ডা. বুলবুল হত্যাকান্ড

বাসার কাছে মাইক্রোবাস ঘিরে পরিবারের সন্দেহ

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২২, ০২:১৭ এএম

গরিবের ডাক্তারখ্যাত আহমেদ মাহী বুলবুল হত্যাকাণ্ডের আগ মুহূর্তে তার পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসার কাছে গেইট খোলা অবস্থায় থাকা একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে থানা পুলিশ বলছে, এ বিষয়টি তাদের জানা নেই। অন্যদিকে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) বলছে, তারা এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ছিনতাইকারীর তালিকা ধরে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বুলবুলের স্ত্রী শাম্মী আক্তার গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এলাকার অনেকেই আমাকে বলেছেন ঘটনার দিন খুব ভোরে আমাদের বাসার কাছেই রাস্তায় কালো রঙের একটি মাইক্রোবাস দাঁড়ানো ছিল। মাইক্রোবাসটির গেইট খোলা ছিল। এ ছাড়া যেখানে তার লাশ পাওয়া গেছে সেখানে তার যাওয়ার কথা নয়। ফার্মগেটের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উল্টো দিকে কাজীপাড়ায় যাওয়ার বিষয়টিও সন্দেহজনক।’    

তিনি আরও বলেন, ‘কারও সঙ্গেই বুলবুলের বিরোধ ছিল না। সকলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল। কীভাবে কী হয়ে গেল তা বুঝতে পারছি না।’ 

উল্লেখ্য, গত রবিবার ভোরে ঠিকাদারির কাজে নোয়াখালী যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাজধানীর মিরপুর থানা এলাকার পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসা থেকে বের হন ডা. বুলবুল। প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে কাজীপাড়ায় নির্মাণাধীন মেট্রোরেলের ২৭৮ নম্বর পিলারের কাছে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। পরে হাসপাতালে মারা যান তিনি। ওইদিনই অজ্ঞাতপরিচয়ের তিনজনকে অভিযুক্ত করে মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন বুলবুলের স্ত্রী শাম্মী আক্তার।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বুলবুলের বাসা থেকে শেওড়াপাড়া বেগম রোকেয়া সরণির মূল সড়ক পর্যন্ত অসংখ্য সিসি টিভি রয়েছে। সেগুলোর ফুটেজ সংগ্রহ করলে অনেক কিছুই পরিষ্কার হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডা. বুলবুল হত্যাকান্ডটি নিয়ে এলাকায় নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা উচিত। 

পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা আতিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সোমবার আনন্দবাজার এলাকা থেকে কয়েকজন বহিরাগতকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। এ এলাকাটি আগে থেকেই অপরাধপ্রবণ। শেওড়াপাড়ার ওয়াসা রোডে প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

মিরপুর মডেল থানার ওসি মুস্তাফিজুর রহমান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।’ কালো মাইক্রোবাসের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই।’

ঢাকা মহানগর ডিবির মিরপুর জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে ডিবি কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। থানা পুলিশও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত