সাত বছর আগে দুর্বৃত্তদের দায়ের কোপে নিহত ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশ ছিলেন দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে অত্যন্ত মেধাবী। পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তান। সবার আদরের। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করেই ব্যাংকের চাকরিতে যোগ দেন। পাশাপাশি মুক্তচিন্তায় ছিলেন সবসময় সরব। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য সকালের নাশতা খেয়ে বের হয়ে বাসার অদূরেই নৃশংসভাবে খুন হন অনন্ত। ছেলের এমন পরিণতি দেখে বাবা রবীন্দ্র কুমার দাশ ও মা পীযূষ রানী দাশসহ অনন্তের ভাইবোনেরা শোকে পাথর হয়ে যান। ছেলে খুন হওয়ার পর অনন্তের বাবা রবীন্দ্র কুমার দাশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ছেলে হত্যার বিচার কখন হবে সেই অপেক্ষায় ছিলেন। এরই মধ্যে ২০১৯ সালে মারা যান তিনি। তাই ছেলে হত্যার বিচার তিনি আর দেখে যেতে পারেননি।
মা পীযূষ রানী দাশও নিহত ছেলের চিন্তায় শয্যাশায়ী। বার্ধক্যজনিত নানা রোগেও ভুগছেন। অনন্ত হত্যা মামলায় দীর্ঘ সাত বছর পর গতকাল বুধবার ঘোষণা করা রায়ে সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমিন বিপ্লব চার আসামির মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর পীযূষ রানী দাশকে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। অনন্তের বড় ভাই রতেœশ্বর দাশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মা সারাক্ষণই অনন্তের চিন্তা করেন। বয়সও হয়েছে। তাই রায় ঘোষণার পরপরই তাকে কিছু জানাইনি। ধীরে ধীরে তাকে সব কিছু বলব।’
রতেœশ্বর আরও বলেন, ‘ভাই হারানোর বেদনা এ জীবনে কখনো ভুলতে পারব না। গত সাত বছর ধরে কী যন্ত্রণা নিয়ে আমরা বেঁচে আছি, তা শুধু আমরাই জানি।’ তিনি অনন্ত হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ড পাওয়া পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকরের দাবি জানান।
অনন্তের বড় বোনের স্বামী অ্যাডভোকেট সমর বিজয় শেখর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনন্তের এমন নির্মম পরিণতি পুরো পরিবারকে তছনছ করে দিয়েছে। কেউই মানসিকভাবে শান্তিতেই নেই। সারাক্ষণই একটা আহাজারির মধ্যে দিন কাটছে।’ তিনিও মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।
