রমজানের দ্বিতীয় দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত আটজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জয়পুরহাটে সাহরির পর স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন এলজিইডির সাবেক এক প্রকৌশলী। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেছে এক ট্রাকচালকের, চুয়াডাঙ্গায় পৃথক দুই দুর্ঘটনায় দুই পরিবহন শ্রমিকসহ তিনজন এবং ঢাকায় আরও তিন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে সবজি বিক্রতাসহ আরও তিনজনের।
দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যুরো অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, নামাজ পড়ে বাড়িতে ফেরার পথে রাস্তা পারাপারের সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত প্রকৌশলীর নাম হালিমুর রশীদ (৬৫)। গতকাল সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় জয়পুরহাট-বগুড়া সড়কের বাস টার্মিনাল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত হালিমুর রশীদ জয়পুরহাট শহরের হাউজিং এস্টেট এলাকার তৈমুর রহমানের ছেলে। তিনি পাঁচবিবি উপজেলা এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হালিমুর রশীদ সাহরি খেয়ে ফজরের নামাজ পড়তে বাস টার্মিনাল মসজিদে যান। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পারাপারের সময় একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ প্রতিনিধি জানান, মেঘনা সেতুর ঢালে ট্রাকচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন নজরুল ইসলাম (৪০) নামে অপর এক ট্রাকচালক। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দূর্ঘটনায় আহত ট্রাকচালককে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের বাড়ি বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া থানার ছাতিয়াগাড়ি গ্রামে। তার বাবার নাম নাছির উদ্দিন।
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গায় পৃথক এলাকায় ট্রাক ও ট্রাক্টর উল্টে চালক-সহকারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ট্রাক উল্টে দুজন ও জীবননগর উপজেলায় ট্রাক্টর উল্টে একজনের মৃত্যু হয়।
সোমবার দুপুরে আলমডাঙ্গায় ভুট্টাবোঝাই ট্রাক ও ড্রাম ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকচালক আল আমিন (৩৭) ও তার সহকারী আশিক রহমান (২৭) নিহত হন। তারা দামুড়হুদা উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে এ দুর্ঘাটনা ঘটে।
এর আগে সকালে জীবননগরে মাটিভর্তি ট্রাক্টর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে হাসান আলী (১৩) নামে এর সহকারী নিহত হয়। নিহত হাসান আলী একই উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের আলী আহমেদের ছেলে।
এদিকে রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সাদমান সাকিব (৩১), আবদুল লতিফ (৪৮) ও আবদুল আলী (৬৫) নামে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার রামপুরা, গুলশান ও গুলিস্তানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এর মধ্যে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি কাভার্ড ভ্যান সাদমানকে ধাক্কা দেয়। পরে ওই কাভার্ড ভ্যান চালকই মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক সাদমানকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানান, তার বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলায়। বাবার নাম জহুরুল হক। খিলক্ষেত লেক সিটিতে থাকতেন তিনি। আফতাব নগরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। ভোরে অফিস থেকে বাসায় ফেরার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন।
গুলশানে নিহত আবদুল লতিফের বোনজামাই মানিক মিয়া জানান, তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মফিজ উদ্দিন। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গুলশান নর্দ্দা এলাকায় থাকতেন। এলাকাতে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন তিনি। ভোরবেলায় কারওয়ান বাজার থেকে কাঁচামাল কিনে পিকআপে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন নর্দ্দাতে। পথে গুলশান-২’র ৯২ নম্বর রোডের মাথায় দুর্ঘটনার শিকার হন।
গুলিস্তানে বাসের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন আবদুল আলী। গতকাল বেলা ১২টার দিকে গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের পশ্চিম পাশের রাস্তায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। চিকিৎসাধীন বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আবদুল আলীর ছেলে আকিব আলী জানান, তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায়। পরিবার নিয়ে শান্তিনগর এলাকায় থাকেন।
