শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ খাবার কেড়ে খেল ছাত্রলীগ

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২২, ০৩:৫৫ এএম

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করা বিশেষ খাবারের শতাধিক প্যাকেট ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদ্যগঠিত হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ড. শামসুজ্জোহা হলে এ ঘটনা ঘটে। পরে হোটেল থেকে খাবার এনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। খাবার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে উঠেছে তারা হলেন জোহা হলের সভাপতি চিরন্তন চন্দ এবং তার অনুসারী ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফারসি বিভাগের শিক্ষার্থী বাঁধন ও ওয়াহিদ। এ ছাড়া একই হল শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মোমিন ইসলাম এবং তার অনুসারী তুষার, মিনাল, আলামিনসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠেছে। তাদের সঙ্গে অন্যান্য হলের বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মীও ছিল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাবি শাখা ছাত্রলীগের হল কমিটির ঘোষণা হয়। কমিটিতে নেতৃত্ব পাওয়ার দুদিনের মাথায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এমন কাণ্ড ঘটালেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশ^বিদ্যালয়ের ১৭টি হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য একবেলা বিশেষ খাবার বরাদ্দ করে বিশ^বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। এ জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৩০ টাকার বিনিময়ে টোকেন সংগ্রহ করতে হয়। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে হলের ডাইনিং কর্মচারীরা টোকেন জমা নিয়ে খাবার পরিবেশন শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর ছাত্রলীগের চিরন্তন চন্দ, মো. মোমিনসহ অন্তত ২০ জন বিনা টোকেনে খাবার নিতে যান। এ সময় সেখানে উপস্থিত হল কর্র্তৃপক্ষের নিষেধ সত্ত্বেও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে খাবার নিয়ে যান তারা। তারা প্রত্যেকেই ৫-৭টি করে প্যাকেট নিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান। এতে হলটির অন্তত ১০০ শিক্ষার্থী খাবার বঞ্চিত হন।

জোহা হল কর্র্তৃপক্ষের তথ্যমতে, হলটিতে ৪৩০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী থাকেন। আবাসিক শিক্ষার্থী ও হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোট ৪৮০ প্যাকেট খাবার প্রস্তুত করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে খাবার না পাওয়া এক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিন দিন আগে আমরা হলের অফিস থেকে বিশেষ খাবারের টোকেন কিনে নিয়েছিলাম। কিন্তু দুপুর ১টার একটু আগে গিয়ে খাবার পাইনি। পরে প্রভোস্ট (প্রাধ্যক্ষ) স্যার বাইরে থেকে খাবার নিয়ে এসে আমাদের দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জোহা হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মোমিন ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি। তবে সভাপতি চিরন্তন চন্দ বলেন, ‘প্রভোস্ট স্যার ছাত্রলীগের সবার খাবার একসঙ্গে দেবেন বলে আমরা সেখানে যাই। তবে আমি খুব অল্প সময় পরেই ডাইনিং থেকে চলে আসি। আসার পর হলে অনেকে আমার নাম ভাঙিয়ে খাবার নিতে পারে। সে বিষয়ে বলতে পারছি না। আমরা কোনো বেশি খাবারের প্যাকেট নিইনি।’

এ প্রসঙ্গে হল প্রাধ্যক্ষ একরামুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকাল থেকেই আমরা খাবারের প্যাকেট তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কাজ করছিলাম। খাবার বিতরণ শুরু করলে ছাত্রলীগের প্রায় ২০ জন এসে টোকেন ছাড়াই অনেকগুলো খাবারের প্যাকেট নিয়ে যায়। আমরা বারবার বলার পরও তারা কোনো কথা শোনেনি। পরে শিক্ষার্থীদের খাবার দিতে বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসি।’

খাবার ছিনিয়ে নেওয়া ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি, তারা এখন যে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘জোহা হলে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই হলের ছাত্রলীগের কর্মীরা কুপন দেখিয়ে খাবার নিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত