রমনার বটমূলে নবোদ্যমে বর্ষবরণের প্রস্তুতি ছায়ানটের

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২২, ০৮:২৫ পিএম

বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি শুরু করেছে ছায়ানট। ইতিমধ্যে রমনার বটমূলে বর্ষবরণের জন্য বরাদ্দ চেয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা। বরাবরের মতো সরকারের সকল মহলের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

 শনিবার রাজধানীর ছায়ানট ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা।

তিনি বলেন, রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষা করে, সকলকে নিয়ে নব আনন্দে জেগে ওঠার এবারের আয়োজনে ছায়ানট সর্বান্তকরণে নতুনত্ব যোগ করতে প্রয়াসী। এ বছর ছায়ানটের বর্ষবরণের প্রতিপাদ্য ‘নব আনন্দে জাগো’।

লাইসা আহমেদ লিসা আরও বলেন, সাধারণভাবে ছায়ানটের বর্ষবরণের মঞ্চে কমবেশি ১১৫ শিল্পী থাকে। তবে স্বাস্থ্যবিধি বিবেচনায় রেখে এবারও শিল্পীসংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। মাসব্যাপী ধরে চলছে দলীয় পরিবেশনার মহড়া। পহেলা বৈশাখের দিন সকাল ছয়টা থেকে রমনার বটমূলে রাগালাপ ও সংগীতে শুরু হবে ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ছায়ানটের সভাপতি সনজীদা খাতুন, নির্বাহী সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী, সহসভাপতি ড. আতিউর রহমান, সহসভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল।

ছায়ানট সভাপতি সনজীদা খাতুন জানান, বাঙালির অস্তিত্ব নিয়ে পাকিস্তানের চোখ রাঙানির মধ্যে ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে বর্ষবরণের আয়োজন শুরু হওয়ার পর, এর আগে কেবল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েই তাতে ছেদ পড়েছে। সম্প্রতি করোনাকালে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবং রাষ্ট্রীয়-বিধান মান্য করে ছায়ানট বিগত দু'বছর বর্ষবরণের অনুষ্ঠান স্বল্প পরিসরে অনলাইনে আয়োজন করেছে।

সনজীদা খাতুন বলেন, গত দুবছর আমাদের মনের ভেতর অনেক বেদনা গেছে। মহামারির ভয়াবহতা সবকিছু সংকুচিত করে রেখেছে। পহেলা বৈশাখ আমরা সেভাবে করতে পারেনি। এবার যখন করার প্রস্তুতি নিয়েছি তখন আমাদের মনে আনন্দ অশেষ।

রমজান মাসে সকল নিয়ম ও ধর্মীয় রীতি মেনে পহেলা বৈশাখ পালন করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আগেও রমজানে পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন করা হয়েছে। সংস্কৃতি ও ধর্মের মধ্যে কোন বিরোধ নেই।

ডা. সারোয়ার আলী বলেন, সারা পৃথিবীতে যে প্রলয় ঘটে গেল, সেখানে বাংলাদেশ অনেক সাহসীভাবে দাঁড়িয়ে আছে। পহেলা বৈশাখে এরই প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠবে।

ড. আতিউর রহমান বলেন, পহেলা বৈশাখে লক্ষ লক্ষ কর্মজীবী মানুষ এবং মধ্যবয়সীরা নতুন কাপড় পড়ে বর্ষবরণ করবে। বঙ্গবন্ধু যেমন বলেছেন আলোর পথের যাত্রী, ছায়ানট সেরকম আলোর মশাল তুলে ধরবে।

ছায়ানটের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের নির্দেশ দিয়ে ছায়ানট আয়োজিত এই বর্ষবরণ উৎসবকে প্রথম জাতীয় মর্যাদা দেন বঙ্গবন্ধু। যে মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারও। বাংলা বর্ষবরণ এখন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্ব বাঙালির প্রধান প্রাণের উৎসব, বাঙালি ঐতিহ্যের অঙ্গ। আমাদের প্রত্যাশা, বটমূলে অর্ধ শতাধিক বছরের এই উৎসবের ধারায় বাঙালির প্রত্যাবর্তন হবে সংযমী-প্রাণবন্ত-আনন্দঘন এবং বিপর্যয় বিনাশের অঙ্গীকারে বলীয়ান।

আরও বলা হয়েছে, মানবসমাজ আজ বৈশ্বিক মহামারি কোভিড উনিশের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আলোর পথের অভিযাত্রী। সরকারের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে ক্রমান্বয়ে পরিত্রাণ ঘটে চলেছে। তারই সমুজ্জ্বল প্রতিফলন এবারের অমর একুশের বইমেলার সফল আয়োজন। আগের স্বস্তিতে ফিরবার প্রবল আকাঙ্ক্ষা পদে পদে জয়ী করে তুলছে মানুষকে। পাশাপাশি মানুষ অভ্যস্ত হয়ে উঠছে নতুন স্বাভাবিক পরিবেশে।

আগ্রাসী করোনাকে দমাতে প্রায় দুবছর আমরা গৃহবন্দী ছিলাম। এক বাস্তবিক মানবিক-সামাজিক-মানসিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়কাল। সব শেকল ভেঙে বিশ্বজুড়েই আজ নব আনন্দে জেগে উঠবার আহ্বান। তার ভেতর আমাদের মূল প্রেরণা হয়ে উঠেছে বাঙালির প্রাণের বইমেলা আয়োজনে সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। অনুপ্রাণিত ছায়ানট নবোদ্যমে রমনার বটমূলে বাংলার নববর্ষকে আবাহন জানানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত