বিবিয়ানার ৩ কূপ চালু, মঙ্গলবার থেকে গ্যাস সংকট স্বাভাবিক

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২২, ০৮:৪৭ পিএম

বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ছয়টি বন্ধ করা কূপের তিনটিই সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে চালু করা হয়েছে। বাকি তিনটি আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে চালু হবে বলে গ্যাসক্ষেত্রের দায়িত্বে থাকা মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন জানিয়েছে।

গত রবিবার থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা যায়। গ্যাসের অভাবে বাসাবাড়ির চুলা পর্যন্ত বন্ধ থেকেছে। হুট করে গ্যাস সংকটের কারণ বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের  রক্ষণাবেক্ষণে শুরু করেছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন। সেখানকার ছয়টি কূপে রক্ষণাবেক্ষণ শুরু হলে গত রবিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়।

শেভরন বাংলাদেশের মুখপাত্র শেখ জাহিদুর রহমান সোমবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছয়টি কূপ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। এর মধ্যে আজ সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে তিনটি কূপ রক্ষণাবেক্ষণ শেষে চালু করা হয়েছে। বাকি তিনটা আগামীকালের মধ্যে চালু হবে।’

দৈনিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৩৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। আমদানি করা ১০০ কোটি ঘনফুট ও দেশীয় ১৮০ কোটি ঘনফুট সহ দেশে গড় সরবরাহ গ্যাসের পরিমাণ দৈনিক ২৮০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ করা হয় ১১০ কোটি ঘনফুট; সেই গ্যাসের মধ্যে ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। আর এতেই গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দুঃখপ্রকাশ

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্যাস সংকটের কারণে দুঃখপ্রকাশ করেছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা পেট্রোবাংলা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য হ্রাসকৃত হারে গ্যাস সরবরাহের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস স্বল্পতার সৃষ্টি হতে পারে। রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য পেট্রোবাংলা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।

এর আগে ‍দুই দফায় দুঃখপ্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ।

প্রথম দফায় বলা হয়, শেভরন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপের সৃষ্টি হতে পারে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীরা মেরামতের কাজ করে যাচ্ছেন।

দ্বিতীয় দফা বিবৃতিতে বলা হয়, গ্যাস সরবরাহ ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে। কোনো কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত