল। আর হতাশা তাড়া করে কিনা? হ্যাঁ করেছিল, এবং এখনো খারাপ লাগে কিন্তু দীর্ঘদিন সেই হতাশা নিয়ে থাকার পর এখন মানিয়ে নিয়েছি আর খারাপ লাগে না।
কী মনে করেন, ওই সেমিফাইনাল জিতলে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ জিতত?
ডোনাল্ড : আমার হৃদয় সবসময়ই বলবে– হ্যাঁ। আমি যে চারটা বিশ্বকাপ খেলেছি তার মধ্যে ১৯৯৯’র আমাদের দলটাই সেরা ছিল। আমি এখনো বিশ্বাস করি পরের ম্যাচে লর্ডসে আমরা বিশ্বকাপটা জিততাম। ওই হতাশা আমাদের দীর্ঘদিন তাড়িয়েছে। এরপর বলতে পারি ২০১৫-তে আমাদের সবচেয়ে সেরা সুযোগ ছিল বিশ্বকাপ জেতার। কারণ ওই একটা বার আমাদের গায়ে চোকার শব্দটা লাগেনি।
