ইউক্রেন যুদ্ধ ও খাদ্য নিরাপত্তা

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২২, ১০:০৭ পিএম

বলা হয়ে থাকে যে, যত সংগত কারণই থাকুক না কেন, যুদ্ধ কখনো কারও কল্যাণ বয়ে আনে না। যুদ্ধে যে পরাজিত হয়, সে তো শেষই হয়ে যায়, আর যে জয়লাভ করে তার অবস্থাও ত্রাহি ত্রাহি; শত্রুকে গলা পানিতে নামাতে হলে নিজেকে তো অন্তত কোমর পানিতে নামতে হয়। ভারতবর্ষে তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধে আহাম্মদ শাহ্ আব্দালি মারাঠাদের পরাজিত করেন ঠিকই, কিন্তু তার সামরিক অবস্থা এতই কাহিল হয়ে পড়ে যে, যুদ্ধে ক্ষান্ত দিয়ে তিনি অনেকটা ‘ছেড়ে দে মা কেন্দে বাঁচি’র মতো তড়িঘড়ি করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে ব্রতী হন। তবে ‘কারও সর্বনাশ, কারও পৌষ মাস’ বলে বাংলায় একটা প্রবচন আছে। এর অর্থ সর্বনাশের মধ্যেও কোনো কোনো পক্ষের ভালো প্রাপ্তিযোগ থাকে। যেমন : বিগত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে কোরিয়া যুদ্ধের সময় পাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতি স্ফীত হয়ে ওঠে, যদিও সেটা পূর্ববাংলার ভাগ্যোন্নয়নে তেমন কোনো কাজে লাগেনি; লেগেছিল পশ্চিমাদের শিল্পোন্নয়নে। আবার মিথ্যা অজুহাতে ইরাক যুদ্ধে আঙ্কেল শ্যামেরা সময়োত্তীর্ণ বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ নিষ্পত্তি করে মিত্রদের কাছ থেকে ভালো ক্ষতিপূরণ আদায়ের মওকা পেয়ে যান। তবে যুদ্ধে মানবিক বিপর্যয় সর্বব্যাপী; এ সময় ‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ করে, উলুখাগড়া প্রাণে মরে’। বিশেষ গোষ্ঠী বা কোটারির বিশেষ কোনো সুবিধাপ্রাপ্তি সেখানে গরু মেরে জুতাদান তুল্য।

এখন যুদ্ধ শুরু হয়েছে ইউরোপে, আমাদের দেশ থেকে যোজন যোজন কিলোমিটার দূরে; কিন্তু আমরা তার উত্তাপ থেকে অনাক্রম্য নই। এরই মধ্যে আমরা একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার এবং একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হারিয়েছি। যুদ্ধ শুরুর আগে করোনা-উত্তর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কাজে জ্বালানি তেল, গ্যাস, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), ভোজ্য তেল প্রভৃতি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছিল। যুদ্ধের গরম হাওয়ায় এখন তা বেলুনের মতো উল্লম্ফন দিয়ে আকাশ ছুটে চলেছে। কয়লা ধুলে ময়লা যায় না ঠিকই, কিন্তু দামে তা এখন মহার্ঘ; বিগত বছর যার দাম ছিল টনপ্রতি ৬০ ডলারের নিচে, তা এখন ৩০০ ডলারের ওপরে। কয়লাচালিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নিশ্চয়ই এর উত্তাপ আত্মভূত করার পর তা আবার মানুষের মধ্যে বিকিরণ করবে। এসবের চূড়ান্ত প্রকোপ গিয়ে পড়বে বেচারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর। বিগত জানুয়ারি মাসে মার্কিন মুলুকে মুদ্রাস্ফীতি ৪০ বছরের রেকর্ড ভেঙে উঠে যায় ৭ শতাংশের ওপরে, এটা ১০ শতাংশে ওঠার আশঙ্কা করছেন অনেকে। বাংলাদেশেও মুদ্রাস্ফীতির মাত্রাও অনুরূপ মনে করা হয়, যদিও সরকারি হিসাব বলে যে, ওটা এখনো ৬ শতাংশের নিচে।

আমরা আগে ছিলাম বন্ধদ্বার নীতির অনুসারী, অগম্য ও দরিদ্র। ফলে পণ্যমূল্যের বৈশ্বিক উদ্বায়িতার জ্বালাতন দেশে তেমন একটা বোঝা যেত না। কিন্তু বৈশ্বিক সংশ্রবে আমাদের দেশও এখন ধন্য, তার দ্বার অবারিত। আমরা আর স্বল্পোন্নত দেশ নই; দ্রুত গতিসম্পন্ন উন্নয়নশীল দেশ। রপ্তানি বাড়াতে কাঁচামাল আমদানি করা যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি নব্য ধনিক শ্রেণির খায়েশ মেটাতে বিলাস সামগ্রীর আমদানি। দেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য হিসেবে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গম আমদানির কথা নাই বা বললাম। ফলে বৈশ্বিক উদ্বায়ীর লহরী প্রভাব দেশে ভালোই অনুভূত হচ্ছে। আর সেটা দৃশ্যমান হচ্ছে টিসিবি পরিচালিত ট্রাক সেলের লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হওয়া থেকে।

ইউক্রেন-রাশিয়া ফেডারেশন ইউরোপের রুটির ঝুড়ি (breadbasket of Europe) হিসেবে পরিচিত। এ দুটি দেশ থেকে বৈশ্বিক গম রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ। আইজিসির (International Grains Council) সর্বশেষ প্রাক্কলন অনুযায়ী রাশিয়া ও ইউক্রেনে এ বছর গম উৎপাদনের পরিমাণ যথাক্রমে ৭৫ মিলিয়ন ও ৩৩ মিলিয়ন টন। দেশ দুুটির গম রপ্তানির প্রাক্কলন আছে যথাক্রমে ৩৩.৫ মিলিয়ন ও ২৪.৫ মিলিয়ন টন। বিশ্বে ২০২১-২২ বছরে গম উৎপাদনের প্রাক্কলন রয়েছে ৭৯৫ মিলিয়ন টন এবং বাণিজ্যিক লেনদেনের প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৯৫ মিলিয়ন টন। রাশিয়া ও ইউক্রেনে এ পর্যন্ত ফসল ভালো ফলার খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু মধ্য মার্চে যে বসন্তকালীন গমের আবাদ শুরু হওয়ার কথা, যুদ্ধ শেষ না হলে তা বিঘ্নিত হবে।

রাশিয়ার ওপর আরোপিত সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা, চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনে অবকাঠামোর ক্ষতি, প্রধান প্রধান বন্দরে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি, আর্থিক লেনদেনে বাধা প্রভৃতি সমস্যায় এ দুটি দেশ থেকে উদ্বৃত্ত শস্যের কতটুকু বাইরে যেতে পারবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। অথচ চীন ছাড়া বিশ্বে যে পরিমাণ গম উৎপাদন হয়, তার পুরোটাই ভোগ ও নানাবিধ ব্যবহারে নিঃশেষ হয়ে যায়; এই পরিমাণটা কম-বেশি ৭৮০ মিলিয়ন টনের মতো। এর অর্থ হলো মিসরসহ বড় বড় গম আমদানিকারক দেশের সাময়িক ভিত্তিতে হলেও খাদ্য সংকটে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এখন বাংলাদেশও অন্যতম বড় গম আমদানিকারক দেশ; বছরে এখানে ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টন গম আমদানি করা হয়। তবে সুখের বিষয় এই যে, এই ক্রান্তিকালে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুদ রয়েছে; সরকারি ভাণ্ডারে এ মুহূর্তে মজুদ খাদ্যশস্যের পরিমাণ ১৮ লাখ টনেরও বেশি। তবে আত্মপ্রসাদের কোনো সুযোগ নেই; বিপুল জনসংখ্যার এ দেশে সময় থাকতে থাকতেই খাদ্য নিরাপত্তার নির্ভরযোগ্য উপায় বের করে রাখতে হবে।

অনেকেই ধারণা করেছিলেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না; স্বল্প সময়ের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনকে কাবু করে ফেলবে। ফলে এর প্রভাবও হবে ক্ষণস্থায়ী। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ওই হিসাবটা ছিল অতিমাত্রায় সরলীকৃত। রাশিয়া এখনো ইউক্রেনকে পদানত করতে পারেনি। এরই মধ্যে রাশিয়া থেকে চীনের কাছে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা চাওয়ার সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। তাতে মনে হচ্ছে, যুদ্ধ শেষ হতে আরও সময় নেবে। আর যুদ্ধ শেষ হলেও বিশ্ববাণিজ্যের পূর্বাবস্থায় ফিরতে যে অনেক সময় লাগবে তা নির্দ্বিধায় বলা যায়; আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেনে যেসব নিষেধাজ্ঞা বর্তমানে জারি আছে, সেগুলো তো যুদ্ধ বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উবে যাবে না।  

যুদ্ধ এলাকার বাইরে গমের বিকল্প উৎসের মধ্যে আছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আর্জেন্টিনা প্রভৃতি দেশ। সেসব দেশে আমাদের প্রতিযোগীরাও যাবেন। ভারতে গমের উদ্বৃত্ত আমাদের আমদানি পরিমাণের সামান্য কিছু বেশি; প্রায় ৭ থেকে ৮ মিলিয়ন টনের মতো। ভারত থেকে আমদানি সাশ্রয়ী ও কম সময়সাপেক্ষ। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ভারত আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ হলেও খাদ্যশস্যের মতো স্পর্শকাতর পণ্যের জন্য নির্ভরযোগ্য উৎস নয়। এজন্য আমদানির ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব উৎস বহুমুখীকরণে যত্নবান হতে হবে।

দেশের গম আমদানির প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। তাদের মালিকানাধীনে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য প্রক্রিয়াকরণ ও আধুনিক সংরক্ষণ সুবিধা গড়ে উঠেছে। বর্তমান যুদ্ধ-উদ্ভূত ক্রান্তিকালে আমদানিকারকরা কীভাবে সরবরাহ শিকলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার পরিকল্পনা করছে, চাহিদা মেটাতে সেগুলো পর্যাপ্ত কি না এবং তাতে সরকারি কোনো হস্তক্ষেপ প্রয়োজন আছে কি নাÑ এসব বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেওয়ার জন্য আমদানিকারকদের সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের জরুরি বৈঠক করা দরকার। তা ছাড়া, প্রতিনিয়ত আমদানি পরিস্থিতি মনিটর করাও জরুরি। মনিটরিং মানে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ দিয়ে শুধু কালোবাজারি ও মজুদদার ধরাধরি নয়; এটা হলো সর্বশেষ অবলম্বন। এতে অধিকাংশ সময় হিত করতে গিয়ে বিপরীত ফল হয়।

আসলে মনিটরিং অর্থ হলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমস্যা বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং সেই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে নিবিড় নজরদারি করা। কোনো একটি পণ্যের চাহিদা কত, স্থানীয় উৎপাদন কত, আমদানিযোগ্য পরিমাণ কত, আমদানিকারকদের সংখ্যা কত, তারা ঠিকমতো আমদানি করছে কি না, আমদানিতে কী সমস্যা, রাস্তাঘাটে যোগাযোগের বা চাঁদাবাজির কোনো সমস্যা আছে কি না, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কার্যকলাপ কেমন, কোনো সিন্ডিকেশন হচ্ছে কি না প্রভৃতি বিষয় নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ করা এবং বাজার যাতে সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় কাজ করতে পারে, তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সাধারণত সরকার বাজার দোমড়ানোর কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং বেসরকারি খাতকে দিয়েই বেশির ভাগ কাজ করিয়ে থাকে। সেখানে সরকারের প্রধান কাজ হয় উপযুক্ত কাঠামো ও প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে মনিটরিং নিশ্চিত করা। তবে বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের সুবিধার জন্য সরকারকে অবশ্যই বাজারে নির্দোষ হস্তক্ষেপ করতে হয়। 

করোনার অবরুদ্ধ সময় বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্যশস্যের ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করে। এটা সম্ভব হয়েছিল কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ফসল ঘরে তুলতে সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের দ্ব্যর্থহীন নির্দেশনা। এখনো এই পরিস্থিতিতে অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। তবে পণ্য উৎপাদনে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি পেলে পণ্যের মূল্যও সমানুপাতিক হারে বাড়াতে হবে। অন্যথায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদন টেকসই করা সম্ভব হবে না। আর আমাদের দেশে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যতিরেকে শুধু আমদানি খাদ্য নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নয়। 

খাদ্যশস্যের সরবরাহ ও লভ্যতার পরে আসে খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার ও সক্ষমতা। প্রকৃত প্রস্তাবে এটা আমাদের মতো বৈষম্য-সৃজনী উন্নয়নশীল দেশে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কভিড-১৯-এর অভিঘাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় কমে গেছে। অনেকে আবার নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়েছে। এখন যে মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে তাদের অবস্থা আরও অবনত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কভিডকালে নানা প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে অর্থের সহজ সরবরাহ বাড়ানোর ফলে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির লাগাম টানতে পৃথিবীর অনেক দেশ এখন সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে অর্থনীতিতে একাধারে মূলধন খরচ বাড়ছে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমছে, কিন্তু মুদ্রাস্ফীতিও কমছে না। অর্থনীতিবিদরা এ অবস্থার নামকরণ করেছেন স্ট্যাগফ্লেশন (stagflation)। বর্তমানে বাংলাদেশও এই প্রবণতার বাইরে নয় বলে অনেকে মনে করছেন। এই প্রেক্ষাপটে দরিদ্র ও নব্য-দরিদ্রদের খাদ্যপ্রাপ্তির সক্ষমতা বাড়ানোর প্রসঙ্গটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারকে বাজারে খাদ্যশস্যের লভ্যতা সমুন্নত রাখতে যেমন বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে, তেমনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্যপ্রাপ্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে তৎপর হতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনে হলে সাময়িকভাবে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এরই মধ্যে সরকার এক কোটি মানুষকে কার্ডের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছেন। এটা অবশ্যই একটা উৎসাহব্যঞ্জক খবর। তবে সুবিধাভোগী নির্বাচন এ দেশে আগাগোড়াই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এর আগে থেকেই ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবার ১০ টাকা কেজি শুভেচ্ছা মূল্যে কর্মকালের পাঁচ মাস চাল পাচ্ছে। তবে প্রয়োজন বিবেচনায় এর পরিধি আরও বাড়াতে হবে এবং ব্যবস্থাটাকে স্বচ্ছ, সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে পুরো কাঠামোটা ডিজিটাইজ করে ফেলতে হবে।

লেখক খাদ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত