একজন মানুষের একক প্রচেষ্টায় একটি রাষ্ট্র তৈরির ঘটনা পৃথিবীতে বিরল। রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকতে ইতালীয় যুবক জর্জিও রোসা সমুদ্রের বুকে তৈরি করেছিলেন এমন এক বিশেষ রাষ্ট্র। তার তৈরি রোজ আইল্যান্ড আজও স্বাধীন ও মুক্ত মানুষের প্রেরণা। লিখেছেন বিপুল জামান
রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ স্বাধীনচেতা সৃজনশীল মানুষের কাছে শ্বাসরুদ্ধকর বলে মনে হয়। সৃজনশীল মানুষ তখন নিজের পৃথিবী তৈরি করতে চায়। ইতালির তরুণ প্রকৌশলী জর্জিও রোসা দৈনন্দিন জীবনে নিজের তৈরি যন্ত্র ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। এক দিন তিনি নিজের নকশায় তৈরি করা গাড়ি ব্যবহারের জন্য রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের হাতে নাস্তানাবুদ হন। সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাগদত্তা গ্যাব্রিয়েল্লা। প্রিয়তমার সামনে অপদস্থ হওয়ার পর তরুণ জর্জিওর মনে হয়, রাষ্ট্রীয় কাঠামো একজন সৃজনশীল প্রতিভাবান মানুষের জন্য শৃঙ্খলস্বরূপ। এ ধরনের রাষ্ট্রে বসবাস করতে হলে একজন প্রতিভাবান ব্যক্তির তার প্রকৃত অনুভূতির সঙ্গে আপস করতে হবে। আপস করাকে সৃজনশীলতার পথে বাধা হিসেবেই দেখতেন তিনি। তিনি ঠিক করলেন নিজেই একটি রাষ্ট্র তৈরি করবেন যেখানে ব্যক্তির ওপর থাকবে না কোনো বিধিনিষেধ, যেখানে থাকবে অবাধ স্বাধীন জীবনযাপনের পূর্ণ নিশ্চয়তা।
রোজ আইল্যান্ড
বাগদত্তা গ্যাব্রিয়েল্লার কাছে নিজের জন্য রাষ্ট্র গঠনের কথা জর্জিও কথার কথা হিসেবে বলেননি। কিন্তু রাষ্ট্র তৈরির কথা বললেই তো আর তৈরি করা হয়ে যায় না। ১৯৫৮ সালে পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্রই অনাবিষ্কৃত ছিল না। একজন প্রকৌশলী হিসেবে জর্জিও নিজের জন্য রাষ্ট্র নির্মাণ করা বলতে বুঝিয়েছিলেন সমমনা কিছু মানুষের বসবাসের উপযোগী স্থান, যেখানে অন্য কোনো দেশের অধিকার থাকবে না। স্থলভাগে তেমন স্থান পাওয়া ছিল কষ্টকর। জর্জিও সে কারণে জলভাগের প্রতি মনোযোগী হন। অবশেষে রিমিনি প্রদেশের পার্শ্ববর্তী আদ্রিয়াটিক সমুদ্রের মধ্যে নিজেদের জন্য আশ্রয় তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তের কথা সর্বপ্রথমে জানান বন্ধু মারিওজিও ওরলান্দিনিকে। মারিওজিও ব্যবসায় বাবাকে সাহায্য করতেন। কিন্তু ব্যবসা তার ভালো লাগত না। বাবার কর্র্তৃত্ব এবং ব্যবসার একঘেয়েমি থেকে মুক্তির পথ খুঁজছিলেন তিনি। জর্জিওর প্রস্তাব তার খুবই ভালো লাগে। সানন্দে এ কাজে অর্থ জোগানোর দায়িত্ব নেন। জর্জিও ও মারিওজিও উভয়েই সমুদ্রের মধ্যে বাসস্থান তৈরিতে অর্থের জোগান দেন।
প্রমত্তা সমুদ্রের মধ্যে স্থির স্থলভাগ তৈরির ক্ষেত্রে জর্জিও রোসা তার প্রকৌশল প্রতিভার চরম উৎকর্ষ প্রদর্শন করেন। সমুদ্রের মধ্যে পাইলনের মাধ্যমে একটি ধাতব স্থির পাটাতন স্থাপনের কথা ভাবলেন তিনি। জরিপ করে সিদ্ধান্ত নিলেন রিমিনি প্রদেশ থেকে ৬.২৭ নটিক্যাল মাইল দূরে এবং ইতালীয় জাতীয় জলসীমার থেকে ৫০০ মিটার দূরে এই পাটাতন তৈরির কাজ শুরু করবেন। এ কাজে তিনি পাশে পান বন্ধু মারিওজিও ওরলান্দিনিকে। পাইলন বসানোর কাজের তদারকি ও অর্থের সংস্থানের ক্ষেত্রে জর্জিওর প্রধান ভরসা ছিলেন মারিওজিও। পাইলন হলো স্টিলের টাওয়ার, যা সাধারণত সেতুর ভার বহন বা ইলেকট্রিক তার বহনকারী কাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জর্জিও এই পাইলনের ওপরই তার স্বপ্নের মুক্ত পৃথিবীর গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। রিমিনি উপকূল থেকে মোটরচালিত নৌকায় পাইলনগুলোকে বয়ে নেওয়া হতো। নিচের শক্ত ভিত এবং তার ওপরে পাইলনের কাঠামোর ওপরে ৪০০ বর্গমিটারের একটি স্টিলের পাটাতন গড়ে তোলা হয়। পাটাতনের ওপর ইটের কাঠামোয় গড়ে তোলা হয় বেশ কয়েকটি ঘর। এগুলো থাকা, খাওয়া, গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে যেমন ব্যবহৃত হতো, তেমনি রেস্টুরেন্ট, বার ও অতিথিদের বিনোদনের জন্যও ব্যবহৃত হতো।
কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট এই দ্বীপে বসবাসের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হলো, এই দ্বীপে পানযোগ্য কোনো পানির উৎস ছিল না। জর্জিও প্রথমেই এ সমস্যার সমাধান করেন। তারা ড্রিলিং করে সমুদ্র ভেদ করে পানি ওঠানোর ব্যবস্থা করেন। ফলে দ্বীপটি বসবাসের উপযুক্ত হয়ে ওঠে। এই পাটাতনের ওপর পাঁচতলা কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন জর্জিওরা কিন্তু একতলা তৈরি করেই তাদের থেমে যেতে হয়। একতলা কাঠামো তৈরি করতেই তাদের সময় লেগে যায় দশ বছর।
স্বাধীন রাষ্ট্রের ঘোষণা
মাঝ সমুদ্রে ভবন নির্মাণের মতো আজব কাণ্ডকারখানা দেখতে রিমিনি উপকূল থেকে আসত অনেকেই। তাদের পান-ভোজনের জন্য একটি রেস্টুরেন্ট খোলার কথা মনে আসে মারিওজিওর। জর্জিও সম্মত হন। রেস্টুরেন্ট থেকেও অর্থ আসতে থাকে। দীর্ঘদিন পরে যখন একতলা কাঠামো তৈরি হয়, তখন এই দর্শনার্থীদের কাছ থেকে প্রবল দাবি আসতে থাকে দ্বীপটিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার। ১ মে ১৯৬৮ জর্জিও-মারিওজিওরা একটি ভোজ উৎসবের আয়োজন করেন। ভোজ উৎসবে আসা অতিথিদের সামনে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ও দ্বীপটিকে অপর কোনো রাষ্ট্রের আওতাবহির্ভূত, স্বাধীন ও মুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন জর্জিও। কিন্তু তার এ ঘোষণায় দ্বিমত পোষণ করেন জর্জিওর স্ত্রী গ্যাব্রিয়েল্লা। তার মতে, একটি রাষ্ট্র হতে হলে তার নিজস্ব মুদ্রা, ভাষা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং অন্যান্য রাষ্ট্র বিশেষ করে জাতিসংঘের স্বীকৃতি প্রয়োজন। গ্যাব্রিয়েল্লা কথার সঙ্গে সম্মত হন জর্জিও ও মারিওজিও। নিজেদের রাষ্ট্রের জন্য তারা মুদ্রা, ভাষা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন।
ভাষা, মুদ্রা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
রিমিনি দ্বীপ ও অন্যান্য অঞ্চল থেকে দর্শনার্থীরা যে জলযানে আসত সেগুলো বাঁধা থাকত রোজ আইল্যান্ডের পিলারগুলোতে। ছাদের ওপর থেকে বা দূর থেকে দেখে মনে হতো কয়েকটি ফুল পাপড়ি মেলে আছে। স্থানীয় জেলেদের কাছেও দ্বীপটি গোলাপ দ্বীপ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে এ কারণেই। দর্শনার্থীরা ভাসমান দ্বীপে যেতে চাইলে তারা পাল্টা প্রশ্ন করত, গোলাপ দ্বীপে যাবেন? মারিওজিও রেস্টুরেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে শুনে এসেছিলেন স্থানীয়দের এমন কথাবার্তা। তিনিই দ্বীপটির নাম গোলাপ দ্বীপ রাখার প্রস্তাব করেন। জর্জিও সম্মত হন। গোলাপের সৌন্দর্য, স্থানীয়দের ওপর এই নামের প্রভাব ইত্যাদি বিবেচনা করে তিনি দ্বীপের নাম গোলাপ দ্বীপ রাখতে রাজি হলেন। রাষ্ট্র হিসেবে সবার পরিচিতি পেতে হলে দরকার রাষ্ট্রভাষা। গোলাপ দ্বীপের অধিবাসী সবাই প্রায় ইতালির নাগরিক হলেও প্রবল শক্তিশালী ইতালির নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকার জন্যই নিজস্ব রাষ্ট্র তৈরি করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন তারা। তাই ইতালিয়ান ভাষাকে সযতনে পরিহার করেন দ্বীপের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে। একই কথা খাটে মুদ্রা ক্ষেত্রেও। অনেক ভাবনা-চিন্তার পরে সিদ্ধান্ত হলো গোলাপ দ্বীপের দাপ্তরিক ভাষা হবে এস্পারেন্তো।
এস্পারেন্তো হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত, নির্মিত কথ্য ভাষা, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ১৮৮৭ সালে পোলিশ চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ এল এল জামেনোফ এই কৃত্রিম ভাষাটি তৈরি করেন। জামেনোফ একটি বই প্রকাশ করেন, যার নাম ছিল ‘ডা. এস্পারেন্তোর আন্তর্জাতিক ভাষা’। লেখক হিসেবে বইটিতে নাম লেখা ছিল ডাক্তার এস্পারেন্তো। মূলত বইটির প্রকৃত লেখক ছিলেন ডাক্তার জামেনোফ। ডাক্তার এস্পারেন্তো তারই ছদ্মনাম। তিনি প্রবলভাবে মানবতাবাদ দর্শনের অনুগামী ছিলেন। সে কারণে একটি সর্বগ্রাহ্য আন্তর্জাতিক ভাষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিলেন। তারই ফলে এস্পারেন্তো ভাষা তৈরিতে ব্রতী হন। মানবতাবাদী, মুক্তমনা, স্বাধীনচেতা জর্জিওদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে ডা. জামেনোফের ইচ্ছার মিল থাকায় এবং এস্পারেন্তো ভাষার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করে তারা এ ভাষাকেই গোলাপ দ্বীপের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেন। এস্পারান্তো শব্দের অর্থ ‘যে ব্যক্তি আশা করে’।
গোলাপ দ্বীপ সমুদ্রের ওপর অবস্থিত হওয়ায় খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব ছিল না স্বাধীনচেতা এই রাষ্ট্রের পক্ষে। গোলাপ দ্বীপের রেস্টুরেন্ট ও অধিবাসীদের খাদ্যের জন্য নির্ভর করতে হতো রিমিনি উপকূলের ওপর। উপকূলের সঙ্গে নিজেদের লেনদেন চালিয়ে যেতে গোলাপ দ্বীপের বাসিন্দারা নিজেদের মুদ্রার প্রচলন করেন। এই মুদ্রার নাম ‘মিল’। এই মুদ্রা বেশ কয়েকটি দেশে প্রচলিত ছিল সে সময়। যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের এক হাজার ভাগের এক ভাগকে মিল বলা হয়। গোলাপ দ্বীপের মিল অবশ্য ইতালিয়ান লিরার সমান হিসেবে বিবেচিত হতো। দ্বীপের স্মারক হিসেবে যে ডাক টিকিট প্রকাশিত হয়েছিল সেটিতেই মুদ্রার বিকল্প বা মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আলাদা করে কাগুজে মুদ্রা বা ধাতব মুদ্রা তৈরি বা ছাপানো হয়নি। দ্বীপের রেস্টুরেন্ট ও বারে মিল গৃহীত হতো বলে দর্শনার্থীদের অবশ্যই উপকূল-তীরবর্তী বিপণি থেকে মিল সংগ্রহ করতে হতো। মিলের গ্রহণযোগ্যতা থাকায় জর্জিওরা মিলের বিনিময়েই রেস্টুরেন্ট ও গোলাপ দ্বীপের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারতেন।
দ্বীপটিতে একটি অফিশিয়াল সাময়িকীও ছিল। নাম ডোমিনিকান অবজার্ভার। এটি বোলোগনার কয়েকজন ব্যক্তির সহায়তায় প্রকাশিত হতো। এই ব্যক্তিদের সঙ্গে জর্জিও রোসার ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
মিথ্যা প্রচারণা
ইতালি সরকারের আওতার বাইরে থাকার কারণে অতি অল্প সময়ের মধ্যে আমোদপ্রিয় মানুষের অবসর কাটানোর স্থানে পরিণত হয় রোজ আইল্যান্ড। এমনকি অন্য দেশের অধিবাসীরাও সমুদ্রপথের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজ থামিয়ে নৌকা নিয়ে গোলাপ দ্বীপে ঢুঁ দিতে ভুল করত না। এর ফলে গোলাপ দ্বীপের আর্থিক লাভ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি পেতে থাকে ইতালি সরকারের। খবরের কাগজের নানা উদ্ভট বানোয়াট সংবাদ তাদের দুশ্চিন্তার আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতে থাকে, দ্বীপটি জুয়াড়ি, লম্পট এবং জলদস্যুদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। একটি আন্তর্জাতিক গুপ্তচর চক্রের কেন্দ্রস্থল। এমনও গুজব রটেছিল যে, এটি আসলে সোভিয়েত সাবমেরিনের ঘাঁটি। ইতালি সরকারকে বলা হয় জর্জিও রোসার এই দ্বীপে ইতালির পরাজিত দেশদ্রোহীরা আশ্রয় গ্রহণ করেছে এবং তারা সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র করছে।
যদিও এসব সংবাদের কোনোটিরই কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবু ইতালির সরকার রোজ আইল্যান্ডকে তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। ইতালি সরকার যখন খবর পায় যে, রোজ আইল্যান্ড জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করার চেষ্টা করছে, তখন তারা আরও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের আগেই দ্বীপটিকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
স্বপ্নের মৃত্যু
১৯৬৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারিতে, ইতালীয় নৌবাহিনীর ডুবুরিরা কয়েক কিলো বিস্ফোরক স্থাপন করে এটি ধ্বংস করার কাজ শুরু করে। প্রথমে গোলাপ দ্বীপের আশপাশে কামান দাগে তারা। গোলা নিক্ষেপ করে ছাদের ওপরের একটি অংশ উড়িয়ে দেওয়ার পর দ্বীপের বাসিন্দারা বুঝতে পারেন তারা কোনোভাবেই রোজ আইল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবেন না। তার পরও তারা দ্বীপ ত্যাগ করেননি। নৌবাহিনী ও অন্য কমান্ডোরা জোর করে তাদের জাহাজে নিয়ে আসেন। এরপর নৌ-কমান্ডোরা পিলারগুলোতে বিস্ফোরক স্থাপন করেন। কিন্তু জর্জিও রোসা দ্বীপটিকে এত ভালোভাবে তৈরি করেছিলেন একের পর এক বিস্ফোরণও এটিকে ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। তবে বিস্ফোরক ব্যবহারের ফলে দ্বীপটি বসবাস অযোগ্য হয়ে যায়। ১৯৬৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এক ঝড়ের আঘাতে দ্বীপটি তলিয়ে যায়।
দ্বীপটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর জর্জিও রোসা আর কোনো বৈপ্লবিক কাজে অংশ নেননি। তিনি পরে প্রকৌশলী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি ২০১৭ সালে ৯২ বছরে মারা যান। এই দীর্ঘজীবনে তিনি মাত্র দুবার ভোট দিয়েছেন। ভোট না দেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে বলতেন, শাসকদের ওপর আমার আস্থা নেই। রোজ আইল্যান্ডের ধ্বংসাবশেষ আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে একজন মুক্ত মানুষের জন্য পৃথিবী এখনো নিরাপদ নয়। তরুণ বয়সে যে কাজ আমরা করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত নই। আমরা হয়তো সফল হতে পারেনি কিন্তু সময়টা আমরা উপভোগ করেছি।
জর্জিও রোসা নিজেকে ব্যর্থ ভাবলেও অগণিত মুক্তিকামী মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে রোজ আইল্যান্ড। রোজ আইল্যান্ড নিয়ে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য তথ্যচিত্র, চলচ্চিত্র, প্রণীত হয়েছে অসংখ্য গবেষণা গ্রন্থ। আট মাস বয়সী একটি দ্বীপরাষ্ট্র অর্ধশত বছর ধরে স্বপ্ন দেখিয়ে চলেছে বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষকে।
