দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে এর ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতীকী গণ-অনশন কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব সরকারের প্রতি এই আহ্বান জানান।
সকাল ৮টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা থেকে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হন। বিপুল নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে গণ-অনশন সমাবেশে পরিণত হয়। সকাল ১০টায় কর্মসূচি শুরু হয়। প্রতীকী অনশন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মৎস্য ভবন, কদম ফোয়ারা, পুরানা পল্টনসহ প্রেস ক্লাবের আশপাশে অবস্থান নেয়। পাশাপাশি সাদাপোশাকে বিভিন্ন সংস্থার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।
অনশনে নেতাকর্মীরা দ্রব্যমূল্য কমানো, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ বিভিন্ন সেøাগান দেন। বিএনপির এই কর্মসূচিতে ২০-দলীয় জোট এবং এর বাইরের সরকারবিরোধী কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা অনশনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।
পাঁচ ঘণ্টার গণ-অনশন কর্মসূচির সূচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চাল, ডাল, তেল, আটা, সবজিসহ প্রতিটি নিত্যপণ্যের মূল্য যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে তা এখন মানুষের সহ্যের বাইরে চলে গেছে। এর মধ্য দিয়ে যে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, এ অবস্থায় এই অনির্বাচিত সরকারকে যদি পরাজিত করতে না পারি, তাদের যদি ক্ষমতা থেকে সরাতে না পারি তাহলে দেশের মানুষের অস্তিত্ব থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে এই গণ-অনশনের মধ্য দিয়ে আমাদের যে প্রতিবাদ তা দেশের সব মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। গণ-অনশন পালন করে এই সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই যে তোমাদের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই। ব্যর্থতায় দায় স্বীকার করে তোমরা সরে যাও, ক্ষমতা ছেড়ে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করো।’
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে দলটি। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার জেলায় জেলায় প্রতীক অনশনের কর্মসূচি পালন করেন তারা। গতকালের গণ-অনশন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের কর্মসূচি শেষ হয়। আজ রবিবার প্রথম রোজা থেকে তারা ইফতার কর্মসূচি পালন করবেন। প্রথম রোজায় এতিম, আলেম-ওলামাদের সম্মানে রাজধানীর ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে ইফতার কর্মসূচি রয়েছে বিএনপির।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে মাঠের কর্মসূচিতে সক্রিয় হওয়ায় বিএনপিকে সাধুবাদ জানিয়ে ২০-দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘আজ আমরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও সরকারের লুটপাটের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে এসেছি। দেশের মানুষ সরকারকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর জন্য ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
গণ-অনশনে সংহতি জানিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের লাজ লজ্জা নেই। তাদের কোনো দয়া-মায়াও নেই। কেউ না খেয়ে মারা গেলে ওরা বলবে পেটের অসুখে মারা গেছে।’
অনশন কর্মসূচিতে শতাধিক নেতার বক্তব্য রাখার কারণে বিকেল ৩টা বেজে যাওয়ায় সমাপনীতে বিএনপি মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বক্তব্য না দিয়ে অনশনের সমাপ্তি টানেন। পরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী বিএনপির মহাসচিব এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে পানি খাইয়ে অনশন ভঙ্গ করান।
মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের লিটন মাহমুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত গণ-অনশনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন নজরুল ইসলাম খান, আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ। সংহতি প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) রেদোয়ান আহমেদ, লেবার পার্টির ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ প্রমুখ।
জামায়াতের তিন নেতা মারধরের শিকার : বিএনপির গণ-অনশনে সংহতি প্রকাশ করতে এসেছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। তাকে পৌঁছে দিতে এসে মারধরের শিকার হয়ে আহত হয়েছেন জামায়াতের তিন নেতা। জানা গেছে, বিএনপির অনশনে যোগ দিতে নূরুল ইসলাম বুলবুল অনশন মঞ্চের দিকে গেলে বুলবুলকে ফুটপাতে চেয়ারে বসতে বলা হয়। এ সময় যুবদলের কয়েকজন নেতা বুলবুলের ওপর চড়াও হন। এতে জামায়াতের অন্য নেতারা আহত হন। হামলার পর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে অনশনে ছিলেন নূরুল ইসলাম বুলবুল। এ বিষয়ে বিএনপি নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, ‘মারধরের ঘটনা ঘটেনি। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।’
