জাদুঘরের নিদর্শনের ক্ষতি করলে ১০ বছরের জেল

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২২, ০৪:৫৭ এএম

জাদুঘরের কোনো নিদর্শন ধ্বংস বা ক্ষতি করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদ- এবং অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস, নষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতি করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল ও সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বিল-২০২২’ পাস হয়েছে। গতকাল বুধবার সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বিলটির ওপর আনা জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন। গত বছরের ১৮ নভেম্বর বিলটি সংসদে তোলার পর পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। ১৯৮৩ সালের এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে তার জায়গায় নতুন এই আইন হচ্ছে। বিলে জাদুঘরের জন্য একজন কিউরেটর ও সহকারী কিউরেটর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বিদ্যমান অধ্যাদেশে ছিল না।

বিলে বলা হয়েছে, কেউ জাদুঘরের নিদর্শনের ওপর খোদাই করলে বা কিছু লিখলে সর্বোচ্চ এক বছরের জেল এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা হবে। বিলে জাদুঘরের পরিচালনায় সংস্কৃতিমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে সভাপতি করে একটি পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া সরকার আগের মতোই জাদুঘরের জন্য একজন মহাপরিচালক নিয়োগ করবে। পাশাপাশি ‘ভার্চুয়াল জাদুঘর’ করার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, সরকারের অনুমোদন নিয়ে বিভাগীয় ও জেলা শহর ছাড়া যেকোনো জায়গায় শাখা জাদুঘর, বিষয়ভিত্তিক জাদুঘর, স্মৃতি জাদুঘর, সংগ্রহশালা, গবেষণা কেন্দ্র, মহাফেজখানা স্থাপন ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে জাতীয় জাদুঘর।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ বিল উত্থাপন : এদিকে গতকাল ১০ শিক্ষার্থীর জন্য ১ শিক্ষক রাখার বিধান রেখে ‘বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ বিল-২০২২’ উত্থাপিত হয়েছে সংসদে। এসব প্রতিষ্ঠানে কোনো বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষকের সংখ্যা সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুমোদিত পদের শতকরা ২৫ শতাংশের বেশি রাখা যাবে না বলেও প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছে।

গতকাল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন আকারে দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

এর আগে গত বছরের ৩ মে খসড়া এই আইনটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। বর্তমানে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজগুলো বেসরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনা এবং অপারেশন গাইডলাইনস-২০১১ এবং বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা ও অপারেশন গাইডলাইনস-২০০৯-এর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। এই দুটি নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে নতুন আইনের খসড়া করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত