মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বেশ কিছু সিনেমায় কাজ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মুক্তিযুদ্ধের ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানালেন তিনি। শ্রুত লিখন করেছেন মাসিদ রণ।
আমি ভীষণ ভাগ্যবান যে ক্যারিয়ারের এতটুকু পথচলায় অনেক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পে অভিনয় করেছি। নাটকের সংখ্যা তো গোনা গাঁথা নেই। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও করেছি একাধিক। আর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা মুক্তি পেয়েছে পাঁচটি।
মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সিনেমা করি তানভীর মোকাম্মেলের ‘রাবেয়া’। এরপর একে একে ‘জীবন ঢুলি’, ‘অনিল বাগচির একদিন’, ‘মায়া দ্য লস্ট মাদার’ ও ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ মুক্তি পেয়েছে। এখন কাজ চলছে ‘অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’ নামে একটি ছবির। এতগুলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবি করেছি সেটাই শুধু সৌভাগ্যের বিষয় নয়, যে পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছি তারা প্রত্যেকে প্রখ্যাত। তাদের টিমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাই অন্যরকম। মুক্তিযুদ্ধ তো দেখিনি। কিন্তু এই সব ছবির সেটে গিয়ে সেই আগুনঝরা দিনগুলোর আমেজ অনুভব করেছি।
আরও বড় কথা হলো, প্রতিটি ছবিতে আমি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছি। ফলে এক একটি মুক্তিযুদ্ধের ছবি করতে গিয়ে আমাকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আলাদা আলাদা আঙ্গিক থেকে গবেষণা করতে হয়েছে। চরিত্র নির্মাণ করতে গিয়ে যে পড়াশোনা করেছি তাতে কোনো কোনো সময় গা শিউরে উঠত। ভাবতে পারতাম না আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সে সময়ের মানুষেরা বিশেষ করে সংখ্যালঘু মানুষরা কী নির্মম যন্ত্রণা সহ্য করেছে দেশ স্বাধীন করতে। এত কিছুর পরও যখন দেখি এখনো দেশে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী কিছু লোক নানা কথা বলে, নানা লেখা লেখে, তখন আর সহ্য করতে পারি না।
মুক্তিযুদ্ধের ছবিতে প্রতিবার অভিনয় করতে গিয়ে মনের ভেতর শুধু একটা প্রশ্ন উদয় হয়। এখনো যদি এমন ঘটনা ঘটে তবে আমি কী করতাম? নিজেই উত্তর খুঁজে পাই, অবশ্যই আমি যুদ্ধে যেতাম। আমাকে কেউ আটকে রাখতে পারত না। কারণ, আমি আমার দেশকে বড্ড ভালোবাসি।
সবাই জানেন কিংবদন্তি চিত্রতারকা কবরী আপার ‘আয়না’ ছবি দিয়ে আমি শোবিজে কাজ শুরু করেছি। তাই ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আমার ওপর তার অভিভাবকের মতো ছায়া ছিল। যখন রাবেয়া আর জীবন ঢুলি ছবি দুটি করি, তখন আমি কবরী আপার শরণাপন্ন হই। কারণ, তিনি নিজেই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি আমাকে তার সেই দিনগুলোর অবর্ণনীয় কষ্টের অভিজ্ঞতাগুলো বলতেন। একজন সুপারস্টার নায়িকা যুদ্ধের কারণে শরণার্থী শিবিরে গিয়ে থেকেছেন। এ ছাড়া অনেক সময় এমনও হয়েছে, সেটে একটি দৃশ্য করছি কিন্তু সেটি কীভাবে করলে আরও বাস্তবসম্মত হবে তা নিয়ে সবাই কনফিউজড। তখন আমার মাকে ফোন করে জেনে নিয়েছি, তখনকার দিনগুলো কেমন ছিল।
