পুরনো ঢাকার হোসেনি দালানে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুজনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া ছয়জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় দেন।
মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামির মধ্যে আরমানকে ১০ বছর কারাদণ্ড ও কবির হোসেনকে সাত বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় আদালত।
দন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি দোষ স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধায়ায় জবানবন্দি দিয়েছিল।
মামলায় খালাস পাওয়া ছয়জন হলেন ওমর ফারুক মানিক, হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ, শাহজালাল মিয়া, চান মিয়া, রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব, আবু সাঈদ রাসেল ওরফে সোলায়মান ওরফে সালমান ওরফে সায়মন ও রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব ওরফে সুমন।
এই আটজনের মধ্যে কবির হোসাইন, সজীব ও আরমানকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। জামিনে থাকা বাকি পাঁচজনও রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকার মহানগর আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আব্দুল্লাহ আবু সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা রায়ে সন্তুষ্ট না। আমরা আপিল করব।’
তদন্ত কর্মকর্তার গাফিলতির বিষয়ে আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘মামলাটা আরও সচেতনভাবে তদন্ত করা উচিত ছিল। মনে হয় তার কিছুটা গাফিলতি আছে।’
অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, ‘এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে দুই আসামির সাজা না হয়ে খালাস পেলে আরও খুশি হতাম।’
২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাতে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় হোসেনি দালানে বোমা হামলা হয়। এতে দুজন নিহত ও শতাধিক লোক আহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত দুটি বোমা (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস-আইইডি) উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি চকবাজার থানা পুলিশ তদন্ত করে। পরে এর তদন্তভার পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়।
তদন্ত শেষে ডিবি দক্ষিণের পুলিশ পরিদর্শক মো. শফিউদ্দিন শেখ ২০১৬ সালের এপ্রিল জেএমবির ১০ জঙ্গিকে আসামি করে অভিযোগপত্র অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান।
২০১৭ সালের ৩১ মে এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ হয়েছিল। পরে মামলাটি ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ২০১৮ সালের ১৪ মে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বদলি হয় এ মামলা।
মামলার নথি অনুযায়ী, হোসাইনী দালানে হামলায় জেএমবির ১৩ জঙ্গি জড়িত ছিল। এদের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযানের সময় তিনজন কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আবদুল্লাহ বাকি ওরফে নোমান ছিলেন হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। হামলার আগে ১০ অক্টোবর তারা বৈঠক করে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। ঘটনাস্থলে ছিলেন আরমান, কবির হোসেনসহ তিনজন। আরমান পরপর পাঁচটি বোমা নিক্ষেপ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। হামলার পর আশ্রয় নিতে কামরাঙ্গীর চরে তিনিই বাসা ভাড়া করেন।
