চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ সমর্থিত লালখানবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু হাসনাত মো. বেলালের বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মামলাসহ নানা হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তুলেছেন লালখানবাজার ওয়ার্ডের বিভিন্ন ইউনিট আওয়ামী লীগের নেতারা।
গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়। এতে ওয়ার্ডের তিনটি ইউনিটের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লালখানবাজার ওয়ার্ডের ‘গ’ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক সমীর কান্তি দে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে দলের রাজনীতির নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বেলাল। সংগঠনকে কুক্ষিগত করতে ব্যর্থ হয়ে তিনি সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। বিভিন্নভাবে স্থানীয়দের কাছে আওয়ামী লীগের সম্মান ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্র করছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাওয়ার জন্য এলাকার মানুষ ধরনা দিলেও তিনি দেননি। বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে এই কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বেলাল কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক নির্যাতন ও মামলা-হামলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। গত এক বছরে ওয়ার্ডের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাদ দিয়ে শুধু ক্রোধের বশবর্তী হয়ে শত শত দলীয় কর্মী ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে এক ডজনের বেশি মামলা করেছেন। শিক্ষার্থী ও যুবকদের মাদকের নেশায় বুঁদ করে তাদের দিয়ে জুয়া খেলায় মত্ত করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছন এই কাউন্সিলর।
নগরীর ওয়াসা মোড় এলাকায় মুনতাসির ভবনসহ ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে মদ ও জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় সামাজিক অবক্ষয়, ছিনতাই, চুরি, রাহাজানিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে।
স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় সাধারণ জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের অব্যাহত চাপের মুখে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানান। এ সময় কাউন্সিলর বেলাল অশোভন আচরণ করেন এবং হুমকি দেন। বেলালের উপস্থিতিতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। তার কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি তলানিতে ঠেকেছে, এর লাগাম টেনে ধরা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করা হবে বলেও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ‘ক’ ইউনিটের সভাপতি শফিউল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, ‘খ’ ইউনিটের সভাপতি এস এম ইব্রাহিম ও সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেন মাসুম এবং ‘গ’ ইউনিটের সভাপতি নুরুল আলম।
