কেরালায় বাঁধনের অন্যরকম অভিজ্ঞতা

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২২, ১০:৫৩ পিএম

‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর জয়যাত্রা এখনো অব্যাহত। এই ছবির কল্যাণে এখন ভারতের কেরালায় অবস্থান করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৬তম আন্তর্জাতিক কেরালা চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে ছবিটি। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের কোনো সিনেমা দিয়ে এবারই প্রথম শুরু হয়েছে এই উৎসব। অর্থাৎ রেহানাই এই উৎসবের এবারের আসরের উদ্বোধনী ছবি। উৎসব শেষ হবে ২৫ মার্চ। এরমধ্যে রেহানার আরও দুটি প্রদর্শনী হবে আগামীকাল ট্যাগোর থিয়েটারে ও ২৩ মার্চ অজান্তা থিয়েটারে। প্রতিটি শো দর্শকের সঙ্গেই উপভোগ করবেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘এটা আমার জীবনের অন্যতম সুখকর অভিজ্ঞতা। এখানকার দর্শকের আমি বলব ম্যাজিক্যাল। আর্ট কালচারের প্রতি তাদের সম্মান প্রদর্শন দেখে আমি অবাক! এর আগেও রেহানা নিয়ে আমি বিশে^র অনেক বড় বড় জায়গায় গেছি। কিন্তু কেরালার অভিজ্ঞতা সত্যিই অন্যরকম। একটি ওপেন এয়ার অডিটটোরিয়ামে তিন হাজার দর্শকের বসার ব্যবস্থা। নিখুঁত সাউন্ড সিস্টেম আর টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট। রেহানা এতোবার ছবিটি দেখলেও এবারই যেন প্রথম ব্যাকগ্রাউন্ডগুলো এতো নিখুঁতভাবে শুনলাম। হাজার হাজার দর্শক ছবিটি দেখেছেন। কিন্তু শো চলাকালে যেন পিনপতন নীরবতা ছিল। একজন দর্শকও উঠে চলে যাচ্ছে না, ফোন দেখছে না কিংবা পাশের জনের সঙ্গে কথা বলছে না। সবাই যেন সিনেমাতে বুঁদ ছিল। এমন দর্শকের জন্যই তো সাউথ ইন্ডিয়ার সিনেমা আজ এত ভালো অবস্থানে। তারা সেখানকার আর্টিস্টদের যে কীভাবে সম্মান করে তা না দেখলে বোঝা যাবে না। আমাকে তো সেখানকার কেউ চেনে না। তারপরও যে আন্তরিকতা ও সম্মান তারা দেখিয়েছে, যা আমার পুঁজি হয়ে সঙ্গে ফিরবে। আমি আসলে অত্যন্ত ভাগ্যবতী যে এ ধরনের অভিজ্ঞতা এক জীবনে লাভ করলাম।’ 

সাধারণত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ টিমওয়ার্কে বিশ্বাসী। তারা একসঙ্গে সব জায়গায় যেতে পছন্দ করেন। কিন্তু এবারই ঘটল ব্যতিক্রম। কারণ কেরালা উৎসবে বাঁধন একাই হাজির হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই উৎসবে শুধু পরিচালক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ আর আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সবাই জানেন, সাদ কতটা নিভৃতচারী। কিন্তু আমি একেবারেই উল্টো। আমি চাইনি এমন কোনো অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হতে যেটা আমাকে সমৃদ্ধ করবে। কারণ আমি খুবই সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা একটি মেয়ে। স্বপ্নগুলোও ছিল খুব সাধারণ। তারকাখ্যাতি পাওয়ার পরও খুব সাধারণভাবেই সাধারণ মানের কাজই করেছি। কিন্তু রেহানা আমাকে অসাধারণ কিছু প্রাপ্তি এনে দিয়েছে। এজন্য আমি একাই চলে এসেছি কেরালা।’

যাত্রার অভিজ্ঞতা বেশ মজার ছিল বলে জানালেন বাঁধন, ‘আমার ফ্লাইট ঠিক যে সময় পৌঁছানোর কথা, সে সময়ে পারিনি। তাই চিন্তায় ছিলাম ঠিক সময়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে পারব কি না। এত লম্বা জার্নি একাই পার করেছি। প্রথমে কলকাতা, সেখান থেকে ব্যাঙ্গালুরু। ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হওয়ায় এয়ারপোর্ট থেকেই আমি রেডি হয়ে যাই। দেশ থেকেই কী পরব, কীভাবে সাজব তা পরিকল্পনা করা ছিল। এবারের দারুণ শাড়িটি ডিজাইন করেছেন ঢাকার ডিজাইনার নাসরিন সুমি। তিনি এর আগে আমার কানের রেড কার্পেটে পরা মসলিনের পোশাকটি ডিজাইন করেছিলেন। তার প্রতিটি ডিজাইনই আমাকে অনেক প্রশংসা এনে দিয়েছে। এবারও সবাই খুব পছন্দ করছেন। যাই হোক, ব্যাঙ্গালুরু এয়ারপোর্টে এসে দেখি আমার ফ্লাইটমেট বলিউডের খ্যাতিমান নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপ। এমনকি আমরা পাশাপাশিই বসেছিলাম। এজন্য জার্নিটা আরও ভালো লেগেছে। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী ও জেন্টলম্যান। নারীকে প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে শিখেছেন পরিবার থেকেই। তার সঙ্গে যেহেতু কান উৎসবেই পরিচয়, তাই আমাদের আলোচনাও খুব ভালো ছিল। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে যখন তিনি বললেন, বিশাল ভরদ্বাজের খুফিয়াতে আমার কাজ খুব পছন্দ করেছেন। যেহেতু অনুরাগ কাশ্যপই বিশালের সঙ্গে আমার যোগাযোগ করিয়ে দেন, তাই তিনিও আমার জন্য সম্মানবোধ করেছেন বলে জানালেন। কেরালা উৎসবে গিয়েও আমাকে অনেকের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, আমার ছবি কানে কতটা প্রশংসা কুড়িয়েছে। আমি খুব ভালো অভিনেত্রী, বিশাল ভরদ্বাজের ছবিতে কাজ করেছি- এসব নিজ থেকেই সবাইকে বলছিলেন।’

বাঁধন সর্বশেষ বিশাল ভরদ্বাজের ‘খুফিয়া’ সিনেমার শেষ অংশের কাজ শেষ করেছেন। তিনি জানালেন, শেষের বার কাজ করতে গিয়েও বলিউডের অন্যতম মেধাবী অভিনেত্রী টাবুর সান্নিধ্য পেয়েছেন। এমনকি টাবু তার জন্য বাসা থেকে ডেজার্ট তৈরি করেও এনেছিলেন। এই ছবিতে আলাদা করে ডাবিং হচ্ছে না। লোকেশনের সাউন্ডই রাখা হয়েছে। তার মানে বাঁধনের কণ্ঠেই হিন্দি সংলাপ শোনা যাবে। বিশাল ভরদ্বাজ বলেছেন, বাঙালির কণ্ঠে হিন্দি বেশ মিঠা লাগছে!

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত